২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

স্বপ্ন যাদের সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী -

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক তার সদস্য ৮টি দেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে প্রতিষ্ঠা করে সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি। ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি সার্ক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই অধিক পরিচিত।

সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন সার্কভুক্ত আট দেশের শিক্ষার্থীরা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন বাংলাদেশের বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী। যে কারো জন্য মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ রয়েছে এখান থেকে।

‘সীমানাহীন জ্ঞান’ এই স্লোগান নিয়ে ২০১০ সালের আগস্টে মাসে ইকোনমিক্স ও কম্পিউটার সাইন্স, এই দুই বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়। নয়া দিল্লির কুটনৈতিক এলাকা চাণক্যপুরীর আকবর ভবনে অবস্থিত ক্যাম্পাস।

প্রথমে ২টি ডিপার্টমেন্টে মাস্টার্স কোর্স দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে কম্পিউটার সাইন্স, বায়োটেকনোলজি, ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস, আইন, সমাজবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ মোট ৮ বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষা
একই দিনে ৮টি সার্কভূক্ত দেশে একই সময়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়া হয়। ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশ থেকে বিষয় অনুযায়ী সুযোগ প্রাপ্তদের ও অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

প্রতি বছর জুলাই-আগস্টে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন চলে মার্চে মাসের পুরোটা জুড়ে। আবেদনের সকল খবরাখবর ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট www.sau.int ও সার্কের ৮টি দেশের রিজিওনাল অফিসের মাধ্যমে প্রত্যেকটি দেশের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফি ১০ মার্কিন ডলার অনলাইনে কিংবা ৮০০ বাংলাদেশি টাকা স্থানীয় নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট তারিখে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

ভর্তির যোগ্যতা
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিষয়সমূহে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ৩/৪ বছরের অনার্স ডিগ্রিতে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। যা সিজিপিএ তে হিসেব করলে ২.৫০। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিষয় সমূহ- সমাজবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি ও আইন। আর বিজ্ঞান অনুষদে বিষয়সমূহে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ৫৫ শতাংশ নম্বর লেভেলে থাকতে হবে। যা সিজিপিএতে হিসেব করলে ২.৬০।

ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে ৫০ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকে ভারতের শিক্ষার্থীদের জন্য। এছাড়া ১০ শতাংশ করে আসনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন। অন্যদিকে ৪ শতাংশ করে আসনে আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকা ভূটানের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে। আর ১০ শতাংশ আসনে সার্কের বাইরের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে।

আসন সংখ্যা
মাস্টার্স কোর্সে প্রতিটা বিভাগে আসন সংখ্যা ৩০টি। এর মধ্যো কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৩টি। পিএইচডির জন্য আসন সংখ্যা ৬ টি। ৩টি আসন ভারতের জন্য আর বাকি ৩ টি অন্য সদস্য দেশগুলোর জন্য।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি
মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সময় ৩ ঘণ্টা। পিএইচডি এর জন্য লিখিত পরীক্ষা শেষে ভাইভা ও রিসার্চ প্রপোজাল সাবমিট করতে হয়। ভাইভা ও রিসার্চ প্রপোজাল এর ভিত্তিতে পিএইচডিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

স্কলারশিপ
এখানে ভর্তি পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে কয়েক ধরণের (মাস্টার্সে) স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। প্রেসিডেন্ট স্কলারশিপ, সার্ক সিলভার জুবিলি স্কলারশিপ, মেরিট স্কলারশিপ ইত্যাদি। এই স্কলারশিপ প্রাপ্তদের সুবিধাসমূহ হলো- পড়ার কোন খরচ নেই, হোস্টেলে থাকা ফ্রি ও খরচের জন্য প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করা হয়।

নিজ খরচ পড়তে চাইলে প্রতি সেমিস্টারের জন্য প্রয়োজন ৪৪০ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে বছরে ২ সেমিস্টারে প্রয়োজন ৮৮০ ডলার।


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik