১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমাজে জ্ঞানের গুরুত্ব কমে গেছে : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

-

শিক্ষার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আমাদের সমাজে জ্ঞানের গুরুত্ব কমে গেছে। সেই সাথে জ্ঞানের আগ্রহ না থাকায় শিক্ষার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
আলোচনা সভায় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের সমাজে জ্ঞানের গুরুত্ব কমে গেছে। জ্ঞান দরকার হয় না, জ্ঞান ছাড়াই অনেক কাজ করা যায়। সেই ক্ষেত্রে জ্ঞানের যদি মর্যাদা না থাকে সমাজে তাহলে শিক্ষার আগ্রহ কেমন করে বাড়বে, শিক্ষার মান কেমন করে বাড়বে?
শিক্ষার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুমের শিক্ষা এবং শিক্ষকদের গবেষণা- এই দুটি জিনিসই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি গবেষণা না করি তাহলে কি জ্ঞান সরবরাহ করব? কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তার মূল কাজ হচ্ছে শিক্ষাদান। এই শিক্ষাদানের বিষয়টি যদি আমরা দেখি তাহলে আমার নিজের অভিজ্ঞতা হচ্ছে সমস্যাটা অনেক। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহ কমেছে। এইটা খুব জরুরি। কেবল শিক্ষা দিলে হবে না দেখতে হবে যে ছেলে-মেয়েরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে কি না।
বেকারত্বকে অনাগ্রহের একটি বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার যেভাবে বাড়ছে সেটা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী করে না। দেখা যাবে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্ভিস প্রতিযোগিতা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকে। তার কারণ হচ্ছে তার জন্যে চাকরি হচ্ছে খুব জরুরি। কাজেই শিক্ষার এই সমস্যাকে আমরা বিচ্ছিন্নভাবে আলোচনা করতে পারব না। আমাদেরকে দেখতে হবে গোটা আর্থ-সামাজিক অবস্থাটা কি। এখানে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কী?
শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষায় বরাদ্দ খুব জরুরি। গবেষণা ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কিন্তু সামগ্রিক ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় আছে শিক্ষাখাতে যে ব্যয় বরাদ্দ সেটা বাড়ানো দরকার। জাতীয় বাজেটের শতকরা অন্তত ২০ ভাগ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত। এটি খুবই যুক্তসঙ্গত দাবি এবং আমাদের জিডিপির অন্তত দুই ভাগ শিক্ষাখাতে দেওয়া উচিত। এগুলো না বাড়ালে আমরা শিক্ষার মান বাড়াতে পারব না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি কিউএস র‌্যাংকিং নামে একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। কিউএস র‌্যাংকিং সমীক্ষা দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার মধ্যে ১২৭ তম অবস্থানে। হায়ার এডুকেশন দেখিয়েছে ৪১৭ টির মধ্যে নেই। এই র‌্যাংকিংগুলো কোন মানদণ্ডে হয় সেটা নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকবে।
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং ডাকসু নেতাদের মতামত আমলে নিয়েছেন উল্লেখ করে ভিসি বলেন, এই সকল মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রতিফলন ঘটুক। আমরা চাই ক্রমান্বয়ে উপরে উঠতে, ক্রম অগ্রগতি, ক্রম উন্নয়ন ঘটাতে। সেটি যদি ঘটাতে চায় তাহলে এইখানে অভিমত ব্যক্ত হয়েছে সেই অভিমতসমূহের প্রতিফলন রাখতে হবে।
ঢাবি সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফুর রহমান, বিটিভির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হারুন-অর-রশীদ এবং সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আফতাব উদ্দিন মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ডাকসু নেতৃবৃন্দ, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়বস্তুর ওপরে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি।

 


আরো সংবাদ

ফাঁসির রায় শুনে আসামি হাসে বাদি কাঁদে (১১৮৭৬৬)শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে ঢাবি অধ্যাপকের ফেসবুক স্ট্যাটাস (৪৮৭৫২)নতুন ভিডিও : রক্তাক্ত রিফাতকে মিন্নি একাই হাসপাতালে নিয়ে যান (৩২২৫১)শোভনকে নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মামুনের ফেসবুক স্ট্যাটাস (২৭১৯০)খালেদা জিয়া আলেমদের কিছু দেননি, শেখ হাসিনা সম্মানিত করেছেন : আল্লামা শফী (১৮০১৫)ওমরাহর খরচ বাড়ছে, সৌদি ফি নিয়ে ধূম্রজাল (১৭১৩৭)পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হলে দিলিপ ঘোষকে যশোহর পাঠিয়ে দেবো (১৬৮৮৩)এবার আমিরাতের জাহাজ আটক করলো ইরান (১৩৩৭২)‘মানুষকে যতটা আপন মনে হয় ততটা আপন নয়’ (১৩১৮০)নতুন ভিডিও : রক্তাক্ত রিফাতকে মিন্নি একাই হাসপাতালে নিয়ে যান (১২৮২২)