১৪ নভেম্বর ২০১৮

তিন সিটি নির্বাচনে নানা সমীকরণ

তিন সিটি নির্বাচনে নানা সমীকরণ - ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত সোমবার। এই নির্বাচন ও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে। 

পর্যবেক্ষক মহলের কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ হয়েছে। ভোটে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। এর ফলে তিন সিটির দু’টিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপি জয়লাভ করেছে। আবার কেউ কেউ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, তিন সিটিতেই ভোট কারচুপি হয়েছে, যা গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এতে প্রমাণ হয়েছে, বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামীতে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজাতে হবে। 

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। কোনো মানেরই হয়নি। নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা আগামীতে কি এ ধরনের নির্বাচন করবে নাকি ভুলগুলো সংশোধন করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ অবস্থা থাকলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু হবে না। সেই নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার মনে হয় না। 

বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি নয়া দিগন্তকে বলেন, রাজনীতিবিদেরা যেভাবে তিন সিটি নিয়ে ভোটের সমীকরণ করেছিলেন, আসলে সেভাবে হয়নি। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের ওপরই ভোট নির্ভর করেছে। নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে যে রকম প্লান-প্রোগ্রাম করা হয় সেভাবে কাজ হয়নি। এখানে কেউ হারেনি, আবার কেউ জেতেনি। কোনো দল হারেনি, আবার কোনো দল জেতেনি। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, সত্য ফুটে উঠেছে। সরকারের এখানে অনুধাবন করা উচিত গণতন্ত্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করার বিষয়টি। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। তিনি বলেন, সরকার যে কৌশল অবলম্বন করেছিল তা কাজে লাগেনি। জনগণের মতামতেরই প্রতিফলন ঘটেছে। বিএনপি-জামায়াতের বিভক্ত নির্বাচন প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা রনি বলেন, এটা বলা যায়, ভোটের ব্যাপারে কেউই খোলামেলা কিছু বলছে না। যেটা দৃশ্যমান তা হলো পর্দার আড়ালে এমন কিছু ঘটছে যা রাজনীতিতে শুভকর নয়। ছলচাতুরি করে রাজনীতি হয় না। সারা দিন একজনের কথা বললাম আর রাতে আরেকজনের কাছে গেলাম, এভাবে রাজনীতির মাঠে ভালো ফল বয়ে আনে না। 

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা আগেরবার ক্ষমতায় থাকতে ৫টি সিটি করপোরেশনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এবার আমরা ৪টিতে জিতেছি তারা জিতেছেন একটিতে। তারা এবার এক-পঞ্চমাংশ অংশে জিতেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৯০ ভাগ আমরা জয় করেছি। এর অর্থ সিটির ৫ ভাগের ৪ ভাগ জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন ও অর্জনের রাজনীতিত গ্রহণ করেছে। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিকে বর্জন করেছে। সিলেটে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের নামে বিএনপি গত কয়েক দিন নাটক আর তামাশা করেছে। তিনি বলেন, সিলেটে আমরা প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিলাম। আমি বলেছিলাম ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের জয় নিশ্চিত। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন অর্জন শহরগুলোর জনমনে প্রভাব ফেলেছে। সিলেটকে আমরা হার মনে করছি না, কারণ আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিলাম।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান নয়া দিগন্তকে বলেন, তিন সিটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি। ফলাফলে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। তিনি বলেন, বিএনপি হেরে গেলেও তারা নির্বাচনমুখী হয়েছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে বিএনপি নির্বাচনে হারলে কারচুপির অভিযোগ আনে। তারা বলে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আর জিতলে বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এটা তো গণতন্ত্র হতে পারে না। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নির্বাচন করলে তো হারজিত থাকবে। এটা মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, সারা দেশের ও বিশ্বের লোকজন জানে বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে কী হয়। এটা আসলে নতুন করে বলার কিছু নেই। 
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো: শামসুজ্জামান দুদু নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে নিবাচন বলতে যা বোঝাই এখানে তার কিছুই হয়নি। এটাকে বলে তামাশার নির্বাচন। বরিশালে ভোট চুরি করতে করতে আওয়ামী লীগ ক্লান্ত হয়ে গেছে। সরকার আসলে নির্বাচনে ভয় পায়। ফলে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন-ব্যবস্থা সরকার ভেঙে ফেলেছে। তিনি বলেন, দেশে স্বাভাবিক নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আমূল পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সিলেটে বিএনপি প্রার্থীর জয়লাভ প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এখানেও আ’লীগ ভোট ডাকাতি করতে করতে জনগণের সাথে আর পেরে ওঠেনি।

আরো পড়ুন :

তিন সিটিতে পুনর্নির্বাচন দাবি বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক
গত সোমবার অনুষ্ঠিত তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে তামাশা ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন বলছে বিএনপি। দলটি বলছে, এ তামাশা ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি এবং অবিলম্বে এ ফল বাতিল করে নতুন নির্বাচন প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অনাচার, ভোট জালিয়াতি ও ভোট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপির উদ্যোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে।

সিলেটের নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সিলেটে এখন পর্যন্ত ফলাফলটাকে ঝুলিয়ে রেখেছে। আপনারা জানেন, সেখানে আমাদের প্রার্থী এবং আমাদের দল একটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিল বলেই কিন্তু সব জায়গায় তারা সব কিছু করতে পারেনি। তারপরও সিলেটে কিভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে তা আপনারা নিজেরাই দেখেছেন। সিলেটে ১২টি কেন্দ্রে ১০০% ভোট কাস্ট হওয়ার পরও শতাধিক ভোটার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ব্যালেট পেপার না থাকায় তাদের ফিরে যেতে হয়। এটা তামাশা। নির্বাচন ব্যবস্থাকে তারা তামাশায় পরিণত করেছে।
ভোট ‘ডাকাতি’ না হলে তিন সিটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা ‘লক্ষাধিক ভোটে’ জয়ী হতেন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের নাটক শেষ হলো। এ নির্বাচনে আমাদের কথাই সত্য প্রমাণিত হলো-শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না। প্রমাণিত হলো এ অযোগ্য নির্বাচন কমিশিনের পরিচালনায় কোনো নির্বাচনেই জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব নয়। গাজীপুর ও খুলনার মতো এ তিনটি সিটি করপোরেশনে ভোট চুরি বা কারচুপি নয়, ভোট ডাকাতির মহৌৎসব অনুষ্ঠিত হলো। 

তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নয়, প্রতিপক্ষ এ অবৈধ সরকারের প্রশাসন এবং অযোগ্য নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচন কমিশন পুলিশের মতোই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। শুধু নির্বাচনের দিনে নয়, শিডিউল ঘোষণার দিন থেকেই পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি, হুমকি ও ভয় দেখিয়ে বিরোধী দলের কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে রাখা, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব আইন ভঙ্গ, শত শত অভিযোগে কোনো কর্ণপাত না করে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন গোটা নির্বাচনব্যবস্থাকে আবারো ধ্বংস করল। 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকেই আমরা বলে এসেছিÑ এ কমিশন আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট এবং অযোগ্য। তারা আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশের নির্যাতন বন্ধ করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মানতে পুলিশকে বাধ্য করতে পারেনি। বরিশালে কয়েক দিন আগে থেকেই বাইরে থেকে হাজার হাজার আওয়ামী কর্মী জড়ো করা হয়েছিলÑকেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করছে। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করছে। লক্ষ্য একটিÑএকদলীয় শাসনব্যবস্থা ভিন্নরূপে প্রতিষ্ঠা করে চিরদিন ক্ষমতায় থাকা। আওয়ামী লীগ এখন একটি গণবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তারা জয়ী হতে পারবে না বলেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করে তারা জাতীয় সংসদের নির্বাচন করতে চায়। ২০১৪ সালের মতোই একতরফা নির্বাচন করার নীলনকশা করছে। জনগণ তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই গণতন্ত্রের মাতা আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধীদলীয় সব বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণস্বাধীন করতে হবে। জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সরকারকে আহ্বান জানাব, কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে উপরিউক্ত দাবিগুলো মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। 

সংবাদ সম্মেলনে তিন সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজশাহীর আশপাশের উপজেলাগুলো থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার লোক আনা হয়েছে। ২৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে সব ধরেনের যানবাহন বন্ধ। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার, বাড়িতে বাড়িতে হানা ও হুমকি বন্ধ হয়নি। পুরুষদের না পেলে মেয়েদের থানায় নিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং ধানের শীষের ২৪ জন এজেন্ট নিখোঁজ রয়েছেন বলে আমাদের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেছেন।

বরিশালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ধানের শীষের ব্যাজ লাগিয়ে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্টরা কাজ করেছে। ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ারকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশের সহায়তায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের এজেন্টদের প্রায় সব কেন্দ্র থেকেই বের করে দেয় এবং অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের মারধরও করা হয়। কোথাও কোথাও ধানের শীষের এজেন্টদের সামনেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নৌকা মার্কার ব্যালট পেপারে দেদার জাল ভোট দিয়ে বাক্সে ঢুকিয়েছে। ধানের শীষের সমর্থকদের ব্যালট পেপার নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে গণমাধ্যমের কর্মীদের ওপরও আক্রমণ করা হয়েছে। বাসদের মেয়র প্রার্থী ডা: মনিষা চক্রবর্তীকে শারীরিকভাবে আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ইভিএমে ভোট দিতে ঢুকেছিলেন একজন পুরুষ। বরিশালে আওয়ামী লীগ ছাড়া সব প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। বরিশালের নৌকা মার্কার প্রার্থী যেহেতু ক্ষমতাশালী পরিবারের সদস্য, সেখানে সরকারের বাহিনীগুলো তার পক্ষে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করেছে। ব্যালট পেপারে হাত পাখার কোনো প্রতীকই ছিল না। ভোটের দিনের দু-তিন আগে থেকে পুলিশ প্রতিদিনই বরিশালে প্রায় ২০০ বিএনপি নেতাকর্মীর বাসায় হানা দিতো।

সিলেটেও প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের কমবেশি বের করে দেয়া হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টরা অভিযোগ করলেও প্রিজাইডিং অফিসাররা তা কানে তোলেননি। ভোটকেন্দ্র দখল করে গোলাগুলি করেছে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী। এতে ধানের শীষের দুইজন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্য দুই সিটি করপোরেশনের মতো এখানেও ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কায় একচেটিয়া সিল মারার উৎসবও চালিয়েছে আওয়ামী ক্যাডাররা। তিন সিটি নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয়নি; বরং সরকারের অধীনে কমিশন কাজ করেছে। আগে র নির্বাচনগুলোতে ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হতো, কিন্তু এবারে সাংবাদিকদের সে সুযোগ দেয়া হয়নি। প্রায় ২০০’র অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ১০০০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে।


আরো সংবাদ