১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

মহাজোট শরীকদের মধ্যে আসন বন্টন

মহাজোট শরীকদের মধ্যে আসন বন্টন - নয়া দিগন্ত

 

  • নৌকার টিকেট পেল ছয় শরিকের ১৬ প্রার্থী
  • জাতীয় পার্টি ৪২
  • দ্বৈত মনোনয়নের ১৭ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা
  • বাদ পড়লেন মায়া, হীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের জন্য ২৪০টি আসন রেখে বাকী আসনগুলো মহাজোট শরীকদের ছেড়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিকে অন্তত ৪২টি আসনে ছাড় দেয়া হয়েছে। সরকারের শরীক হলেও দলটি নিজস্ব প্রতীক ‘লাঙ্গল’ নিয়ে নির্বাচন করবে। এ ছাড়া বাকী শরীকরা সবাই নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলগুলোর মধ্যে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টিকে পাঁচটি, জাসদ (ইনু) তিনটি, জাতীয় পার্টি (জেপি মঞ্জু) দুটি, তরিকত ফেডারেশন দুটি এবং জাসদকে (আম্বিয়া) একটি আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর মহাজোটের শরিক বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের তিনজন প্রার্থী নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোট শরীকদের হাতে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তর করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেখান থেকে দলের বিকল্প প্রার্থী দেয়া ১৭টি আসনে একজন করে চূড়ান্ত প্রার্থীর হাতেও চিঠি তুলে দেয়া হয়। তবে মনোনয়নের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজ শনিবার নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি অফিসে এক ব্রিফিংয়ে কাদের বলেন, ‘শরিকদের ৫৫ থেকে ৬০টি ছেড়ে দেয়া হতে পারে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ৪০ থেকে ৪২টি আসন দেয়া হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মোটামুটি ২৪০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত। তবে দুই-একজন এদিক-ওদিক হতে পারে। জয়ী হতে পারে এমন প্রার্থী দেখেই আমরা মনোনয়ন দিয়েছি।’

জোটের আসন বণ্টনের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘শরিক দলগুলো আরও বেশি আসন প্রত্যাশা করে। তবে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকে এর বেশি মনোনয়ন দিতে পারছে না। শরিক দলগুলো চাইলে অন্য আসনেও নিজেদের প্রতীকে প্রার্থী দিতে পারেন।’

জোটের যারা নৌকার প্রার্থী: ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন (ঢাকা-৮), ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী-২), মোস্তফা লুৎফুল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), টিপু সুলতান (বরিশাল-৩) ও ইয়াসিন আলী (ঠাকুরগাঁও-৩), জাসদের হাসানুল হক ইনু (কুষ্টিয়া-২), শিরীন আখতার (ফেনী-১) ও রেজাউল করিম তানসেন (বগুড়া-৪), বিকল্পধারার এম এ মান্নান (লক্ষ্মীপুর-৪), মাহী বি চৌধুরী (মুন্সীগঞ্জ-১) ও এফএম শাহীন (মৌলভীবাজার-২), জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (পিরোজপুর-২) ও রুহুল আমিন (কুড়িগ্রাম-৪), তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী (চট্টগ্রাম-২) ও আনোয়ার খান (লক্ষ্মীপুর ১) এবং জাসদের (আম্বিয়া) মঈনুদ্দিন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮)।

জোট শরিক এসব দলের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কামরুল আহসান, জাসদের শিরীন আক্তার, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবং বিকল্পধারার আবদুল মান্নান যার যার দলের প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি নেন।

দ্বৈত মনোনয়নের ১৭ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী: এদিকে বিকল্প প্রার্থী রেখে মনোনয়ন দেয়া ১৭টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদেও নাম ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এসব আসনের প্রার্থীদের চিঠি দেয়া শুরু করে দলটি। এদিন রংপুর-৬ আসনে স্পিকার শিরিন শারমিনকে চূড়ান্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চাঁদপুর-২ আসনে বাদ পড়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন খান রুহুল।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে চূড়ান্ত প্রার্থিতার চিঠি দেয়া হয়। এ আসনে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী মসিউর রহমান হুমায়ুনকেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল।

চাঁদপুর-১ আসনে চূড়ান্ত চিঠি দেয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে। এ আসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানকেও প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছিল। এছাড়া চাঁদপুর-৪ আসনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ড. শামসুল ভূঁইয়াকে বাদ দেয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিমান পরিবহনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে, বাদ দেয়া হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুকে। পটুয়াখালী-৩ আসনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়। এখানে বাদ পড়েছেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা।

নওগাঁ-৫ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিলের ছেলে নিজামুদ্দিন জলিল জন। এখানে বাদ পড়েছেন বর্তমান এমপি আব্দুল মালেক। নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী বি এম কবিরুল হককেই চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে। এ আসনে ১৪ দলীয় জোট শরিক জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বাদ পড়েছেন। টাঙ্গাইল-২ আসনে তানভীর হাসান (ছোট মনির) চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। বাদ পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল। জামালপুর-১ আসনে বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদকে চূড়ান্তভাবে বেছে নিয়েছে দল। বাদ পড়েছেন নূর মোহাম্মদ।

জামালপুর-৫ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাফফর হোসেন। এখানে বাদ পড়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা। ঢাকা-৫ আসনে হাবিবুর রহমান মোল্লাকে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়েছে। এ আসনে বাদ পড়েছেন মনিরুল ইসলাম মনু। ঢাকা-৭ আসনে হাজি সেলিম চূড়ান্ত প্রার্থিতার চিঠি পেয়েছেন। বাদ গেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত। ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হিসেবে থাকছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। এ আসনে বাদ পড়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান। ফরিদপুর-২ আসনে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ আসনে বাদ পড়েছেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সাল। বরগুনা-১ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এ আসনে বাদ পড়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির।


আরো সংবাদ