১৭ জুন ২০১৯

কারচুপি ও প্রকাশ্যে সিল : নৌকার প্রার্থীর ভোট বর্জন!

কারচুপি ও প্রকাশ্যে সিল : নৌকার প্রার্থীর ভোট বর্জন! - নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আছকির খান উপজেলা নির্বাচনের ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার দুপুর ১.৩০ টায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আছকির খানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মিলন বকস এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাপক কারচুপি, প্রকাশ্যে সিল দেয়া এবং জাল ভোটের কারণে আমরা বাধ্য হয়ে নির্বাচন বর্জন করেছি।

তিনি আরো জানান, প্রতিপক্ষের প্রার্থী শাহজাহান খানের সমর্থকরা নৌকার সমর্থকদের অনেক জায়গায় মারধর করে আহত করছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, শাহজাহান খানের লোকেরা জাল ভোট দিয়েছে যার প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি কেন্দ্রের বাইরে ব্যালটের বইয়ের মোড়া পাওয়া গেছে।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে সাথে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক।

ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী আছকির খান জানান, পুলিশের সহযোগিতায় অন্য প্রার্থী শাহজাহান খানের সমর্থকরা আমার এজেন্টকে বের করে দিয়েছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রে আমার সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই আমি এই নির্বাচন বর্জন করলাম।

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বনিক জানান, আমি কিছু জানি না, খবর নিয়ে দেখছি।

রাজনগর উপজেলার ইউএনও ফেরদৌসী আক্তার অভিযোগ পাওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ যাচাই করে দেখার পর এই বিষয়ে কথা বলা যাবে। এর আগে কিছু বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে কাপ পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন ভোট দানে বিশৃংখলা করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অভিযোগ করছে।

আরো পড়ুন : দেড় ঘন্টায় ভোট পড়লো মাত্র ১টি

ফরিদপুর জেলার ৮টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন একপ্রকার ভোটারবিহীনভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। ভোটারদের তেমন উপস্থিতিও ছিল না। কোথাও তেমন কোনো বড় ধরণের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মধুখালীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ভাইকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

সোমবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়। তবে কোথাও কোনো ভোটার লাইন চোখে পড়েনি। দু’একজন ভোটার এসে ভোট দেয়ার পরে বেশিরভাগ সময় ভোটের দ্বায়িত্বপালনকারীদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। এসব ভোট কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের কোনো উচ্ছ্বাস ছিলো না। তবে প্রতিটি কেন্দ্রেই পুলিশ ও আনসার বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো চোখে পড়ার মতো।


সকাল সাড়ে ৯টায় নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের ভাটপাড়া কাঠালবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দেড় ঘন্টায় এই কেন্দ্রের ৫ নং কক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়েছে। মহিলাদের এই ভোট কক্ষে মোট ভোটার ছিলো ৩৩১ জন। ওই কেন্দ্রের ২ নং কক্ষে ৩৪৩ জন পুরুষ ভোটারের মধ্যে এসময়ে ভোট পড়েছিলো মাত্র ১৪ টি। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম অবশ্য বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সকালে অনেকেই কৃষিকাজ করতে ক্ষেতে রয়েছেন বলে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন না।

অবশ্য দুপুর গড়িয়ে গেলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্নস্থানে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার নাজমুল হাসান দুপুরে সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন যে, কাইচাইল ইউনিয়নের ৮ নং গহরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাবুর কাইচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার সামনেই প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেয়া হয়। এসময় তিনি প্রতিবাদ জানালে তাদেরকে হুমকি দিয়ে বসিয়ে রাখা হয় বলে তিনি জানান। পরে সেখানে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরিয়তপুর জেলার সহকারী কমিশনার জিনিয়া জান্নাত সেখানে উপস্থিত হলে তিনি তার নিকট এব্যাপারে অভিযোগ জানান। জিনিয়া জান্নাত এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করেছি।

এদিকে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের এজেন্টদের মারধর করে বের দেয়ার জের ধরে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন আহত হন বলে জানা গেছে। এছাড়া সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুররা গ্রামে নূর ইসলাম নামে নৌকা প্রতীকের এক সমর্থকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।


আরো সংবাদ