২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে রাজি নন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া - সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নয়, ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চান কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

গতকাল দুপুরে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের সামনে বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান।

গতকাল বিএসএমএমইউতে নেয়ার কথা ছিল অসুস্থ খালেদা জিয়াকে। সকাল থেকে হাসপাতাল এলাকায় সে ধরনের প্রস্তুতি লক্ষ করা গেছে। কিন্তু খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে রাজি নন বলে জানা গেছে। 

বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এখানে আসার কথা ছিল। উনি আজকে আসবেন না। আমরা যেকোনো সময়ে উনাকে এখানে চিকিৎসা সেবার দেয়ার জন্য প্রস্তুত। 
খালেদা জিয়া কেন আসবেন না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাকে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, উনি (খালেদা জিয়া) আসবেন না। আমাদের এখানে উনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, আমাদের মেডিক্যাল বোর্ডও প্রস্তুত ছিল, কেবিন প্রস্তুত ছিল উনার জন্য এবং উনি এলে আমরা চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম যথাযথভাবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে মেডিক্যাল বোর্ড গিয়েছিল জানিয়ে পরিচালক জানান, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন সেগুলো ফলোআপ পরীক্ষা করতেই উনার বিএসএমএমইউতে আসার জন্য বোর্ড বলেছে।

ড্যাবের অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, আমার কাছে যে তথ্য আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এমনকি হুইল চেয়ারের যে পাদানি থাকে সেখানেও উনি ঠিকমতো পা তুলতে পারেন না। উনার (খালেদা জিয়া) যে ইচ্ছাটা এবং কয়েক দিন আগে কারাগারে উনাকে দেখতে যে বিশেষজ্ঞ টিম গিয়েছিল অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে উনারাও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, উনাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করতে। কারণ ওই হাসপাতালে (ইউনাইটেড হাসপাতাল) তিনি চিকিৎসা নিতেন এবং ওখানেই উনার নিজস্ব বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যারা সারাজীবন উনাকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা সেখানে আছেন। এ চাওয়াটা বা দাবিটা উনার যে খুব বড় দাবি আমি সেটা মনে করি না। উনাকে যে বিএসএমএমউতে আনতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

তিনি বলেন, এ দেশে অনেকেই আছেন যারা প্যারোলে দেশের বাইরেও গেছেন, এখনো অনেকে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। এই হাসপাতাল থেকে কেউ কেউ দেশের বাইরে যাচ্ছেন। উনি (খালেদা জিয়া) বিএসএমএমইউতে আসার পক্ষে কোনো সময় ছিলেন না। এর আগে দু’বার এই হাসপাতালে তাকে আনা হয়েছে। উনি এখানে ছিলেন। আবার জোর করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে ডাক্তারা সরাসরি মতামতও দেননি বিএসএমএমইউ থেকে কারাগারে নিয়ে যেতে।

চিকিৎসক হিসেবে আপনি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ না ইউনাইটেড হাসপাতাল কোনটাকে ভালো বলবেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের একজন বা একাধিক ডাক্তার থাকে, যার অধীনে তার চিকিসা হয়। যে ডাক্তারের ওপর বিশ্বাস থাকে, আস্থা থাকে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওই বিশ্বাসটা আছে ইউনাইটেড হাসপাতালে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের দ্বারা উনি চিকিৎসা করাতে চান। অতত্রব ওখানে চিকিৎসা করা হলে উনি মানসিকভাবে বেটার ফিল করবেন, শারীরিকভাবেও বেটার ফিল করবেন।

অভিযোগ করে অধ্যাপক ডোনার বলেন, দেশনেত্রী দু’বার এই হাসপাতালে (বিএসএমএম্ইউ) এসেছিলেন কিন্তু সঠিক চিকিৎসা পাননি। বিধায় উনি বলছেন, আমাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে বিশেষায়িত হাসপাতাল নেয়া হোক। উনাকে কারাগারে দেখতে যে মেডিক্যাল টিম গিয়েছিল সেই টিমও বের হয়ে এ কথা বলেছিল যে, উনাকে (খালেদা জিয়া) ইউনাইটেড হাসপাতালে উনার যেসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছে তাদের আন্ডারে চিকিৎসা করানোর জন্য।

খালেদা জিয়া কী কী রোগে ভুগছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সেলিম বলেন, কারাগারে অন্তরীণ থাকাবস্থায় যেভাবে তার সুচিকিসা করার দরকার সেভাবে হয়নি। আমরা দেখেছি যে, উনাকে দু’বার এখানে আনা হয়েছে। রিউমোটারেড আর্থাটাইটিসে যে জয়েন্টগুলো অলরেডি ডিফরমেটিভ ধরে গেছে, এমন ডিফরমেটিভ যে উনি হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারছেন না।

ডোনার বলেন, যেহেতু এখানে দু’বার আনার পরও চিকিৎসা সম্পন্ন না করে ফেরত দেয়া হয়েছে। দেশনেত্রী বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষের ওপর, বাংলাদেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে উনি দেশেই চিকিসা করতে চাচ্ছেন। উনি বিশেষায়িত একটা হাসপাতালে গেলে সেখানে বিএসএমএমইউ ও দেশের সেরা চিকিসকদের সমন্বয়ের গঠিত একটি মেডিক্যাল বোর্ড করে উনি চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন বলে আমি মনে করছি। সেটা বাংদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর সুচিকিৎসার এ অধিকার মানবিক কারণে, রাজনৈতিক কারণে ও দেশের কারণেই হওয়া উচিত। 

এ সময়ে হলি ফ্যামেলি মেডিক্যাল হসপিটালের ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশীদও উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy