১৪ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্বকাপ কূটনীতিতে পুতিনই চ্যাম্পিয়ন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন - সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দারুণভাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়ার আগে থেকেই চমৎকার খেলে যাচ্ছেন পুতিন। সবদিক দিয়ে চ্যাম্পিয়নের তালিকায় রয়েছে পুতিনের নাম।

রাশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের কাছে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ২.৫ মিলিয়ন টিকেট বিক্রয় করা হয়েছে। যা দেশটির প্রতি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে। এর ফলে রাশিয়া ভ্রমনকারীদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে বহু গুণ।

এছাড়া রাশিয়ান ফুটবল টিমও এবারের বিশ্বকাপে বেশ ভালো খেলছে। যদিও তারা পয়েন্ট তালিকায় অন্যান্য দলের হিসেবে তলানিতেই ছিল।তবুও তারা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলছে।

বিশ্বকাপের আয়োজন করে পুতিন নিজের ভূরাজনৈতিক প্রজ্ঞার বেশ ভাল পরিচয় দিয়েছেন। গত বুধবারে রাশিয়ার মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন পুতিনের প্রশংসা করেন। পুতিনের কাছ থেকে কিভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো গুরুতর বিষয়টি নিজেদের দেশে নিয়েছেন সেটি শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এটা শুধুমাত্র কূটনীতি নয় বরং তার চেয়েও বেশি কিছু। অন্য দৃষ্টিতে দেখলে, বিশ্বকাপের আয়োজনটি পুতিনের সোচি শীতকালীন অলিম্পিকের সময়কালীন ঘটনার বিষয়গুলো চাপা দিয়ে ফেলেছে। ২০১৪ সালে সোচি শীতকালীন অলিম্পিক সমাপনী অনুষ্ঠানের পরবর্তী সময়ে রাশিয়ান সরকার ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল করে। যা সমগ্র বিশ্বকে একটি সমস্যায় ফেলে দেয়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয়। এছাড়াও ঐ সময় একটি মালয়েশিয়ান বিমান ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া, সিরিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন কারণে রাশিয়ার সাথে সমস্যা আরো গভীর হয়।

কিন্তু এসব সমস্যার কোনটাই রাশিয়াকে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন থেকে পিছিয়ে রাখতে পারেনি। সমগ্র রাশিয়া জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। রাশিয়ার রাজপথগুলো এখন শুধুই ফুটবলময়। এগুলো শুধুমাত্রই পুতিনের বিজয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ খেলায় প্রকৃতপক্ষে পুতিনই জয়ী।

রাশিয়ার শহরগুলো এখন ফুটবলের ছোয়ায় বিমোহিত। দেশটির কোথাও কোন ধরণের সহিংসতা নেই সন্ত্রাসবাদ নেই। দেশজুড়ে শুধুই ফুটবলের আমেজ। পুতিন ১৫ তারিখের বিশ্বকাপ ফাইনালে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন। এই ফাইনাল খেলায় অন্যরকম একটি কূটনৈতিক খেলা খেলবেন পুতিন। তা হলো ফাইনাল খেলা দেখার জন্য তিনি ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাহমুদ আব্বাস উপস্থিত হবেন বলে জানালেও নেতানিয়াহু এখনো পর্যন্ত কিছুই জানাননি।

এটাও বলা কষ্টকর যে পুতিন, নেতানিয়াহু, আব্বাস- এই তিনজনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কিনা। যদি বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে এমনভাবে তিন নেতার বৈঠকের আয়োজন করা যায় তাহলে ক্ষতি কী! বিশ্বকাপ ফুটবল রাশিয়ার সামানে এসব সুযোগ এনে দিয়েছে। ফাইনাল পুরস্কার প্রদানের পর দিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাত করবেন। এখানেও কূটনৈতিকভাবে পুতিনকেই জয়ী ভাবছে বিশ্লেষকরা।


আরো সংবাদ