২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিয়ে ভাঙছে বরিস জনসনের

মন্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক : ছেড়ে গেলেন স্ত্রী - ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানছেন ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। পর পর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী মারিনা হুইলার তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন।

মারিনার বাবা চার্লস ছিলেন ব্রিটিশ চ্যানেলের সাংবাদিক। ভারতে এসে ওই চ্যানেলের হয়ে কাজ করার সময়ে মারিনার মা দীপ সিংহের সঙ্গে আলাপ। মারিনা-বরিসের চার সন্তান। বেশ কিছু দিন আলাদা থাকার পরে এই দম্পতি যৌথভাবে জানান, কয়েক মাস আগে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তার কয়েক দিন আগেই ব্রিটিশ একটি পত্রিকায় বরিসের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে চর্চা হয়েছিল।

মারিনা মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনজীবী। বরিস নিজে ব্রেক্সিটপন্থী হিসেবে গণভোটের সময়ে মেরিনার মতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অতীতে লন্ডনে ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে গেলেই বরিস উল্লেখ করতে ভুলতেন না যে, তার পাঞ্জাবি কুটুম্ব রয়েছে। ভারতে গেলে তার জামাই আদর হয়, বলতেন তা-ও। মুম্বই গিয়ে মারিনার এক আত্মীয়ের বিয়েতে রঙিন পাগড়ি পরে ভাংড়া নেচেছিলেন। মেরিনাও ভারতীয় ঐতিহ্য মনে রেখে রাজকুমার উইলিয়াম-কেটের বিয়েতে পরেন সালোয়ার-কামিজ। পাঞ্জাবি যোগসূত্র নিয়ে বরাবরই তিনি গর্বিত।

ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে-র সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে জুলাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়েন বরিস। তার পর সরকারের সমালোচনায় নানা পত্রপত্রিকায় লিখে চলেছেন তিনি। যা দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিজেকে ব্রিটেনের বিকল্প প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরতে চান তিনি।

বরিসের ব্যক্তিগত জীবন বহু বার চর্চার বিষয় হয়েছে। ২০০৪ সালে লেখিকা পেট্রোনেলা ওয়্যাটের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে নিজেই স্বীকার করেন বরিস। ওয়্যাট অন্তঃসত্ত্বা হন ও গর্ভপাত করাতে হয়। সম্পর্ক চার বছরের। ২০০৯-এ আবার হেলেন ম্যাকিনটায়ার নামে এক শিল্প-পরামর্শদাতার সঙ্গে নাম জড়ায়। তার সন্তানের বাবাও হন। এ সবের পরে টানাপড়েন চললেও শেষমেশ বরিসকে মেনে নেন মারিনা। এ বার সব শেষ।

ব্রিটিশ ওই পত্রিকার দাবি, বরিস ফের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাঁর মেয়ে লারাকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘‘মা আর বাবার সঙ্গে থাকবেন না।’’ বিচ্ছেদে বরিসের জনপ্রিয়তা না কমলেও তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ধাক্কা খেতে পারে, মত বিশেষজ্ঞদের।

আরো পড়ুন :

ব্রেক্সিট নিয়ে চাপ বাড়ছে থেরেসার ওপর
রয়টার্স

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, সংক্ষেপে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে ক্রমেই চাপ বাড়ছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের ওপর। অন্য দিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরসহ দেশী ও বিদেশী কর্মকর্তারা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্রমেই সরব হচ্ছেন। 

গতকাল সোমবার থেরেসা মের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ব্রিটেনের জন্য একটি দুর্যোগ ছাড়া আর কিছুই নয়।
একটি চুক্তির মাধ্যমে ইইউর সাথে ব্রিটেনের ৪০ বছরের সম্পর্ক শেষ করার মাত্র দুই মাস আগে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে নিজের দলের মধ্যেই সমর্থন আদায় করতে সংগ্রাম করছেন। তিনি এই পরিকল্পনাকে ব্রিটেনের জন্য ব্যবসায় বান্ধব বলে দাবি করলেও কার্যত গোটা দেশ এ বিষয়ে দুইভাগ হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিতে বরিস জনসনকে বিবেচনা করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত জুলাই মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। গত সোমবার ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে জনসন বলেন, ‘থেরেসা মের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইইউ ত্যাগ করলে ব্রেক্সিটের বেশির ভাগ সুবিধা থেকে ব্রিটেন বঞ্চিত হবে। পূর্বের চেকার্স পরিকল্পনার মতো মানুষ এখানেও দুর্যোগ দেখতে পাচ্ছে।’

নিবন্ধে তিনি বলেন, ইইউর সাথে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যেই মূলত থেরেসার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আর এর অর্থ হলো, নিজের ওপর থেকে ব্রিটেন নিয়ন্ত্রণ হারাবে এবং অন্য দেশের সাথে বৃহৎ কোনো বাণিজ্য চুক্তি করার সময় ব্রিটেন দুর্বল অবস্থানে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইইউ ট্যাক্সি চালু রাখব কিন্তু বর্তমানে চূড়ান্তপর্যায়ে এসে আটকে গেছি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, ব্রেক্সিটের পর আমাদের গন্তব্য সম্পর্কে তার পরিকল্পনায় কিছুই বলা নেই।’

এর আগে গত রোববার দ্য সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় থেরেসা বলেন, ইইউর সাথে আলোচনায় তার ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় দেশের স্বার্থ সুরক্ষা হয় না এমন কোনো বিষয়ে তাকে চাপ দিয়েও আপস করানো যাবে না। তা ছাড়া, ব্রেক্সিট নিয়ে দ্বিতীয় কোনো গণভোটও করবেন না বলে জানান তিনি।
তবে ইইউ থেরেসার ব্রেক্সিট পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে, যেখানে উভয়পক্ষের বাণিজ্য স্বার্থ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যদিও উভয়পক্ষের বাণিজ্য স্বার্থ সংরক্ষণ করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন হবে।
দ্য সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে থেরেসা বলেন, ‘চেকারস প্রস্তাবে আমাদের দেশের স্বার্থ সুরক্ষা হবে না এমন বিষয়ে আমি আপস করব না। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে আমার পরিষ্কার ধারণা আছে।’


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme