১৭ নভেম্বর ২০১৯

জাবিতে হামলায় আহত ছাত্রীর লোমহর্ষক বর্ণনা

তলপেটে লাথির আঘাতে এখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অনার্স ফাইনাল বর্ষের ছাত্রী মারিয়াম ছন্দা - ছবি : নয়া দিগন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গত ৫ নভেম্বর অতুর্কিত হামলা চালায় ভিসি পন্থী শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রলীগ। হামলায় আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অনার্স ফাইনাল বর্ষের ছাত্রী মারিয়াম ছন্দা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, তার উপর সেদিনের আক্রমণের লোমহর্ষক ঘটনা।

মারিয়াম ছন্দা জানিয়েছেন, তার তলপেটে আক্রমণকারীদের লাথির আঘাদের কারণে তিনি এখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না। ইতোমধ্যে দুই দফা এক্সরে ও একবার আন্ট্রাসোনোগ্রামও করা হয়েছে। এখনো ব্যথা আছে। চিকিৎসক সাত দিনের ব্যথার ওষুধসহ আরো কিছু ওষুধও দিয়েছেন। এখন সেগুলোই চলছে। সাত দিন পর ডাক্তার আবার দেখে ব্যবস্থাপত্র দেবেন।

আমলায় আহত এই শিক্ষার্থী জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সৈরাচারি মনোভাবেরই প্রতিবাদন করেছিলাম আমরা। আমাদের আন্দোলনেরে সাথে আছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রী, সাংস্কৃকিত জোট ও বামপন্থী জোটসহ সবাই। আমাদের আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য যে ১৪৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল সেই টাকার ব্যবহার নিয়ে। আমরা দেখেছি এই টাকা ব্যবহারে যথেচ্ছ অনিয়ম হয়েছিল। নির্বিচারে ক্যাম্পাসের গাছ কাটা হচ্ছিল। আমরা এরই প্রতিবাদন করেছি মাত্র। ছাত্রলীগের সাথে ভিসির টাকা লেনদেনের ফোনালাপও প্রকাশ পেয়েছে। আমরা অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে ছিলাম মাত্র।

তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেকগুলো কর্মসূচী পেরিয়ে গত ৫ নবেম্বর ছিল আমরা ভিসিকে অবরুদ্ধ করবো। সেই সুবাধে আমরা ৪ তারিখ থেকেই ভিসির বাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। আমরা প্রতিবাদী গান ও কবিতা আবৃত্তি করছিলাম। একটা সময়ে আমরা মেয়েরা হলে চলে যাই এবং ছেলেরাও অনেকে ফ্রেশ হতে হলে চলে যায়। ঠিক এই সময়টাকেই টার্গেট করা হয় আমাদের উপরে হামলা করার জন্য। কারা হামলা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, হালমা হতে পারে এমন আশংকায় আমরা ভিসির বাড়ির সামনে শুয়ে প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু প্রথমে ভিসি পস্থী শিক্ষক ও কর্মচারীরা আমাদের উপরে হামলে পড়ে। তারা আমাদের সাথে থাকা কয়েকজন স্যারকেও তারা আঘাত করে।

আন্দোলনকারীরা প্রথমে আমাদের সাথে থাকা রায়হান স্যারকে ধরে দুরে সরিয়ে নিয়ে যায়। কবির স্যারকে ধরে নিয়ে য়ায়। তারা একটি কৌশল নেয় যে তারা একে একে আমাদের সাথে থাকা স্যারদের ধরে নিয়ে যাবে। আমাদের বিশ্বাসই ছিল না যে তারা মেয়েদের গায়ে হাত দেবে । কিন্তু আমাদের সেই ধারনা কিছু সময় পরেই মিথ্যা হয়ে যায়। তারা আমাকে পেছন থেকে লাথি মারে। এ সময়টাতে আমরা অন্যদের বেরিকেট দিয়ে রেখেছিলাম। যাতে অন্যদের ওরা মারতে না পারে। কিন্তু তারা আমাদের মেরে সরিয়ে দেয়।

লাথির আঘাতে আমি নিচে পড়ে যাই। প্রথমে আমার সহপাঠীরাই আমাকে অ্যাম্বুলেন্স করে হাসপাতালে পাঠায়। আমারে দুই দফা এক্সে করা হয়েছে। তবে পরে আন্ট্রাসোগ্রামও করা হয়েছে। সাতদিনের ওষুধ দেয়া হয়েছে । আমি এখনো সোজা বা হাটতে বা দাঁড়াতেও পারছি না। আমাকে সাত দিনের ওষুধ খাওয়ার পর চিকিৎসক পুনরায় ব্যবস্থাপত্র দেবেন।


আরো সংবাদ