১৭ নভেম্বর ২০১৮

পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না ব্রিটেনের ৪০ লাখ শিশু

পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না ব্রিটেনের ৪০ লাখ শিশু - সংগৃহীত

পুষ্টি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে ব্রিটেনের প্রায় ৪০ লাখ শিশুর পরিবার। এসব শিশুর জন্য যে পরিমাণ ফল, শাক-সবজি, মাছ ও অন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য দরকার তা যথেষ্ট পরিমাণে কিনতে পারছে না নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।

নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কল্যাণ ভাতা বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম সাধ্যের নাগালে রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফুড ফাউন্ডেশন। মাতৃত্বকালীন খাদ্য ভাতা ও স্কুলে বিনামূল্যে খাবার প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য দফতরের তৈরি করা ইটওয়েল নির্দেশিকায় জনগণকে খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে ৫ ধরনের খাবারের সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ফল ও শাক-সবজি, আলু ও পাস্তার মতো কার্বোহাইড্রেট, ডিম ও মাংসের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার, দুধ এবং তেল।

সরকারের পুষ্টি নির্দেশিকা অনুযায়ী খাবারের চাহিদা মেটাতে গেলে পরিবারগুলোকে তাদের সাপ্তাহিক আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি ব্যয় করতে হয়। সেইসাথে পরিবারের অন্যান্য খরচ আছে।

 

আফ্রিকার ১০ লাখ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

আফ্রিকার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ শিশু ‘মারাত্মক পুষ্টিহীনতায়’ ভুগছে। অঞ্চলটিতে দুই বছর ধরে চলা খরা ও ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর কারণে চরম খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। আজ বুধবার ইউনিসেফ একথা জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিশু বিষয়ক সংস্থাটি জানায়, ওই অঞ্চলের শিশুরা মারাত্মক খাবার ও পানির সঙ্কটে রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতিকে আরো সঙ্কটময় করে তুলছে।

ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক লিলা গারাগোজলু-পাক্কালা বলেন, ‘এল নিনো আবহাওয়ার প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যারা ইতোমধ্যেই দিন আনে দিন খায় তাদের ওপর আগামী কয়েক বছর এর প্রভাব থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার তার সীমিত সামর্থ নিয়েই এই সঙ্কট মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এটি নজিরবিহীন পরিস্থিতি। এ মুহূর্তে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তার ওপরেই শিশুদের বেঁচে থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে।’

ইউনিসেফ ইথিওপিয়ার জন্য আট কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, অ্যাঙ্গোলার জন্য দুই কোটি ৬০ লাখ ও সোমালিয়ার জন্য এক কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

৩৩ ভাগ শিশু আন্ডার ওয়েটে ভুগছে

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অনেক সফলতা আছে। পুষ্টি খাতেও, তবে পিছিয়ে আছে পুষ্টি খাত। এ খাতের উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। এখনো বিপুল শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। জাতীয় প্রেস কাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মাদার-ফ্রেন্ডলি আরবান ওয়ার্কপেস মডেল টু সাপোর্ট ওয়ার্কিং মাদার ইন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট ইনফ্যান্ট অ্যান্ড ইয়ং চাইল্ড ফিডিং’ শীর্ষক প্রজেক্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন। 

 বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: হেদায়েতউল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের সেবা দেয়া রাষ্ট্রযন্ত্রের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়েছি। তবে এখনো সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে।

স্বাস্থ্যসচিব বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অনেক সফলতা আছে। পুষ্টি খাতেও অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ খাতে আরো বেশি ভালো করা দরকার। পুষ্টি খাতের অগ্রগতি নট এনাফ (যথেষ্ট নয়)। তিনি বলেন, পৃথিবীর কম দেশেই মাতৃত্বকালীন ছয় মাস ছুটি দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বেতন কাঠামো দিয়েই ছুটি দেয়া হয়। এটা একটি বড় অর্জন। সরকার প্রতিটি সংস্থায় ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতিও হয়েছে। 

শ্রমসচিব বলেন, সরকার ২০১৩ সালে শ্রমআইন সংশোধন করেছে। শ্রমিকের নিরাপত্তা, অধিকার সমুন্নত রেখে শ্রম আইন করা হয়েছে। শ্রম আইনে প্রতিটি সেক্টরে ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দেয়া আছে। এ মুহূর্তে সরকারি-বেসরকারি মিলে তিন হাজার ৬০০টি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনো ডে-কেয়ার সেন্টার নেই, সেখানেও করতে বলা হয়েছে। 

এম এম রেজা বলেন, দেশের ৩৩ ভাগ শিশু আন্ডার ওয়েটে (কম ওজন) ভুগছে। এ ছাড়া ৩৬ ভাগ শিশু আছে, যাদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। এই ৩৩ ভাগ শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে আন্ডার ওয়েটে রেখে কিভাবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া যাবে! তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। অথচ এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাই, শুধু শহর বা বিত্তবানদের কথা না ভেবে সব শিশুর কথা চিন্তা করেই পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।


আরো সংবাদ