১৭ আগস্ট ২০১৮

বাধা দিলেই বাধবে লড়াই, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

বাধা দিলেই বাধবে লড়াই, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার - সংগৃহীত

রাশিয়া যুক্রতরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, মস্কোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘ক্ষতিকর সাইবার তৎপরতা’র অভিযোগ এনে দেশটির বিরুদ্ধে আমেরিকা নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেবে বলে যখন খবর বেরিয়েছে তখন একথা বলল মস্কো।

রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটনকে মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেয়া হবে না। বার্তা সংস্থা রিয়া নোভোস্তিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে মস্কো বসে থাকবে না; পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাশিয়া তৈরি রয়েছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার রাশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে জড়িত এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে।

আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে চীন-রাশিয়া : অভিন্ন টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র
এএফপি

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের চলমান সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া দুই বৃহৎ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের এ সাক্ষাৎ বিশ্ব-রাজনীতিতে নতুন বাঁকের সূচনা করতে পারে। 

দ্য গ্রেট হলে দুই নেতার সাক্ষাতের আগে রুশ নেতাকে গার্ড অব অনার ও শিশুদের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বরণ করে নেয়া হয়। সাক্ষাতে পুতিনকে শি বলেন, আন্তর্জাতিক অবস্থার যত পরিবর্তনই হোক না কেন, চীন ও রাশিয়া সব সময়ই পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। এ ছাড়া দু’টি দেশ সব সময়ই পরস্পরের মূল আগ্রহগুলোকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে, বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং ‘অভিন্ন উদ্দেশ্যে একটি সম্প্রদায়’ গঠনের জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে।

চীন ও রাশিয়ায় গত কয়েক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই নেতা শি ও পুতিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, দেশ দু’টি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নীতিকে আঘাত করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। পুতিন জানান, দুই নেতার মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক মৈত্রীর, প্রতিবেশীসুলভ এবং তারা কৌশলগত অংশীদারিত্বের চেতনায় সম্পর্কোন্নয়ন করছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দুই নেতাই একই ধরনের নেতৃত্বশৈলী অনুসরণ করেন। কার্নেগি মস্কো সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আলেক্সান্ডার গাবুয়েভ বলেন, শি ও পুতিন আত্মার বন্ধু, যারা তাদের নিজ নিজ দেশকে আবার মহান করতে চান। দু’জনই মার্কিন আধিপত্যবাদের প্রতি অবিশ্বাসী, দু’জনই মার্কিন মনোভাবগুলোকে সন্দেহ করেন এবং দু’জনই কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তিত্বের শাসক। মার্চে পুতিন চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন। একই মাসে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি শিকে আজীবন ক্ষমতায় রাখতে যে আইনি বাধা ছিল তা তুলে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানোর জন্য বর্তমানে চীন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অপর দিকে সিরিয়া ও ইউক্রেনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সাথে মস্কোর গভীর মতানৈক্য চলছে।


আরো সংবাদ