২১ আগস্ট ২০১৯

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহ এমপিওভুক্তিসহ ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতি। সোমবার স্মরকলিপি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন  সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান।

এসময় বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির নেতোরা তাদের ৫ দফা দাবি বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহে কর্মরত সকল-শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করণ, সরকারি কলেজের ন্যায় বেসরকারি কলেজে কর্মরত সকল শিক্ষককে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের সমান সুযোগদান, প্রতিটি বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে একটি করে ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ তথ্য-প্রযুক্তির সকল সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রতিটি বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের নামে একখ- নিস্কণ্টক জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া, জরুরি ভিত্তিতে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহে অধ্যয়নরত প্রশিক্ষণার্থীদের ও কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতে সহায়তা দানের বিষয়টি উখ্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বরাবার দাবিতে নেতারা বলেন, উন্নত বাংলাদেশ মানে বা টেকসই শিক্ষা। আর টেকসই শিক্ষা বাস্তবায়ন কিংবা অর্জন করতে হলে উন্নত শিক্ষক প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নাই। ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯৬ সাল থেকে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে এসব কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরে এসব কলেজ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক (প্রায় দুই লক্ষ) প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন, জাতীয় স্কেলে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা যাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জাতি গঠনে অবদান রাখলাম, শিক্ষকদের যারা শিক্ষক তাদেরকে আজও এমপিও কিংবা সরকারি কোনো আর্থিক সহযোগিতার আওতায় আনা হয়নি।

এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রশিক্ষকগণ বছরের পর বছর নামমাত্র বেতন কিংবা বিনা বেতনে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এসব শিক্ষক যে শুধু বেতন পাচ্ছেনা তাইনা এসব শিক্ষকদের দেশ-বিদেশের কোনো ট্রেনিং-এর সাথেও যুক্ত করা হচ্ছে না। শিক্ষকরাই যদি ট্রেনিংপ্রাপ্ত না হন তবে তারা উন্নত প্রশিক্ষক হবেন কিভাবে? আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। আমাদের বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর শিক্ষকদের মাঝে এখনও ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি। কারণ আমাদের শিক্ষকগণ আজও তথ্য-প্রযুক্তির উপর কোন ট্রেনিং পায়নি এবং কলেজগুলোতে ল্যাব কিংবা পাঠদানের জন্য কোন সহযোগিতা করা হয়নি।

আমরা মনে করি, আপনার দেয়া ভিশন ২০২১/২০৪১ বান্তবায়নে শিক্ষকগণই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে ৭১টি কলেজে প্রায় ১৫০০ শিক্ষক ও ১০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অধ্যয়ন করছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রশিক্ষণের প্রায় ৭৫ ভাগ বেসরকারি টিটি কলেজ দিয়ে আসছে। সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে এক ও অভিন্ন কারিকুলাম অনুসরণ করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আকাশ পাতাল বৈষম্য বিরাজ করায় উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।  

 

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet