২০ নভেম্বর ২০১৮

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নবায়নের সিদ্ধান্ত

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নবায়নের সিদ্ধান্ত - সংগৃহীত

২৮ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরো ছয় মাসের জন্য নবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইইউ’র স্থায়ী প্রতিনিধিরা সোমবার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করবেন এবং এরপর ইউরোপীয় কাউন্সিল সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করবে।

২০১৪ সালের গোড়ার দিকে ইউক্রেনের তৎকালীন প্রজাতন্ত্র ক্রিমিয়ায় সহিংসতার জের ধরে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে দেশটির জনগণ রাশিয়ার সাথে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্তের জের ধরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ডিক্রি জারি করে ক্রিমিয়াকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভূক্ত করেন।

মস্কোর ওই সিদ্ধান্তের জের ধরে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন  রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইইউ’র নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

রাশিয়া শুরু থেকেই এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ইইউ’র বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। মস্কো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে পাশ্চাত্যকে সতর্ক করে দিয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বরদাশত করবে না রাশিয়া

১১ আগস্ট ২০১৮

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আরোপিত যেকোনো নিষেধাজ্ঞা মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল এবং রাশিয়া এ ব্যাপারে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

আমেরিকার পক্ষ থেকে বুধবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর রুশ প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দিলেন। আমেরিকায় তৎপর রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কার্যক্রমের ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এর ফলে এসব ব্যাংক কর্তৃক ডলার ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপত্যকা সফরে গিয়ে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানান। মেদভেদেভ বলেন, রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে মস্কোর বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলে ধরে নেয়া হবে।  রুশ প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে এমনিক প্রয়োজনে অন্য কোনো উপায়ে জবাব দেবে মস্কো। মার্কিন কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি উপলব্ধি করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্রিটেনে সাবেক রুশ দ্বৈত গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর রাসায়নিক গ্যাস হামলার জের ধরে বুধবার রুশ ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা। ব্রিটিশ সরকার ওই রাসায়নিক হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করলেও মস্কো এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।


আরো সংবাদ