২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শহিদুল আলমের গ্রেফতারে ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ তারকা কনি হক

কনি হক। ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের ঘটনায় ব্রিটিশ টেলিভিশন তারকা কনি হক বাংলাদেশকে নিয়ে তার গর্ব হারিয়ে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে এক বিক্ষোভে অংশ নেন কনি হক।

এক ভিডিও বার্তায় কনি হক বলেছেন, শহিদুল আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে যে আচরণ করা হয়েছে তাতে তিনি স্তম্ভিত।

তিনি বলেন, ‘কারও বিশ্বাসের জন্য তাকে জোর করে ধরে নিয়ে কারাগারে আটকে রাখার মতো কাজ যে বাংলাদেশ সরকার করতে পারে তার আমি ভাবিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটা বোঝা যাচ্ছে এই ভাবনা মোটেই ঠিক ছিল না। আমার দেশ, যাকে নিয়ে আমি এত গর্ব করতাম, লোকে এখন মনে করে সেদেশে এখন খুবই আপত্তিকর এক সরকার ক্ষমতায় আছে।’

কনি হক আরও বলেছেন, তিনি করেন শহিদুল হক মুক্তি পাবেন এবং ন্যায় বিচার পাবেন।

শহিদুল হকের মুক্তির ব্যাপারে কনি হক সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব। এর আগেও তিনি শহিদুল হকের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে টুইট করেছেন।

ফটোগ্রাফার শহিদুল হকের গ্রেফতার নিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার
কনি হক ব্রিটেনে খুবই সুপরিচিত এক টেলিভিশন তারকা। নব্বই এর দশকে তিনি বিবিসি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এক অনুষ্ঠান ব্লু পিটারের উপস্থাপক ছিলেন। লেবার পার্টির এমপি রূপা হক তার বোন।

শহিদুল হকের মুক্তির দাবি জানিয়ে রূপা হকও বিবৃতি দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের ওপর চাপ দেয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ৫ই আগস্ট শহিদুল হককে বাংলাদেশের পুলিশ আটক করে। তার বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে 'অসত্য এবং উস্কানিমূলক তথ্য' ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়।

বাংলাদেশে যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর-তরুণরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছিল তখন আল জাজিরা টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছিলেন শহিদুল হক। তারপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

আরো দেখুন : শহিদুল আলমকে মুক্তি দিন : টিউলিপ

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিক। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য টাইমস’–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

‘দ্য টাইমস’–এর প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির একজন আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিক। লেবার পার্টির সমর্থনে হাম্পস্টেড ও কিলবার্ন থেকে আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হন তিনি। টিউলিপ বলেছেন, শহিদুল আলমকে সরকার কর্তৃক আটকের ঘটনাটি ‘অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং এই অবস্থার দ্রুত অবসান প্রয়োজন’।


টিউলিপ আরও বলেছেন, নিজেদের নাগরিকদের বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর এই বার্তাটি তার মিত্র দেশটির কাছে পৌঁছে দেবে।’

এর আগে শহিদুল আলমের সমর্থনে নোয়াম চমস্কি, অরুন্ধতী রায়সহ খ্যাতিমান একাধিক লেখক-বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দেন। পেন ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠনও তাঁর পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। সর্বশেষ বিবৃতি দিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, ফটোসাংবাদিকতাসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহিদুল আলম অনেক বছর ধরে অসাধারণ দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে যে কাজ করে চলছেন, তা প্রশংসা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রূঢ় আচরণের বদলে তাঁর কাজের প্রশংসা করা উচিত।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ৬ আগস্ট শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগের দিন রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাঁকে তুলে নেয় ডিবি। সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত ১২ আগস্ট শহিদুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন নিম্ন আদালত।


আরো সংবাদ

মঞ্চে ড. কামাল-মির্জা ফখরুলসহ সিনিয়র রাজনীতিবিদরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে গাজীপুরে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ ক্যান্সার চিকিৎসায় কত লাগে? ‘নৌকা মার্কা চান ভালো কথা, হুমকি ধামকি বন্ধ করেন’ রাফায়েল বিমান নিয়ে ফেঁসে যাচ্ছে মোদি সরকার! সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় যুবলীগ সভাপতি আটক ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে পার্থক্য গড়েছে যে বিষয়গুলো সমালোচকদের জন্য মিসর উন্মুক্ত কারাগার সাদ্দামের পরিণতি ভোগ করতে হবে ট্রাম্পকে: রুহানি চরভদ্রাসনে একইস্থানে দু’দলের সমাবেশ ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি

সকল