২৩ জুলাই ২০১৯

কেন্দ্রে অবস্থান, ব্যালটের হিসাব চান বুলবুল

নির্বাচন
কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন বুলবুল - ছবি: সংগৃহীত

বেলা একটার দিকে রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তার অভিযোগ যে, সেখানে মেয়রের ব্যালট শেষ হয়ে গেছে। তাই ব্যালটের হিসাব চেয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন । তিনি বলেছেন, ব্যালটের হিসাব না পেলে তিনি সেখান থেকে যাবেন না।

রাজশাহী থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, শিরোইন গর্ভমেন্ট হাইস্কুলের দুইটা সেন্টারের ভোর ৬টার দিকে বিএনপির ১৭ এজেন্ট এসে বসেছিলেন। তাদের অভিযোগ, তাদের কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভোরে আসার পরেও তাদের আইডি কার্ড দেয়া হয়নি। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। তখন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ছুটে যান। তিনি দেনদরবার করে এগারোটার দিকে এজেন্টদের প্রবেশ করিয়ে দেন।

আরো পড়ুন :
অবরুদ্ধ ভোট কেন্দ্র, সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
শামছুল ইসলাম, রাজশাহী থেকে
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কয়েকটি কেন্দ্র অবরুদ্ধ করে রাখে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। ঐ কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের। পুলিশের সহযোগিতায় তাদের চড়-থাপ্পড় মেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি এলাকার চিহ্নিত জামায়াত ও বিএনপির ভোটারদের। সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও প্রকাশ্য সীল দিতে বাধ্য করেছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। সকালে প্রতিবেদককে লাঞ্ছিত করে বের করে দেয়ার পর দুপুরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি কয়েকজন সাংবাদিককে। ক্ষমতাসীন দলের একই কর্মীদের সহযোগীর ভূমিকা পালন করে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা।

সকাল থেকেই নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডের বিনোদপুর ইসলামীয়া কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছেনা এমন অভিযোগ আসে। ওই ওয়ার্ডের ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থীও প্রধান এজেন্ট রবিউল ইসলাম অভিযোগ, তার প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট উজ্জল, মেরাজ, রশীদ, মাসুদ ও ফিরোজ এজেন্টের দায়িত্ব পালন করতে কেন্দ্রে যায়। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মীরা তাদের চড়-থাপ্পড় মেরে বের করে দেয়। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে। মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যে মেয়র পদের ব্যালটে পড়েছে ৫৬টি ভোট। ব্যালটের কয়েকটি অবশিষ্ট অংশে (মুড়ি) দেখা যায়নি ভোট দাতার টিপসই বা স্বাক্ষর। যদিও ওই বুথেই কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর ব্যালটে পড়েছে ২৫ ভোট।

পোলিং অফিসারদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সাদ্দামের নেতৃত্বে একদল জালিয়াতিকারী এই প্রতিবেদককে লাঞ্ছিত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

এরপর আবারো শুরু হয় জাল ভোটের উৎসব। সকাল ১১টার দিকে ওই কেন্দ্রের মেয়র পদের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। এ খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা কেন্দ্রে আসলেও তাদের বুথে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ কেন্দ্রে নৌকা সমর্থকদের ১০ থেকে ১৫ জনের একেকটি গ্রুপ ব্যালট পেপার বাইরে নিয়ে সিল মেরে আবার ভিতরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আর তা করছে পুলিশের সামনেই। এ ব্যাপারে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল্লাহিল শাফি বলেন, বুথের ভিতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া যাবে না। উপর থেকে নিষেধ আছে।

কার অনুমতি লাগবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, তা আমি বলতে পারবো না। তবে আমি আপনাদের ভিতরে যেতে দিব না।

ব্যালট বই ছেড়া কেনো জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ওগুলোর ভোট শেষ হয়ে গেছে।’

এরপরে ঢাকা রেঞ্জের আজাদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের শাসিয়ে বলেন, আপনারা এখানে আসছেন ভালো কথা। ভিতরে যেতে পারবেন না।

একইভাবে এর পাশের শাহারা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভিতরেও সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়নি প্রিজাইডিং অফিসার রঞ্জিত কুমার শাহ। এ কর্মকর্তা বলেন, আপনাদেরকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া বুথের ভিতরে যেতে পারবেন না। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ডাশমারী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানেও সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi