২০ নভেম্বর ২০১৮

হিজাবে বাধা দেয়ায় ডিগ্রি নিতে অস্বীকৃতি

বেতুল বাসলিক - ছবি : সংগ্রহ

বেলজিয়ামে হিজাব পরতে বাধা দেয়া ইন্টার্নশীপ কোর্স করতেই অস্বীকার করেছেন এক মুসলিম ছাত্রী। বেতুল বাসলিক নামের ওই ছাত্রী দেশটির ভিরিজে ইউনিভার্সিটির সামাজিক সেবা ও শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স কোর্সের তত্ত্বীয় অংশ সম্পন্ন করেছেন সম্প্রতি; কিন্তু কোর্স পরবর্তী ইন্টার্নশীপ করতে একটি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর সেখানে তার হিজাব নিয়ে আপত্তি করা হয়। প্রতিবাদে ইন্টার্নশীপ না করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তুর্কি বংশোদ্ভূত হলেও বেতুলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বেলজিয়ামে। আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে বলেন, সফলতার সাথে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেছি। শিক্ষকরাও দারুণ প্রশংসা করেছেন আমার অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্সের।

বেতুল জানান, সামাজিক সেবার ওপর বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের জন্য লিমবুর্গ প্রদেশের লিওপোল্ডর্সবার্গ শহরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে আবেদন করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে তার ইন্টারভিউও ভালো হয়েছে। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে এক নারী কর্মকর্তা তাকে বলেন, বেতুলকে কাজের সুযোগ দেয়ার আগে তিনি অবশ্যই পৌরসভার কর্তৃপক্ষকে ডাকবেন যে তার হিজাব পরে কাজ করার অনুমতি আছে কী না।

বেতুল বলেন, ‘এরপর পৌরসভার কর্মকর্তারা এসে বলেন, হিজাব পরলে আমাকে নিয়োগ করা হবে না। যদি হিজাব ছাড়তে পারি, তবে আমাকে নেয়া হবে। আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমার ধর্ম বিশ্বাস কিছুতেই ত্যাগ করতে পারবো না। তাই হিজাবও ছাড়তে পারবো না। যে কারণে আমাকে আর নিয়োগ দেয়নি তারা।

বেতুল বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ পাওয়ার জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার, সবাই তার ছিলো। তিনি ভেবেছেন নিয়োগ পেতে এসবই যথেষ্ট হবে। এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি আর দশজন সাধারণ নাগরিকের মতোই সমান অধিকার চেয়েছি। অন্য বেলজিয়ানদের তারা যে অধিকার(পোশাকের স্বাধীনতা) দেয় আমাকে তা দেয়নি। আমি ও আমার মতো যারা, তাদেরকে তারা নেবে না।’ 

ক্ষুব্ধ বেতুল আরো বলেন, ‘কোন ইউরোপীয় দেশ যদি স্বাধীনতার বিষয়ে কথা বলে, তাদের সব নাগরিককে সমান অধিকার দিতে হবে’।

এর আগে আয়ারল্যান্ড থকে ভাষার ওপর ডিগ্রি নিয়েছেন বেতুল। ডেনমার্কেও কিছুদিন পড়াশুনা করেছেন। ইন্টার্নিশীপ করেছেন  মালয়েশিয়ায়। ডাচ, ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ ও তুর্কি ভাষা জানেন এই বেলজিয়ান মুসলিম তরুণী।

আরো পড়ুন :  তুরস্কে কম খরচে বেড়ানোর সময় এখনই
বিবিসি
ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দরপতনে এবার রেকর্ড হয়েছে। এই দরপতন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের মাথাব্যথার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতে দেশটির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম প্রতিনিয়ত বাড়লেও, লিরার দরপতনের সবচেয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেখানকার পর্যটন শিল্পে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের হোটেলগুলোতে পর্যটকের সংখ্যাও বেড়েছে।

শুক্রবার এক ডলার দিয়ে ছয় লিরা কেনা গেছে। অথচ জানুয়ারি মাসেও এক ডলার দিয়ে চার লিরা কেনা যেতো।

জানুয়ারি মাসের পর থেকেই তুরস্কের মুদ্রার ক্রমাগত দরপতন হতে থাকে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে লিরা ৩৪ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। তুরস্কের মুদ্রার দরপতনের বেশ কিছু কারণ আছে। এ কারণে দেশটির অর্থনীতি নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান মনে করেন এ 'অর্থনৈতিক যুদ্ধে' তারা জয়ী হবেন।

তিনি সুদের হার কম রেখে অর্থনীতি সম্প্রসারণের পক্ষে। অন্যদিকে অনেকে মনে করেন সুদের হার বাড়ানো উচিত। কিন্তু এরদোগান সুদের হার বাড়ানোর ঘোরতর বিরোধী। ফলে আশঙ্কা রয়েছে যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের বর্তমানে যে টানাপড়েন চলছে সেটির সমাধান হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভ্রমণ আয়োজনকারী সংস্থা টমাস কুক বলছে তুরস্কে ঘুরতে যা্ওয়া এটিই আসল সময়। কোম্পানিটি বলছে, চলতি বছর ব্রিটেন থেকে তুরস্কের ভ্রমণের হার ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

এক ডলার খরচ করে আগে যতটা তুরস্কের মুদ্রা পাওয়া যেতো এখন তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া যাবে। ফলে পর্যটকদের খরচ কমে আসবে।

২০১৬ সালে তুরস্কে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির পর্যটন শিল্পে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল সেটি এবার কেটে গেছে। ব্রিটেনের আরেকটি ভ্রমণ আয়োজনকারী কোম্পানি টিইউআই বলেছে বর্তমানে তুরস্ক, পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গ্রীষ্মকালে ব্রিটেনের মানুষ যেসব জায়গায় ঘুরতে যেতে পছন্দ করে, তার মধ্যে তুরস্কের অবস্থান উপরের দিকে আছে।

কিন্তু ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তুরস্কে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কয়েকটি জায়গায় না যাওয়ায় পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ তালিকায় তুরস্ক তিন নম্বর ক্যাটাগরিতে রয়েছে। সে অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের পুনরায় বিবেচনা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