২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে উত্তাল ডেনমার্ক

বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে উত্তাল ডেনমার্ক - ছবি : সংগৃহীত

ডেনমার্কে বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রকাশ্যে বোরকাসহ মুখ ঢাকা যায় এমন যেকোনো ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ করে গত মে মাসের শেষের দিকে আইন পাস করা হলেও গতকাল থেকে তা কার্যকর হয়।
ডেনমার্কের ক্ষমতাসীন উদারপন্থী দল ভেনস্ত্রের নেতা মার্কাস নুথ বলেন, মুসলিম নারীদের এই পোশাকটি (বোরকা) পরিধান করা ‘খুবই অন্যায় কাজ’। দেশটিতে বিতর্কিত এই আইনের বিরোধিতা করছে ‘পার্টি রিবেলস’ নামে একটি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ। এই গ্রুপেরই একজন সক্রিয় কর্মী সাশা অ্যান্ডারসন একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক আইন চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভের ডাক দেন। অবশ্য এই আইনের সমর্থনেও বেশ কয়েকটি গ্রুপ সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছে।

২১ বছর বয়সী সাবিনার লক্ষ্য একজন ভালো শিক্ষক হওয়া। এ লক্ষ্যেই তিনি এখন পড়াশোনা করছেন। আরো অনেক মেয়ের সাথে তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। নারীদের নিজস্ব পদ্ধতিতেই তাদের পরিচিতি প্রকাশ করতে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বর্তমানে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন তিনি। 

উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষের দিকে পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করে মধ্য-ডানপন্থী জোট সরকার। ৭৫-৩০ ভোটে বিলটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়। আর ভোটদানে বিরত ছিলেন ৭৪ জন। সরকার অবশ্য দাবি করেছে বিশেষ কোনো ধর্মের প্রতি বিদ্বেষপ্রসুত হয়ে এই আইন পাস করা হয়নি। গতকাল এক আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া আইনটি কেউ অমান্য করলে প্রথম দফায় ১ হাজার ডেনিশ ক্রোনার এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ হাজার ক্রোনার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন :

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা আসামে খসড়া নাগরিক তালিকার ভিত্তিতে কোনো পদপে নয়
আনন্দবাজার ও এনডিটিভি

আসামের নাগরিক তালিকা একটি খসড়া মাত্র। তাই এর ভিত্তিতে কোনো পদপে নেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে যেসব দাবিদাওয়া এবং আপত্তি-অসন্তোষ রয়েছে, তা মেটাতে হবে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে। সংশ্লিষ্ট দাবি ও পাল্টা দাবিগুলো কোন পদ্ধতিতে মেটানো হবে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে তা শীর্ষ আদালতকে অবহিত করতে হবে। মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এমনটাই নির্দেশনা দিয়েছে। বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও বিচারপতি আর এফ নরিম্যান এ নির্দেশ জারি করেন। আদালত বলেছে, মানুষের মধ্যে যাতে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আসামের খসড়া নাগরিকপঞ্জি আগামী ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। যাদের নাম বাদ গেছে তারা তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করানোর সুযোগ পাবেন। এর সময়সীমা হবে ৩০ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। যাদের আপত্তি, অসন্তোষ রয়েছে তারাও এই সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

আসামের এই নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর এখন অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। তবে বিরোধীরা বলছেন, এক বছরের মধ্যে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। আর সে কথা মাথায় রেখেই ভোটের জন্য ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’র তকমা লাগানো হয়েছে বেছে বেছে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের গায়ে। মুসলিমদের নামই বেশি বাদ পড়েছে নাগরিকপঞ্জিতে। আসামের এই তালিকা ধরে যদি ৪০ লাখ মানুষকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়, তাহলে এটা হবে বিশ্ব ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় উৎখাতের ঘটনা।

এই তালিকার সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ভারতকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিজেপি। খ্রিষ্টান, মুসলিম, দলিত হলেই আলাদা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের এই আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গে এসব হতে দেয়া হবে না।

এ দিকে মমতার এমন অবস্থানের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলিপ ঘোষ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রাজ্যে তার দল মতায় এলে পশ্চিমবঙ্গেও একই রকম পদপে নেয়া হবে। অন্য দিকে আসামের নাগরিকপঞ্জি কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খন্ড সরকারও আসামের রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ইতোমধ্যেই দুই রাজ্যের প্রতিনিধিরা বিষয়টি বুঝতে আসামে হাজির হয়েছেন। 

মমতার বিরুদ্ধে মামলা
এ দিকে আসাম রাজ্যের খসড়া নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে ৪০ লাখ মানুষ বাদ পড়ার ঘটনায় ‘গৃহযুদ্ধ ও রক্তগঙ্গা’ বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই আসামে মতাসীন বিজেপি দলীয় তিন কর্মী মমতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘ঘৃণা ও উত্তেজনা’ ছড়াচ্ছেন বলে পুলিশের কাছে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করেছেন বিজেপির ডির্বুগর যুব শাখার তিন কর্মী।


আরো সংবাদ