১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
বিদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বাকৃবিতে ৯ দফা দাবিতে চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক বিদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতি ও হেলথ কেয়ার সেন্টারের অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নয় দফা দাবিতে গত রোববার থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তারা। বুধবারও ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।

এর আগে গত সোমবার বিকেল তিনটার সময় ভিসি দাবির বিষয়ে সময় চাইলে মঙ্গলবার বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবন সংলগ্ন সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কেউ তাদের সাথে কথা বলতে না আসায় বুধবারও ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করছেন তারা। গত দুইদিন থেকে ক্লাশ, ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

বাকৃবির নিহত বিদেশি শিক্ষার্থীর নাম হারানি জানাকি রামান। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন। হারানি শুক্রবার রাত ২টায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় হারানি অসুস্থতা বোধ করেন। তাৎক্ষণিক তাকে বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ কেয়ার সেন্টারে নেয়া হয়। তবে সে সময় হেলথ কেয়ার সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় অটোতে করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টায় মৃত্যুবরণ করেন হারানি। ওই ছাত্রীর মৃত্যুর জন্য হেলথ কেয়ার সেন্টারের অব্যবস্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে বিক্ষোভ জানান তারা।

আন্দোনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হল- দায়িত্বে অবহেলার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর এবং ভেটেরিনারি অনুষদের ডিনের পদত্যাগ, হেলথ কেয়ারে অভিজ্ঞ ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আন্দোলনকারীদের হয়রানি না করা, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ইউনিটের ব্যবস্থা করাসহ নয় দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হারানির মৃত্যুতে জড়িতদের সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। আমরা কোন আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে যাব না। অতিদ্রুত দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে লিখিত দিতে হবে। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেক আশ্বাস দিলেও কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা প্রশাসনের মুখের কথায় ভরসা করতে পারছি না। বুধবার সকাল ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো: জসিমউদ্দিন খানকে প্রধান করে পাঁচ সমস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান প্রফেসর ড. মো: জসিমউদ্দিন খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. লুৎফল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে আমি আন্তরিক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু করতে হবে। সে লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাশে ফিরে যাওয়ার আহ্ববান জানান।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik