২০ জুন ২০১৮

সিল মারা ব্যালট কেড়ে নিলেন মঞ্জু (ভিডিওসহ)

ব্যালটে সিল মারা -

জালভোট দেয়ার অভিযোগে খুলনা সিটি নির্বাচনের ৩টি কেন্দ্রে ও একটি বুথে ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

জালভোট দেওয়ার পর খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডে দুটি ভোট কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এগুলো হলো রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

এর আগে একই ঘটনায় ২৪নং ওয়ার্ডের সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং ২২নং ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি বুথে ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়।

দুপুরের দিকে রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে মঞ্জু দেখতে পান নৌকার সমর্থকরা জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করেছে। এ সময় তিনি ১০০ সিল মারা ব্যালট পেপার কেড়ে নেন। পরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ইবনুর রহমান সেখানে ভোট স্থগিত করেন।

সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোশাররফ হোসেন বলেন, অতর্কিত ১০ থেকে ১২ জন লোক রুমে প্রবেশ করে। তার আমার কাছে থাকা একশ’ ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকায় সিল মারে। পরে সেটা বক্সে ভরে চলে যায়। আমি বাধা দিলে তারা আমাকে হুমকি দেয়।

৩০ কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ মঞ্জুর
ভোট শুরুর প্রথম ঘন্টায় ৩০টি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

সকাল পৌনে ৯টায় রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান শেষে এ অভিযোগ করেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, এসব অভিযোগ জানাতে রিটার্নিং অফিসারকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তিনি বলেন, জনগন এ নির্বাচন চায়নি। এখনো সময় আছে। ২২ নম্বর, ২৯, ৩০, ৩১, ২৮,২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বহু কেন্দ্রে সরকারি দলের ক্যাডাররা দখল করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি তারপরেও শেষ পর্যন্ত থাকবো। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে মেন নেব। ভোট ডাকাতির নির্বাচন মেনে নেব না।

মঞ্জুর আশঙ্কাই কি সত্যি হচ্ছে?
শামছুল ইসলাম, খুলনা থেকে
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের তৎপরতা থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে বেশ সন্দেহ রয়েছে। সোমবার রাতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে ব্যক্তিগত আলাপ চারিতায়ও মঞ্জুর আশঙ্কার সাথে মিল পাওয়া গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর বিএনপির কোন আস্থা নেই। নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণেও দৃশ্যমান কিছু দেখাতে পারছেনা ইসি। তাই খুলনা সিটি করপোরশেন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করে এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায় তারা। কিন্তু মাঠ প্রশাসনের কাছ থেকে তারা কোন সহযোগীতা পাচ্ছে না। তফসিল ঘোষণার পরেও ইসির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেনা পুলিশ। এতে করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মীনয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। ভোটের দুই দিন আগে বিএনপির প্রার্থী তাদের ১৩০ জনকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন।

যদিও খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর বলছেন, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দৃষ্টিতে তারা শুধুই আসামি, রাজনৈতিক কর্মী নয়।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও আটক করছে পুলিশ। শতাধিক কেন্দ্রে কারচুপির আশঙ্কা করছি। তবে আমরা পিছু হটব না। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনোভাবেই ভোট কেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা চাই, দেশের মানুষ দেখুক, বিএনপির বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ কতটা মরিয়া।

গত ২৪ এপ্রিল ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকেই মঞ্জুর অভিযোগ ছিল, তিনি নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারছেন না। তার কর্মী-সমর্থকদেরকে হয়রানি করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোটের আগের রাতেও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা দেন মঞ্জু। কেএমপি কমিশনার, পাঁচ থানার ওসি, ডিসি ডিবি প্রত্যাহার এবং হোটেলগুলোতে বহিরাগতদের ধরতে তল্লাশি চালানোর দাবি জানিয়েছে।

দেখুন:

আরো সংবাদ