২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বরদাশত করবে না রাশিয়া

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বরদাশত করবে না রাশিয়া - সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আরোপিত যেকোনো নিষেধাজ্ঞা মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল এবং রাশিয়া এ ব্যাপারে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

আমেরিকার পক্ষ থেকে বুধবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর রুশ প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দিলেন। আমেরিকায় তৎপর রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কার্যক্রমের ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এর ফলে এসব ব্যাংক কর্তৃক ডলার ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপত্যকা সফরে গিয়ে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানান। মেদভেদেভ বলেন, রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে মস্কোর বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলে ধরে নেয়া হবে।  রুশ প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে এমনিক প্রয়োজনে অন্য কোনো উপায়ে জবাব দেবে মস্কো। মার্কিন কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি উপলব্ধি করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্রিটেনে সাবেক রুশ দ্বৈত গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর রাসায়নিক গ্যাস হামলার জের ধরে বুধবার রুশ ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা। ব্রিটিশ সরকার ওই রাসায়নিক হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করলেও মস্কো এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চান শি-পুতিন
এএফপি, ১০ জুন ২০১৮

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের চলমান সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া দুই বৃহৎ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের এ সাক্ষাৎ বিশ্ব-রাজনীতিতে নতুন বাঁকের সূচনা করতে পারে। 

দ্য গ্রেট হলে দুই নেতার সাক্ষাতের আগে রুশ নেতাকে গার্ড অব অনার ও শিশুদের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বরণ করে নেয়া হয়। সাক্ষাতে পুতিনকে শি বলেন, আন্তর্জাতিক অবস্থার যত পরিবর্তনই হোক না কেন, চীন ও রাশিয়া সব সময়ই পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। এ ছাড়া দু’টি দেশ সব সময়ই পরস্পরের মূল আগ্রহগুলোকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে, বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং ‘অভিন্ন উদ্দেশ্যে একটি সম্প্রদায়’ গঠনের জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে।

চীন ও রাশিয়ায় গত কয়েক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই নেতা শি ও পুতিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, দেশ দু’টি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নীতিকে আঘাত করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। পুতিন জানান, দুই নেতার মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক মৈত্রীর, প্রতিবেশীসুলভ এবং তারা কৌশলগত অংশীদারিত্বের চেতনায় সম্পর্কোন্নয়ন করছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দুই নেতাই একই ধরনের নেতৃত্বশৈলী অনুসরণ করেন। কার্নেগি মস্কো সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আলেক্সান্ডার গাবুয়েভ বলেন, শি ও পুতিন আত্মার বন্ধু, যারা তাদের নিজ নিজ দেশকে আবার মহান করতে চান। দু’জনই মার্কিন আধিপত্যবাদের প্রতি অবিশ্বাসী, দু’জনই মার্কিন মনোভাবগুলোকে সন্দেহ করেন এবং দু’জনই কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তিত্বের শাসক। মার্চে পুতিন চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন। একই মাসে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি শিকে আজীবন ক্ষমতায় রাখতে যে আইনি বাধা ছিল তা তুলে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানোর জন্য বর্তমানে চীন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অপর দিকে সিরিয়া ও ইউক্রেনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সাথে মস্কোর গভীর মতানৈক্য চলছে।


আরো সংবাদ