১৭ জুন ২০১৯

সীতাকুণ্ডে সাড়ে ৪ ঘন্টায় ৭ ভোট!

সীতাকুণ্ডের এমএ কাশেম রাজা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র ও বাড়বকুণ্ড উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র - নয়া দিগন্ত

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে সাড়ে ৪ ঘন্টায় মাত্র ৭টি ভোট পড়েছে। উপজেলার কুমিরা ঘোড়ামরা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১ টায় পরিদর্শনে গেলে এ চিত্র দেখা যায়। এছাড়াও ভাটিয়ারী, ছোটদারোগারহাট, কুমিরার, ফকিরহাট ও শীতলপুরের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র পরদর্শনে গিয়েও গড়ে ৩০/৩৫টির বেশি ভোট পড়তে দেখা যায়নি। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের চিত্র এটি।

এ নিয়ে পুরো উপজেলা জুড়ে হাস্যরস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘোড়ামরা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা বুথের ৩নং কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টায় একটি ভোটও পড়েনি। তবে ৫নং বুথে ১টি, ৭নং বুথে ১টি এবং ২নং বুথে ৫টি ভোট পড়ে। সব মিয়ে ওই কেন্দ্রে সর্বমোট ৭টি ভোট পড়ে।

সরেজমিন এমএ কাশেম রাজা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের মূলফটকটি ভিতর থেকে তালা লাগানো। সাংবাদিকরা ভিতরে ঢুকতে চাইলে তালা খুলে দেয়া হয়। সেখানকার ৭টি বুথ পরিদর্শ করে দেখা যায় প্রত্যেকটি বুথে গড়ে ১০০ থেকে প্রায় ১৩০টি ভোট কাস্ট হয়েছে। সাংবাদিক দেখে কিছু যুবক তড়িঘড়ি লাইন তৈরী করার জন্য একে অপরকে ডাকাডাকি করতে থাকে।

এদিকে নিরুত্তাপ ভোটের মাঝেও কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্র দখল ও এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুন নাহার নিলু অভিযোগ করেন, এমপি সমর্থিত লোকজন ভাটিয়ারীতে দুইটি ও রাজা কাশেম কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন।

আরো পড়ুন : ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি : যুক্তরাষ্ট্র 
নয়া দিগন্ত অনলাইন, (১৪ মার্চ ২০১৯)

গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্টিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। ভোটবাক্সে ব্যালট ভরা, বিরোধী দলের পোলিং এজেন্ট ও সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেয়াসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের তৈরি ২০১৮ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করা হয়েছে। বুধবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে। কিন্তু কার্যত সব ক্ষমতাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। গত ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এই নির্বাচনে ভোটবাক্সে ব্যালট ভরা, বিরোধী দলের পোলিং এজেন্ট ও সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেয়াসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচার চলার সময় অনেক বিরোধী প্রার্থীকে হয়রানি, হুমকি দেয়া, বিতর্কিত গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে অনেক বিরোধীদলীয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের পক্ষে স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচার চালানো সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি এবং বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে পর্যবেক্ষকদের ভিসা দেয়া হয়নি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২২টি এনজিও’র মধ্যে মোটে ৭টিকে অনুমোদন দেয়া হয়।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, ডিসেম্বরের নির্বাচনে বেসামরিক কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো দেশজুড়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো নির্যাতনের বিচার না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকার খুব কম পদক্ষেপই নিয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, বাংলাদেশে আরও কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে গুম, খুন, নির্যাতন, অযাচিত সেন্সরশিপ, সাইট ব্লক করা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘন প্রভৃতি বিষয়।


আরো সংবাদ