২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ন্যাটোকে  হুঁশিয়ারি পুতিনের

ন্যাটোকে  হুঁশিয়ারি পুতিনের - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ার বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো যদি ইউক্রেন ও জর্জিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চায় তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না। বৃহস্পতিবার মস্কোয় একদল রুশ কূটনীতিকের সাথে বৈঠকে পুতিন এ সতর্কতা উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তে ন্যাটোর পক্ষ থেকে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন গ্রহণযোগ্য নয়। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে এবং আমরা এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেব।’ পুতিন আরো বলেন, যারা পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করার জন্য ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে ন্যাটো জোটে নিতে চান তাদের উচিত এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন নীতির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে চিন্তুাভাবনা করা। সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে মস্কোর এ প্রতিবাদের কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পুতিন। 

দক্ষিণ ওশেটিয়া অঞ্চল নিয়ে বিরোধের জের ধরে জর্জিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে ২০০৮ সালে যুদ্ধ হয়। জর্জিয়ার আরেকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল আবখাজিয়াকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার লক্ষ্যে রাশিয়া সেখানে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিত এক গণভোটের জের ধরে এটিকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত করার পর পাশ্চাত্যের সাথে রাশিয়ার সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়।

পুতিনের উন্নত অস্ত্রের প্রদর্শন
রাশিয়া গত বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও সিরিজ প্রচার করেছে, যাতে দেশটির নতুন প্রজন্মের পরমাণু ও প্রচলিত অস্ত্রের পরীক্ষা এবং অপারেশন দেখানো হয়েছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা পরিত্যাগ করা নিয়ে হেলসিংকিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বৈঠকের কয়েক দিন পরই এ ভিডিও সিরিজ প্রচার করা হলো। গত মার্চে বছরের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক বক্তৃতায় পুতিন তার পরমাণু অস্ত্রের বহরের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ অস্ত্রগুলো বিশ্বের প্রায় সব লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম। সেই সাথে এগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। 

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে গত সোমবার ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভøাদিমির পুতিন। সে সময় তারা অস্ত্র প্রতিযোগিতা পরিত্যাগ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। পুতিন সে সময় বিশেষভাবে কৌশলগত অস্ত্র হ্রাসকরণ চুক্তির নতুন আলোচনা শুরুর ব্যাপারে কাজ আরম্ভ করার আশু প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হলিউডি স্টাইলে নতুন অনেক পরমাণু অস্ত্রের ফুটেজ প্রদর্শন করে। পুতিন গত মার্চে টেস্ট বা অপারেশনে যুক্ত থাকাবস্থায় এ অস্ত্রগুলোই উন্মুক্ত করেছিলেন। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, একটি রাশিয়ান মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান নতুন কিনজাল হাইপারসনিক মিসাইল নিয়ে উড্ডয়ন করে এবং আকাশে থাকাবস্থায় তা নিক্ষেপ করে। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এটি ছিল নতুন পরমাণু শক্তিসম্পন্ন বুরেভেস্তনিক বা স্ট্রম পেটরেল ক্রুজ মিসাইলবাহী ফ্ল¬াইটের পরীক্ষার পূর্ব-প্রস্তুতি। প্রথম ফুটেজে একটি অ্যাভেনগার্ড হাইপারসনিক মিসাইলের নিক্ষেপের চলমান ভিডিও প্রকাশ করা হয়। মস্কো এ ব্যাপারে গর্বের সাথে জানিয়েছে, এটি গ্লাইডার পদ্ধতিতে পরিচালিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র। এ ফুটেজে আন্তঃমহাদেশীয় সম্রাট ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভিডিও-ও প্রকাশ করা হয়।

আরো পড়ুন :

সব চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
এএফপি

চীন থেকে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে ইচ্ছুক তিনি। 
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিএনবিসি টিভি চ্যানেলকে ওই সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। শুক্রবার তা টিভিতে প্রচার করা হয়। এতে তিনি বলেন, আমি ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপরই শুল্ক আরোপ করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে ৫০৫.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে। ট্রাম্প ৫০০ বলতে চীন থেকে আমদানিকৃত সব পণ্যের কথা বুঝিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি রাজনীতির খাতিরে এটা করছি না। বরং আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য এটা করছি। দীর্ঘ দিন ধরেই আমরা চীনের প্রতারণার শিকার হচ্ছি। 

এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে চীন থেকে আমদানিকৃত তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে চীনও আমদানিকৃত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব-অর্থনীতির ইতিহাসে সব চেয়ে বড় বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে চলেছে। চীন এর যথাযথ প্রতিশোধ নেবে।

সিএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো বলেন, বাণিজ্যনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে। চীনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের আতঙ্কিত করতে চাই না। আমি চাই, তারা আরো ভালো করুক। প্রেসিডেন্ট শি’কে আমি আসলেই অনেক পছন্দ করি; কিন্তু বিষয়টা খুবই অন্যায়।


আরো সংবাদ