২৪ জুন ২০১৮

বোরকা পরে মুখ ঢাকলে জরিমানা ১৫৬০ ডলার!

বোরকা পরে মুখ ঢাকলে জরিমানা ১৫৬০ ডলার! - সংগৃহীত

চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ডেনমার্কে বোরকা পরে কোনো নারী মুখ ঢেকে জনপরিসরে বের হলে জরিমানা গুনতে হবে। বৃহস্পতিবার দেশটির আইনপ্রণেতারা এই আইন পাস করেন।

আইন অমান্য করে মুখ ঢেকে জনপরিসরে বের হলে একশ ৫৬ ডলার থেকে এক হাজার পাঁচশ ৬০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

অবশ্য আগে থেকেই বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বুলগেরিয়া এবং সুইজারল্যান্ডেও জনপরিসরে মুখ ঢেকে বের হওয়া নিষেধ। ডেনমার্কে সরকারিভাবে অবশ্য বলা হচ্ছে, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা তাদের নেই।

এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, পোশাক পছন্দের ব্যাপারে সকল নারীর অধিকার থাকা উচিত। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের ওপর, যেসব নারী বোরকা পরে মুখ ঢেকে রাখেন। এই আইনের ফলে তাদের অধিকার খর্ব হবে।

তবে দেশটিতে ঠিক কতো সংখ্যক নারী বোরকা পরে মুখ ঢেকে রাখেন তার কোনো পরিসংখ্যান জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যে বোরকা-হিজাব নিষিদ্ধ হচ্ছে!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়লাভের পর প্রথম মুসলিমবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে বোরকা ও হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপালিকান দলের নেতারা। এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার স্টেট হাউসে একটি প্রস্তাব আসে। এ প্রস্তাবে সমর্থন দেন রিপালিকান দলের জেসন স্পেন্সার ও উড বাইডেন। জেসন স্পেন্সার বলেন, শুধু যেসব নারী প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘোরাফেরা, বিভিন্ন অফিস আদালতে কর্মজীবী বা অফিস আদলতে যাবেন, প্রকাশ্যে ড্রাইভিং করবেন তাদের বেলায় এ আইন বলবৎ করা যেতে পারে। বর্তমানে পোশাক-পরিচ্ছদের ওপর তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বোরকা ও হিজাবে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এ নিয়ে জর্জিয়ায় স্কুল ও কলেজগামী মুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জিনজিয়াংয়ে দাড়ি বোরকা নিষিদ্ধ

চীনের জিনজিয়াংয়ে মুসলিমদের লম্বা দাড়ি রাখা ও মেয়েদের বোরকা নিষিদ্ধ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। জিনজিয়াংয়ের মুসলমানরা দীর্ঘ দিন যাবৎ বলে আসছেন যে, চীনারা তাদের সাথে বৈষম্যপূর্ণ আচরণ করছে। চীনাদের দাবি এ অঞ্চলে ইসলামি চরমপন্থা ঠেকাতে এ পদপে নেয়া হয়েছে।  প্রদেশের আইনপ্রণেতারা নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় সম্মতি দিয়েছেন এবং তা প্রাদেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। চীনের প্রত্যন্ত এ প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বাস। এ সম্প্রদায়ের অন্তত এক কোটি মানুষ আছে এখানে। তারা দীর্ঘ দিন থেকে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করে আসছেন। তাই নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞা জারির সমালোচনা করেছে অধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এ নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় মুসলিমদের ওপর বৈষম্যের মাত্রা বাড়াবে। পুরো প্রদেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে। 

অঞ্চলটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। এসব ঘটনার জন্য চীনা সরকার ইসলামি উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করেছে। চালানো হচ্ছে দমন-পীড়ন। সরকারি দমন ও বৈষম্যের মুখে স্থানীয় অনেকেই উগ্রপন্থায় ঝুঁকেছেন। যোগ দিয়েছেন আইএস। বেইজিং স্থানীয়দের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। বিভিন্ন সময় তাদের ওপর নানা রকমের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দাড়ি রাখা ও বোরকা পরার ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে এলো। গতকাল শনিবার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। উপরি উক্ত দু’টি বিষয় ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি বিষয় যুক্ত রয়েছে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়। বলা হয়েছে, স্থানীয়রা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল দেখতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, স্থানীয় উইঘুর সম্প্রদায়ের শিশুরা সরকারি স্কুলে পড়তে পারবে না। এমনকি স্থানীয়দের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সরকারি নীতি মেনে চলতে হবে। বিয়ের েেত্র আইনি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক মেনে চলতে হবে। শুধু ধর্মীয় রীতি মেনে করলে, তা বৈধ হবে না। মুখমণ্ডল পুরোটা ঢেকে বোরকা কিংবা নেকাব পরিধান করা যাবে না।

চাদে বোরকা নিষিদ্ধ

চাদে সোমবারের বোমা হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হবার পর দেশটিতে বোরকা পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ধর্মীয় নেতাদের সাথে বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী, কালজেবুয়ে পাহিমি দুবেত এই ঘোষণা দেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় চাদের রাস্তা ঘাটে প্রকাশ্যে বোরকা পড়া যাবে না। এমনকি নিজেদের বাড়ি ঘরেও বোরকা পড়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী সোমবারের আত্মঘাতী হামলার জন্য নাইজেরীয় জঙ্গিগোষ্ঠি বোকো হারামকে দায়ী করেন। ধরা পড়ে যাওয়া ঠেকাতে বোকো হারাম এখন নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের বেশি ব্যবহার করছে।বুধবার ধর্মীয় নেতাদের সাথে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী কালজেবুয়ে পাহিমি বলেন, “সন্ত্রাসীরা হামলা চালাতে বোরকা ও নেকাবের আশ্রয় নিচ্ছে। বোরকার ছদ্মবেশে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে। এখন থেকে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী বাজারে যত বোরকা ও নেকাব আছে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে”। চাদের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান এবং প্রধানত ধর্মীয় কারণেই সেখানে বোরকা পরা হয়। বোরকার কারণে সাহারার তপ্ত ও ধূলিময় আবহাওয়া থেকেও রক্ষা পান নারীরা।

বোরকা নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে জার্মানি

বোরকা ব্যবহার আংশিকভাবে নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে জার্মানি। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডি মেইজিয়ের - সেদেশে বোরকার ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহবান জানিয়েছেন।  একদিন আগে তিনি বলেছিলেন, বোরকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করাটা হয়তো সাংবিধানিক হবে না। একটি টিভি চ্যানেলকে তিনি বলেন - সমাজের সংহতির স্বার্থে একজন মহিলার মুখ দেখা যাওয়াটা আইনি বাধ্যবাধকতায় পরিণত করতে চাইছে তার সরকার। তবে একে আইনে পরিণত করতে হলে পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে।

এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে জার্মানির স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সারি, বা সরকারি অফিসে - বা গাড়ি চালানোর সময় - কেউ মুখ ঢাকা বোরকা পরতে পারবেন না। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জার্মানির সমাজ একটি মুক্ত সমাজ এবং কারো মুখ ঢেকে রাখাটা এই সমাজের ধ্যানধারণার সাথে মেলে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের যোগাযোগের রীতি, জীবনযাত্রা এবং সমাজের সংহতি - এগুলোর সবকিছুরই একটি উপাদান হচ্ছে : আমাদের মুখ অনাবৃত রাখা। শুধু বোরকা নয়, যে কোন রকম আবরণ - যা শুধু চোখ ছাড়া পুরো মুখ ঢেকে রাখে - তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।’

তিনি আরো বলেন, পুরো মুখ ঢেকে কেউ জনসেবামূলক কাজ করতে পারে না। জার্মানিতে সম্প্রতি রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম শরণার্থী আসা ছাড়াও বেশ কিছু আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে - যা তথাকথিত ইসলামিক স্টেট তাদেরই কাজ বলে দাবি করেছে। এরপর চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মারকেলের সরকার এই বিষয়টি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জার্মানিতে ঠিক কত নারী বোরকা পরেন তা নিয়ে কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে জার্মান মুসলিমদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নেতা আইমান মাজিয়েককে উদ্ধৃত করে রয়টার জানাচ্ছে, বোরকা পরেন এমন মহিলার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। অভিবাসন ও শরণার্থী সংক্রান্ত একটি সংস্থা ২০০৯ সালের একটি জরিপের রিপোর্টে বলা হয়, জার্মানির মুসলিম মহিলাদের দুই-তৃতীয়াংশ এমনকি হিজাবও পরেন না।

