২৩ জুন ২০১৮

নিজ হাতে পার্লামেন্টের মেঝে পরিষ্কার করলেন প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও)

মার্ক রুট
মেঝে পরিস্কার করছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট - সংগৃহীত

তার সেবায় নিয়োজিত সব হাউজস্টাফ। কিন্তু তাদের অপেক্ষা না করে নিজেই কফি পড়ে নোংরা হয়ে যাওয়া পার্লামেন্টের মেঝে মুছে ঝকঝকে করলেন নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট। তাকে এই কাজ করতে দেখে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন হাউজস্টাফেরা। বিস্মিত হলেন উপস্থিত অন্য ব্যক্তিরা। মঙ্গলবারের এই ঘটনার ভিডিও এখন ভাইরাল। এই ব্যতিক্রমী ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভেসেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

ওই দিন নেদারল্যান্ডের পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট। এক হাতে জরুরি কাগজপত্রের ফাইল এবং অন্য হাতে কফি। দুই হাতে জিনিস নিয়ে ঢোকার সময়ই সিকিউরিটি গেটের কাছে অসাবধানতাবশত কফি কাপটা নিচে পড়ে যায়। তার পাশে থাকা এক ব্যক্তি সাথে সাথেই হাউজস্টাফকে খবর দেন জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য। কিন্তু তাদের আসার অপেক্ষা করেননি প্রধানমন্ত্রী।

ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক হাসিমুখে নিজেই ফ্লোর ওয়াইপার নিয়ে মেঝে পরিষ্কার করতে শুরু করেন। তার এই কীর্তি দেখে প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান হাউজস্টাফ এবং অন্যরা। পুরোটা মেঝে ভালোভাবে পরিস্কার করার পর পাশের ডেস্কে লাগা কফির ছিটেফোটাও মুছে দেন তিনি। তাকে হাসিমুখে কাজটি করতে দেখে পাশে দাড়িয়ে থাকা হাউজস্টাফরা হাততালি দিতে থাকেন।

তবে এটিই প্রথম নয়। এর আগেও এমন কাজ করেছেন তিনি, যা সাধারণত কোনো প্রধানমন্ত্রী করেন না। গত বছর একটি মিটিংয়ে যোগদান করার জন্য তিনি দামি গাড়ির বদলে সাইকেল বেছে নিয়েছিলেন। সাইকেল চালিয়ে তিনি ওই মিটিংয়ে গিয়েছিলেন। যদিও নেদারল্যান্ডসে সাইকেল অন্যতম পরিবহনের মাধ্যম।

ভিডিওতে দেখুন-

 

 

আরো পড়ুন : ধর্ষণ প্রতিরোধে কোডিং ক্লাস

নরওয়ের জনসংখ্যা পাঁচ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ। তাদের মধ্যে চার লাখ এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসীরা। নরওয়ের মতো একটি উদার পশ্চিমা সমাজে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করা তাদের অনেকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

ফলে তাদের সার্বিক সহায়তার জন্য নরওয়েজিয়ানদের উদ্যোগে সেখানে বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে অনেক বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, যাকে বলা হচ্ছে কালচারাল কোডিং ক্লাস।

এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে থেকে আসা চার লাখের বেশি অভিবাসীকে জায়গা দিয়েছে নরওয়ে। তাদের পূর্ণাঙ্গভাবে সহায়তার জন্য এই কালচারাল কোডিং ক্লাস করানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মার্গারেট বার্গ । তিনি বলেন, ''এই কোর্সে গুরুত্ব দেয়া হয় নিরাপত্তার জন্য একদল নারীকে একতাবদ্ধ থাকার বিষয়টিকে। আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা। কিন্তু ভিন্ন এক সংস্কৃতির মাঝে কিভাবে শিশুদের বড় করে তুলতে হয় সে বিষয়েও আমরা তাদের সচেতন করা হয়।''

তিনি বলেন, "এটা বেশ ভালো কাজ করছে। এই কোর্সের শেষে তাদের কাছে প্রশ্ন থাকে যে, অভিভাবক হিসেবে তাদেরকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করবে কোন বিষয়টি? যদি আপনার মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয় সেটি? নাকি-যদি আপনার ছেলেটি কাউকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, সেটি?"

তিনি আরো বলেন, ''অনেক আলাপ আলোচনার পর আমরা যে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌছাই সেটি হল, এমন ক্ষেত্রে মেয়েটি হয় ঘটনার শিকার অর্থাৎ ভুক্তভোগী সে। কিন্তু ছেলে সন্তানটি যদি হামলাকারী হয় সেটি মা-বাবার জন্য বেশি হতাশাজনক।''

সিরিয়া, ইরাক এবং ইথিওপিয়া থেকে আসা নারীরা এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দেখানো হচ্ছে তাদের।

ইথিওপিয়া থেকে আসা অভিবাসী ওয়ারকিয়ে বলছিলেন, এটি তাদেরকে কিভাবে সচেতন করছে।

"আজ আমি জানতে পারলাম যে আমার সাথে কোনো কিছু ঘটলে কোথায়, কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। সেই সাথে কেউ যৌন হয়রানির কিংবা ধর্ষণের শিকার হলে তাকে কিভাবে সাহায্য করতে হবে, জানলাম। এই ইস্যুতে এখন আমিও পারবো অন্য কাউকে শেখাতে।"

আরেকজন অভিবাসী বেইমনেট বলছেন, ''এখানে বিষয়টা হলো-কিভাবে আপনি আপনার বাচ্চাদের গড়ে তুলবেন সেটা জানার সুযোগ হচ্ছে। তাদের সঠিক পথে নির্দেশনা দেয়া, ছেলে এবং মেয়ে উভয়কে কিভাবে একজন যোগ্য অভিভাবক হয়ে উঠতে হয়, সেটা এখানে এসে জানতে পারলাম।"

চারবছর আগে সিরিয়া থেকে শরণার্থী হয়ে এসেছে মায়সাম এবং মোহাম্মদ। তারা এখন নরওয়েজিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারে। ভালো চাকরি জুটেছে তাদের, সেইসাথে বেশকিছু নরওয়েজিয়ান বন্ধু হয়েছে।

মায়সাম বলছেন, ''যখন আমরা নরওয়েতে চলে এলাম, তখন এখানকার সরকারের কাছ থেকে বেশ ভালো সহায়তা পেয়েছি। দেশটি সম্পর্কে এবং এখানকার ভাষা সম্পর্কে বেশকিছু কোর্স করার সুযোগ হয়েছে।''

এই সিরিয় নারী অভিবাসী মনে করেন, এখানে যে ধরনের কোর্স হচ্ছে, মেয়েদের এ ধরনের সুযোগ দরকার যাতে করে তারা সহিংসতা এবং যৌন সহিংসতার বিষয়ে আরো জানতে পারে।


আরো সংবাদ