২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তি এখনো অনিশ্চয়তায়

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তি এখনো অনিশ্চয়তায় - ছবি : নয়া দিগন্ত

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির মতো অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি দেশের সব ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) সাথে বৈঠকে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। যদিও চলতি বছর থেকে দেশের কৃষিভিত্তিক সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। 

দেশের অপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সব সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে এখনো একমত হতে পারেনি। দেশের বড় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শত অনুরোধের পরও অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় একমত হতে পারেনি। এ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ’৭২-এর অডিন্যান্স দ্বারা পরিচালিত। তাদের স্বায়ত্তশাসনে খবরদারির কোনো সুযোগ নেই। ফলে চ্যান্সেলর, শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুরোধের ধার ধারে না এ তিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে অনাগ্রহের সুযোগ নিচ্ছে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। 

এ দিকে দেশের ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে। গত ১৭ জুলাই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের একটি অংশের শিক্ষাজীবনের এখানেই ইতি ঘটবে। বাকি শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই আস্থা বেশি। অর্থনৈতিক বিষয়টি বাদ দিলেও মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার জন্য বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তারা উদগ্রীব থাকেন। কিন্তু ভোগান্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী-অভিভাবক এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টরা দাবি করে আসছেন, পাবলিক বিশ্ববিদালয়গুলোতে অভিন্ন ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হোক। 

অপর দিকে দেশের উচ্চ শিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ (ইউজিসি) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার কথা বলা হলেও, বিড়ালে গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? এ ধরনের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল ঘোষণা হয়নি। কারা বা কে হবে এর নিয়ন্ত্রক? কাদের দ্বারা এ পরীক্ষা পরিচালিত হবে? ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কারা প্রণয়ন করবে? প্রশ্নের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে? সরকারের বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ জন্য কোনো কমিশন বা কাউকে বিশেষভাবে দায়িত্বও দেয়নি। ফলে কিভাবে শুরু হবে এ পদ্ধতিটি? এরূপ নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নয়া দিগন্তকে বলেছেন, গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার কথা বলা সহজ। কিন্তু কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এটি পরিচালিত হবে, এ ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা তো রয়েছেই। এ সব দিক নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল ঠিক না করে শুধু ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চান নীতিনির্ধারকেরা। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পৃথক ভর্তি পরীক্ষার জন্য অর্থ লাভের অভিযোগও আনা হয়েছে। শুধু বড় তিন বিশ্ববিদ্যালয়কে এককভাবে দায়ী করাটা সঠিক হচ্ছে না।

এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউজিসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহসহ একাধিক কমিশন সদস্য নয়া দিগন্তকে বলেন, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? আগে গুচ্ছভর্তির জন্য কর্মপরিকল্পনা করতে হবে। তারপর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে দেশের সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর থেকে গুচ্ছভর্তি শুরু করবে। এখন বিষয়টি অনেকটাই সহজ হবে। আশা করি আগামীতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ব্যাপারে ইউজিসিকে সহায়তা করবে। 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ নয়া দিগন্তকে বলেন, সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভর্তির সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ জন্য আমরা ছয়টি বৈঠক করেছি। যৌথ ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে আশা করি কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, গুচ্ছভর্তির ব্যাপারে বড় তিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া সবাই অনেকটাই একমত। আমরা (কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) শুরু করছি, দেখা যাক কী হয়। 

এ দিকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য যেসব প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি অনুসরণ বা অবলম্বন করা হয়, তা নিয়ে ভর্তিচ্ছুকদের ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শেষ নেই। মানসিক বা শারীরিক হয়রানির পর অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয় অভিভাবক ও ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের। গত শিক্ষাবর্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সৈয়দা আসমা বেগম নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নয়া দিগন্তকে বলেন, দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে, একজন প্রার্থীর অভিভাবককে শুধু আবেদনের জন্যই ৫০-৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হয়। এ ছাড়া সারা দেশের আনাচে-কানাচে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরিবহন ব্যয় এর চেয়েও বেশি খরচ হবে। ভর্তিচ্ছুক যদি মেয়ে হয় তাহলে তো তার জন্য আরো বেশি ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেনÑ দেশের কত শতাংশ মানুষ তার সন্তানের জন্য এত টাকা একসাথে ব্যয়ের সামর্থ্য রাখেন।


আরো সংবাদ

রাবিতে ডাইনিংয়ের খাবারে বড়শি ও কেঁচো, শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর জিম্বাবুয়েকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিলো আফগানিস্তান বিশেষ অভিযানে একসাথে ২৪ রোহিঙ্গা গ্রেফতার কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে অভিযান চলছে, র‌্যাব হেফাজতে বায়রার সহসভাপতি ফিরোজ সাড়ে ৩ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার জয়ের ধারা অব্যাহত রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ : শফিউল জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে ঢাকার রাজপথেও শিশুরা বিদায়ী ম্যাচে জার্সিতে নেই ‘মাসাকাদজা’ আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির হুমকিতে খেলতে আসছে না শ্রীলঙ্কার প্লেয়াররা : আফ্রিদি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বরগুনায় যুবদলের মানববন্ধন জবিতে মানবিক শাখার ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, শনিবার বিজ্ঞানের

সকল




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy