২০ মে ২০১৯
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

বগুড়ায় ভোটের হার নিয়ে নানা প্রশ্ন

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার শূন্য ফাঁকা পড়ে আছে বগুড়ার একটি ভোটকেন্দ্র। (ইনসেটে) ভোটার না আসায় অলস সময় পার করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন এক নির্বাচনী কর্মকর্তা। ছবিগুলো গত ১৮ মার্চ তোলা - নয়া দিগন্ত

সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার ১২ উপজেলায় ভোট প্রদানের হার নিয়ে ভোটার, সাধারণ মানুষ এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে গাবতলী উপজেলায় ৬৫দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সদরে ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলার ১২ টি উপজেলার মধ্যে দুটি ছাড়া ১০টিতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে গত ১৮ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় শেরপুর ও আদমদিঘি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা।

গত ১৮ মার্চ নির্বাচনের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলো ভোটার শূন্য দেখা গেছে যা গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদক বগুড়া সদরের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু দুপুরের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক জাল ভোট পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

গাবতলী উপজেলার একটি কেন্দ্রে দায়িত্বপালনকারী সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পরিচয় না প্রকাশের শর্তে জানান, তার কেন্দ্রে একজন প্রার্থীর কর্মীরা সারাদিনই জাল ভোট দিয়েছে। এমনকি প্রকাশ্যে সিল মেরেছে। ফলে এ কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার দাঁড়ায় ৭৫ শতাংশ। তারা শুধু নিজের প্রার্থীর পক্ষে নয় অন্য প্রতীকেও সিল মেরেছে।

একইভাবে শাজাহানপুর উপজেলার একটি কেন্দ্রে দায়িত্বপালনকারী পোলিং অফিসার জানান, ভোট শেষ হওয়ার ঘণ্টা খানেক আগে কিছু সংখ্যক যুবক কেন্দ্রে ঢুকে বিভিন্ন বুথে নিজেদের প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারেন। সারাদিন প্রায় দুইশো ভোট পড়লেও তারা এক ঘণ্টায় তিনশ’ ব্যালটে সিল মারেন।

বিভিন্ন উপজেলার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বগুড়া সদরে সবচেয়ে বেশী ভোট থাকলেও এখানে ভোট পড়েছে শতকরা ১৩ দশমিক ১৩ ভাগ। এখানে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৭৯ ভোটারের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ভোট পড়েছে ৬৪ হাজার ৮৬১ টি। তবে সে হার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশী ভোট পড়েছে গাবতলী উপজেলায়। এখানে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫ ভোটের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৫টি। যার শতকরা হার ৬৫ দশমিক ৩২ ভাগ। এখানে নৌকার প্রার্থী রফি নেওয়াজ খান রবিন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৪০ ভোট এবং তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত একিউএম ডিসেন্ট আহমেদ (সুমন) পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৬৭৪ ভোট।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসনে (শাজাহানপুর ও গাবতলী) বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক রেজাউল করিম বাবলুর প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ৪৭ হাজার এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থী আলতাফ আলী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পান ২৬ হাজার ভোট।

তাই ভোটার, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রাপ্ত ভোট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন এত ভোটার কেন্দ্রে গেল কখন?


আরো সংবাদ