২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাড়ে ৪ হাজার জুতা রেখে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

আভাজ ক্যাম্পেইন, ফিলিস্তিন, ইসরাইল
ইউ’র সদর দপ্তরের সামনে সাড়ে ৪ হাজার জুতা রেখে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে আভাজ। ছবি - সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের উপর ইসরাইলি বর্বরতার প্রতিবাদে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ দীর্ঘ দিন থেকেই বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন করে আসছেন। উদেশ্য বিশ্ব বিবেকের ঘুম ভাঙ্গানো। এবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপিয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরের সামনে ৪ হাজার ৫০০ জুতা রেখে এক ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ শুরু করেছে আভাজ ক্যাম্পেইন নামক একটি বিশ্ব নাগরিক সংস্থা। গত ১০ বছরের ইসরাইলের সাথে চলমান বিভিন্ন সংঘর্ষে যতজন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন তত জোড়া জুতা রেখেই এবারের ইউরোপিয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি।

এই আন্দোলনে শরিক হয়েছেন ৪ লাখের অধিক ইউরোপিয় নাগরিক।

ব্রাসেলসে ইউরোপিয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে এ প্রতিবাদের মাধ্যমে ইসরাইল- ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাত বন্ধের জন্য ইউ’র দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন আভাজ ক্যাম্পেইন।

সুত্র: 

আভাজ ক্যাম্পেইনের পরিচালক ক্রিস্টোফ স্কট বলেন, সমগ্র ইউরোপিয় জনগনের জন্য পক্ষ থেকে ইউ সরকারের প্রতি এটা স্পষ্ট বার্তা যে, আমাদের কাছে ফিলিস্তিনিদের জীবনের মূল্য রয়েছে। তাদেরও আমাদেরকে প্রয়োজন। ইসরাইলের সাথে ইউরোপের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার পরেও নেতানিয়াহু সরকারকে এই সহিংসতা বন্ধ করতে সুস্পষ্ট বার্তা পাঠানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

এই আধুনিক যুগে ফিলিস্তিনে যা ঘটছে সেটা বর্ণবাদের মতোই ভয়ঙ্কর। এই বিষয়টিকে যদি ইউরোপ না দেখার ভান করে তবে তা ইসরাইলকে রক্ষা করা নয় বরং এটা আমাদের মানবতার প্রতি চরম অবহেলা করা হবে।   

জাতিসংঘের মতে, গত ৭ সপ্তাহে শতাধিক ফিলিস্তিনি ইসরাইলের কাছে নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী, নারীসহ বহু বেকার তরুণ রয়েছেন।

১২ হাজারের অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইউনিসেফের মতে, শুধু গাজাতেই চলমান সহিংসতায় ১ হাজারের অধিক শিশু ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়েছেন।

জাতিসংঘ বলেছে, আহতের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। এটা আহতদের সারা জীবনের জন্য বয়ে বেড়াতে হবে। অনেকেরই এই কারণে অঙ্গহানি হয়েছে।

ইসরাইল কতৃপক্ষ বলেছে, তারা পূর্ব গাজা সীমান্তের ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন দমাতে গিয়ে মানবাধিকার আইনের প্রয়োগ করবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনিদের উপর দমন নিপীড়নের জন্য দীর্ঘ দিন থেকেই ইসরাইলকে চাপ দিয়ে আসছে।

আন্দেলনকারী গ্রুপ আভাজ ক্যাম্পেইন ইসরাইল সেনাদের সরাসরি নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর উপর গুলির বিরোধী। গাজা সীমান্তের বিক্ষোভকারীদের হত্যার দায়ে ইসরাইলকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন। তারা বলেছে, এটা রোম চুক্তি অনুসারে ‘যুদ্ধাপরাধ’ এর আওতায় পড়ে।

সুত্র: ডেইলি সাবাহ।

 

আরো পড়ুন:  রাতভর গোলা বিনিময়ের পর গাজায় যুদ্ধবিরতি

রাতভর গোলাবিনিময়ের পর ফিলিস্তিনি ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, তারা গাজায় ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যেতে আগ্রহী, যদি ইসরাইল তা মেনে চলতে সম্মত হয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পরে হামাস গতকাল বুধবার এ প্রস্তাব দেয়। গত মঙ্গলবার ইসরাইল সেনারা হামাস ও ইসলামিক জিহাদের অন্তত ৩৫টি অবস্থানে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে। এর আগে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের দিকে ৩০টির বেশি মর্টার গোলা নিক্ষেপ করে। তারই জবাবে ইসরাইল সেখানে পাল্টা গোলাবর্ষণ করে বলে দাবি করেছে। ফিলিস্তিনিদের গোলায় তিন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। 
হামাসের ওই প্রস্তাবের পর আর কোনো হামলা না হওয়ায় ধরে নেয়া হয় যে, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও ইসরাইলের গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী ইসরাইল কার্টজ এক রেডিও সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করেন, তেলআবিব কোথায় এ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে? তবে তিনি বলেন, ইসরাইল যুদ্ধ বাড়াতে আগ্রহী নয়। কিন্তু বিষয়টি হামাসের ওপর নির্ভর করছে। যদি তারা হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে আমি জানি না তাদের কপালে কী আছে। 
হামাসের ডেপুটি চিফ খলিল আল হাইয়া বলেন, ইসরাইল যত দিন চায় তত দিন তার দলও যুদ্ধবিরতির পক্ষে। এক বিবৃতিতে খলিল বলেন, একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মধ্যস্থতাকারী গত কয়েক ঘণ্টায় এ বিষয়ে কাজ করেছে এবং একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে হামাসের সাথে যুক্ত একটি টুইটারে ঘোষণা দেয়া হয়, তারা গাজায় তত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত আছে, যত দিন ইসরাইল এটি চালিয়ে যেতে সম্মত হবে।
আলজাজিরার গাজা প্রতিনিধি বার্নার্ড স্মিথ বলেন, মিসরিয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করেন। এর আগে ইসরাইল হুমকি দিয়েছিল, তারা হামাসের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তারা মিসরিয়দের কাছে এ বার্তা পাঠায় যে, যদি ফিলিস্তিনিরা তাদের সঙ্ঘাত না থামায়, তাহলে ইসরাইল আরো কঠোর কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং হামাস ও ইসলামি জিহাদের নেতৃবৃন্দকে টার্গেট করবে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সম্মত হওয়ার কোনো সংবাদ না জানালেও দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির মতোই সব কিছু শান্ত রয়েছে। 
ইসরাইল জানায় গত মঙ্গলবার গাজা থেকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা হলে তারা ফিলিস্তিনের ৬০ স্থানে আঘাত হানে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ হামলার জন্য ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেন, এ হামলা এ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। 

মার্চের ৩০ তারিখ থেকেই এ অঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এ পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাদের হামলায় ১২১ জন নিহত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় যেসব ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, তারা সেগুলোতে ফিরে যেতে চায়। ২০ লাখ লোক অধ্যুষিত গাজা উপত্যকাকে ইসরাইল এক যুগ ধরে অবরোধ করে রেখেছে। গত মঙ্গলবার একদল ফিলিস্তিনি বোটের সাহায্যে ইসরাইলের অবরোধ ভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। 

ইসরাইল ২০০৫ সালে গাজা থেকে তাদের সৈন্য উঠিয়ে নেয়। কিন্তু এরপর তারা তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গাজার ভূমি ও সমুদ্র সীমান্ত কড়াকড়িভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে গাজার অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। ২০১৪ সালে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। এ পর্যন্ত তাতে কোনো প্রকার উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু ইসরাইল প্রতি বছরই তাদের বসতির পরিধি বাড়িয়েছে। ২০১৪ সালে ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধে দুই হাজার ২৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়, যাদের বেশির ভাগ ছিল বেসামরিক লোক। অন্য দিকে ইসরাইলের ৬ বেসামরিক লোকসহ ৬৬ জন নিহত হয়।


আরো সংবাদ