নেদারল্যান্ডসে আংশিক নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা

স্কুল, হাসপাতাল বা জনপরিবহনের মতো স্থানে নিকাব এবং বোরকা পরে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করার এক প্রস্তাব নেদারল্যান্ডসের পার্লামেন্টের নিম্ন-কক্ষ অনুমোদন করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, যে সব জায়গায় পরিচয় দেওয়া আবশ্যক শুধু সেসব জায়গায় নিকাব বা বোরকা পরে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ হবে। তবে রাস্তাঘাটে বোরকা এখন নিষিদ্ধ হচ্ছে না। আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ ৪১০ ইউরো জরিমানা হতে পারে। তবে এই প্রস্তাবে সংসদের উচ্চ-কক্ষ সেনেটেরও অনুমোদন লাগবে। নেদারল্যান্ডসে খুব কম সংখ্যক মুসলিম মহিলা বোরকা পরেন। এক হিসাবে এই সংখ্যা বড়জোর পাঁচশ হবে। তবে কট্টর দক্ষিণপন্থি দল ফ্রিডম পার্টি অনেকদিন ধরে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি করছে। এই দলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে, এবং আগামী মার্চের নির্বাচনে দলটিকে নিয়ে দেশের মূলধারার দলগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ১৫০ সদস্যের সংসদের ১৩২ জনই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। এমনকি ক্ষমতাসীন উদারপন্থী দলগুলোর কোয়ালিশন দলগুলোও পক্ষে ভোট দেয়। ফ্রান্সে গত কয়েকবছর ধরে প্রকাশ্য জায়গায় নিকাব নিষিদ্ধ।

ব্রিটেনে বোরকা নেকাব নিষিদ্ধের আহ্বান

ব্রিটেনে মুসলিম নারীদের জন্য বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির একটি রাজনৈতিক দল ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি (ইউকিপ)। একই সঙ্গে মতায় গেলে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধের পে দলটি। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ইশতেহারে এসব বিষয় উল্লেখ থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতা পল নাটাল। তার মতে, বোরকা ও নেকাব ব্রিটেনে বসবাসরত মুসলিম নারীদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার পথে অন্তরায়। একই কারণে তারা অর্থনৈতিকভাবেও পিছিয়ে আছেন। পাশাপাশি বোরকা ও মুখঢাকা নেকাব নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। মুখ ঢাকা থাকায় নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এসব কারণে তার দল বোরকা ও নেকাব পরিধান নিষিদ্ধ করতে চায়।
তা ছাড়া ইউকিপ নেতার দাবি, ব্রিটেনে প্রচলিত আইনের পাশাপাশি শরিয়াহ আইনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ আইনের কারণে কোনো মুসলিম নারীকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের েেত্র নিরাপত্তাবাহিনীকে সমস্যায় পড়তে হয়।

মরক্কোয় মুখঢাকা বোরকা উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ

মুসলিম নারীদের পোশাক নেকাববিশিষ্ট বোরকা উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে উত্তর আফ্রিকান দেশ মরক্কো। এখন পর্যন্ত অবশ্য এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি কর্তৃপ। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকে ওই নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির লি৩৬০ সংবাদমাধ্যম লিখেছে, ‘দেশের সব শহর এবং উপশহরে এই পোশাকটি আমদানি, উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধের পদপে নিয়েছি আমরা।’

মরক্কোর বেশির ভাগ নারীই হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরে থাকেন। এতে তাদের মুখমণ্ডলের পুরোটা ঢাকে না। তবে উত্তরাঞ্চলের নারীরা তাদের পুরো মুখ ঢেকে রাখতে পছন্দ করেন। সোমবার মরক্কোর অর্থনৈতিক রাজধানী ক্যাসাব্লাঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালান। সেখানকার ব্যবসায়ীদের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা। মরক্কোর উত্তরাঞ্চলের শহর তারোদান্তে ব্যবসায়ীদের এ ধরনের বোরকা তৈরি ও বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। ওই অঞ্চলের অন্যান্য শহরেও একই নির্দেশনা দেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ‘কট্টরপন্থার’ সাথে সম্পর্কের অজুহাতে অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ না পাওয়া আলেম হাম্মাদ কাব্বাজ এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি মরক্কোর মানবাধিকার ও স্বাধীনতাকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ‘এটি সৈকতে পশ্চিমা স্নানের পোশাক পরাকে শুধু স্পর্শাতীত অধিকার বলে বিবেচনা করে।’ নর্দান মরোক্কান ন্যাশনাল অবজারভেটরি ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট বলেছে, এই সিদ্ধান্তকে তারা সরকারের ‘খামখেয়ালিপূর্ণ’ সিদ্ধান্ত বলে বিবেচনা করছে।

ইতালির লমবার্ডিতে বোরকা নিষিদ্ধ

উত্তর ইতালির প্রশাসনিক অঞ্চল (রাজ্য) লমবার্ডিতে হাসপাতাল ও স্থানীয় সরকারি অফিসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক বোরকা। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ইতালির সবচেয়ে জনবহুল ও সম্পদশালী অঞ্চলটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইতালির বর্তমান আইন অনুযায়ী সরকারি অনুমোদন ছাড়া জনসমাগমস্থলে হেলমেটসহ পরিচয় গোপন করা যায় এমন যেকোনো ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ। তবে লমবার্ডির এই নতুন আইনটির প্রয়োগ শুরু হবে আসছে ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে। এই প্রথমবারের মতো কোনো ইতালীয় অঞ্চল ইসলাম ধর্মের পর্দার বিধানকে বেআইনি ঘোষণা করল। সাম্প্রতিক সময়ের গুরুতর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনার কারণে অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন লমবার্ডির নিরাপত্তা, নাগরিক সুরক্ষা ও অভিবাসন বিভাগের প্রধান সিমোনা বোর্দোনালি। তিনি বলেন, ‘কেউ হাসপাতালে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে পরিচয় ও চেহারা প্রকাশ করতে হবে। সেখানে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ’।

কানাডায় নারীদের বোরকা-নিকাবে নিষেধাজ্ঞা 

কানাডার কুইবেকে প্রদেশে বোরকা-নিকাবে নিষেধাজ্ঞায় বেকায়দায় কানাডার মুসলমানেরা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের জন্য বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি আইন পাস করা হয়েছে। যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে মাথায় রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি। তবে কানাডিয়ান মুসলমানদের কয়েকটি দল এই সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছে। তাদের মতে এই সিদ্ধান্তটি বৈষম্যপূর্ণ, অসাংবিধানিক ও অপ্রয়োজনীয়। এর ফলে মুসলমানদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার লংঘিত হয়েছে। কানাডিয়ান সিভিল লিভার্টিজ এসোসিয়েশন (সিসিএলএ) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিম কুইবিক উচ্চতর আদালতে গত মাসে পাসকৃত এ সংক্রান্ত আইনের ব্যাপারে আপীল করেছে।

সারা ফেইথ জুইবেল বলেন,একজন নারী কী পোষাক পরিধান করবে তা সরকার ঠিক করে দেয়া উচিৎ নয়। তার পছন্দ, রুচি, বিশ্বাস অনুযায়ী কাজের স্বাধীনতা থাকতে হবে। ওয়ারদা নাইলি মনে করেন এই আইন পাসের পর যারা হিজাব বা নিকাব পরিধান করতো তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছে।কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ‘বিল সিক্সটি-টু’ নামের এই আইনটি পাশ হয় ৬৬-৫১ ভোটে। এই আইনটি পাশের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করে তাদের মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লিবারেলরা দু’বছর আগেই এই বিলটি উত্থাপন করেছিল। আর এখন এটি পাস হবার কারণে-প্রদেশের আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, বাস চালক, ডাক্তার, মিডওয়াইভ এবং দাঁতের ডাক্তারসহ সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের মুখ অনাবৃত থাকতে হবে। এছাড়া প্রদেশের যেসব শিশুকেন্দ্রে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হতো সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে কুইবেকের ‘বিল সিক্সটি-টু’ নামের এই আইনটিতে কোথাও মুসলিমদের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ নেই। সরকার বলছে, কোনো ধরনের আচ্ছাদন বা আবরণ মুখে থাকবে না এমনটাই আইনে বলা হচ্ছে, তার অর্থ এই নয় যে মুসলিমদের টার্গেট করে এমনটা করা হয়েছে। তবে এই আইনের প্রভাব মুসলিম নারীদের ওপরেই সবচেয়ে বেশি পড়েছে। এটি মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। কুইবেকে কত নারী নিকাব পরে সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ২০১৬ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী- কানাডার ৩ শতাংশ মুসলিম নারী চাদর পরে এবং ৩ শতাংশ নারী নিকাব পরে।


আরো সংবাদ