১৮ এপ্রিল ২০১৯
ভুল তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগ

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মঙ্গলবার

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি মঙ্গলবার - সংগৃহীত

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা ও ভুল তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি  মঙ্গলবার ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। গত ১১ জুলাই জামিন আবেদনের শুনানির এ দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো: ইমরুল কায়েসের আদালত।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি হবে। গত ১১ জুলাই আদালত আগামী ৩১ জুলাই জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেন।

মানহানির দুই মামলায় জামিন আবেদনের বিষয়ে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, গত ৫ জুলাই বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়।

গত ৫ জুলাই জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের আদালত এবং জন্মদিন পালনের মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলমের আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

গত ৬ জুন প্রকাশিত হাইকোর্টের এক আদেশে বলা হয়, জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে ভুল তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর ও জামিন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। একইসঙ্গে এ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চের এক লিখিত আদেশে এ মন্তব্য করা হয়। গত ৩১ মে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন আদালত।

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ভুল তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

অন্যদিকে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় গত ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আরো পড়ুন :  খালেদা জিয়ার রিভিউ আবেদনের আদেশ মঙ্গলবার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানিতে সময় বৃদ্ধি চেয়ে রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। এ সময় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, রাগীব রউফ চৌধুরী, মো: ফারুক হোসেন, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রফী প্রমুখ।

গত ১৬ মে এক আদেশে আপিল বিভাগ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে খালেদার করা ওই আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়ে খালেদা জিয়া আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই এক আদেশে আপিল বিভাগ বলেন, বিষয়টি (খালেদার পুনর্বিবেচনা আবেদন) ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখা হলো। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যদি শুনানি (খালেদার আপিল) শেষ না হলে, সময়ের প্রার্থনা বিবেচনা করা হবে। এরপর সময়ের মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে ২৬ জুলাই আবেদন করেন খালেদার আইনজীবীরা।

কুমিল্লার হত্যা মামলায় জামিন প্রশ্নে রুলের শুনানি শেষ, আদেশ বুধবার: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাসহ দুই মামলায় জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি গতকাল শেষ হয়েছে। বুধবার আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সোমবার খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে রুলের শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিশেষ কারণে আমরা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছি। খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কারাগারে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন। রাজনৈতিক কারণে নিম্ন আদালত তার জামিন আবেদনের শুনানি দুই মাস পরে দিয়েছে। সে কারণে ন্যায় বিচারের জন্য আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয়েছি।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমরা জামিনের জন্য গিয়ে ছিলাম। সেখানে নামঞ্জু হলে জজ কোটে যাই। জজ কোর্ট জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দুই মাস পরে তারিখ দেয়। এরপর আমরা জজ কোর্টে আবেদন নট প্রেসড করে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে হাইকোর্ট জামিন দেন। ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী এ মামলায় হাইকোর্টের (কনকারেন্ট জুরিসডিকশন) জামিন শুনানি ও জামিন দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে। হাইকোর্ট আইনগতভাবে তা প্রয়োগ করে জামিন দিয়েছেন এবং আপিল বিভাগ এখতিয়ার আছে কি না তা নির্ধারণ করতে হাইকোর্টকে বলেন। জামিনের দরখাস্ত জজ কোর্টে নট প্রেসড করার জন্য পূর্বে আবেদন করা হয়। গত ৭ জুন ওই আবেদনের ওপর আদেশ দেয়া হয়। সেই ক্ষেত্রে হাইকোর্টে জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণে কোনো বাধা ছিল না।

খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে নুরুল ইসলাম বাবুল, পাকিস্তান ও ইন্ডিয়ার কয়েকটি নজির তুলে ধরে বলেন, হাইকোর্ট জামিন দিতে পারেন। আর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন সট প্রেসড থাকা অবস্থায় হাইকোর্টে জামিন হবে না।

শুনানির সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, জয়সুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, মাসুদ রানা প্রমুখ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অন্যদিকে কুমিল্লার নাশকতার অভিযোগে এক মামলায় জামিন প্রশ্নে রুলের শুনানি আজ মঙ্গলবার নির্ধারণ করেছেন একই আদালত।
এর আগে গত ২ জুলাই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা হত্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে জামিন বিষয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। গত ২৮ মে কুমিল্লার নাশকতার দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পান খালেদা জিয়া।

খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালাস চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার আপিলের একাদশ দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদা জিয়ার পক্ষে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে দুপুরে এক ঘন্টা বিরতি দিয়ে বেলা ৪টা পর্যন্ত শুনানি করেন তার দুই আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও আবদুর রেজাক খান।

গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নি¤œ আদালতের রায় এবং তদন্ত কমর্কতার সাক্ষ্যের ওপর শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও আবদুর রেজাক খান। এরপর আজ বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।

শুনানির সময় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, জয়নুল আবেদীন, আমিনুল ইসলাম, কায়সার কামাল, আবেদ রাজা, রাগীব রউফ চৌধুরী, মো: ফারুক হোসেন, জাকির হোসেন ভূইয়া, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, মির্জা আল মাহমুদ প্রমুখ। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ বিচার শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদ- দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন (১৬৭৬/২০১৮) দাখিল করেন খালেদা জিয়া। এ আপিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া জরিমানার রায় স্থগিত করেন। পরবর্তীতে গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চারমাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এ জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ।

এ আবেদনে গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al