১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে ঢাকা থেকে ১৩৯ পুলিশকে সিলেটে আনা হয়েছে : আরিফুল হক

বিএনপি
ফাইল ছবি - ছবি : আর্কাইভ

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) থেকে ১৩৯ জন পুলিশকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পবিত্র এই মাটিতে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করলে এই নগরের মানুষ তা মেনে নেবে না।’

শনিবার রাত ১১টায় সিলেট নগরীর কাজিটুলা এলাকায় বিএনপির প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আগামীকাল সোমবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে মামলা ও গ্রেফতারের শঙ্কায় রয়েছে বিএনপি।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়। আমাদের দলের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) থেকে ১৩৯ জন পুলিশকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের এই স্বপ্ন কোনোভাবেই পূরণ হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাককে পুলিশ নগরের মীরবক্সটুলা এলাকা থেকে প্রচারণা চালানোর সময় সাজানো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এসব বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি। সিলেটে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করছে না।’

আরিফ বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে অন্যায় করা হচ্ছে, আমি এর বিচার ভোটারদের কাছে দিয়ে দিলাম। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, শান্তিপূর্ণ এই নগরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা যেন না করা হয়।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্র থেকে রেজাল্ট ঘোষণা না করা পর্যন্ত তোমরা কেন্দ্র ছাড়বে না।’

আরো পড়ুন :
সিলেটে মাঠে নেমেছে বিজিবি : ৮০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ন
সিলেট ব্যুরো, ২৮ জুলাই ২০১৮
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের নিরাপত্তায় শনিবার দুপুর থেকে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নেমেছে।

বিজিবি, সিলেট সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল মো. নাসির উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আরও চার প্লাটুন বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। তারা নির্বাচনের দিন স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম হিসেবে কাজ করবে।

সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. অলিমুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজিবির সাথে র‌্যাবের ২৭টি টিম কাজ করবে। এছাড়া পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরাও থাকবেন।

সিসিকে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের ৮০টিই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। এ কেন্দ্রগুলোতে ২৪ জন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি কেন্দ্রগুলোতে থাকবেন ২২ জন করে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানান, ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে দুই হাজার ৯৪৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

অর্ধশত ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন
নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিলেটে নেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা। নগরের ২৭টি ওয়ার্ডে অর্ধশত বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ১৫ জন। ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। এর বাইরেও নির্বাচনের দিন নির্বাচন কমিশনের ১০টিরও বেশি ভিজিল্যান্স টিম মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি নির্বাচনে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা।

তিনি বলেন, একজন করে উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে সাতজন পুলিশ সদস্য, একজন করে ব্যাটালিয়ন আনসার, একজন করে অঙ্গীভূত আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি), একজন করে সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) ও ১২ জন করে আনসার (তার মধ্যে পূরুষ সাতজন ও নারী পাঁচজন) অর্থাৎ মোট ২২ জন করে ফোর্স প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে। সে হিসেবে প্রায় তিন হাজার ফোর্স মোতায়েন চেয়েছে কমিশন।

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৭টি ওয়ার্ডে ৯২৬টি ভোট কক্ষে তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন প্রার্থী ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

জনগণ ভালোবেসেই ভোট দেবে : আরিফুল
সিলেট ব্যুরো, ২৭ জুলাই ২০১৮
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী’র সমর্থনে শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া, নগরীর বন্দরবাজারস্থ করিম উল্লাহ মার্কেটের সামনে, কুয়ারপাড় পয়েন্ট, কাজীটুলা, নয়াসড়ক পয়েন্ট থেকে শুরু করে জেল রোড হয়ে মহাজনপট্টি, কালিঘাটের ছড়ারপার, মাছিমপুরের কুড়িপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন আরিফুল হক চৌধুরী।

পথসভায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মানুষের কল্যাণে এবং নগরীর উন্নয়নে কাজ করলে জনগণের কাছে ভোটের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন করলে জনগণ ভালোবেসেই ভোট দেবে।

আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, মানুষের উন্নয়ন তথা নগরীর উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্যই মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। যারা আমার দায়িত্বকালের মূল্যবান তিনটি বছর কেড়ে নিয়েছে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগন তার জবাব দেবে।

কাজীটুলায় আয়োজিত পথসভায় সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট ফজলুর রহমান নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনকে একটি সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য আহবান জানান। তিনি প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহবান জানান।

পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সেক্রেটারী ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান।


আরো সংবাদ