১৭ অক্টোবর ২০১৯

আত্মহত্যা চেষ্টার আগে স্ট্যাটাসে শোভন-রাব্বানীকে দূষলেন ছাত্রলীগনেত্রী

ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেত্রী জারিন দিয়া - সংগৃহীত

গত ১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনে মারামারির ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সোমবার রাতে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য জারিন দিয়াকে। হামলার শিকার হয়েও বিচার না পেয়ে উল্টো বহিষ্কার হওয়ার বিষয়টি মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয় দিয়াকে। তাই বহিষ্কারের তিন ঘণ্টা পর (রাত ১২টা) ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে একটি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তিনি। এর পর ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন জারিন দিয়া। স্ট্যাটাসে তিনি শোভন-রাব্বানীকেই দূষলেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও তাতে অভিযোগ আনেন তিনি। স্ট্যাটাসে তিনি যা লিখেছিলেন তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

জারিন দিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাস:
‘গত ১৩ তারিখ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার পর যখন দেখলাম আমার নামটি নেই, তখন ভাবলাম- হয়তো যোগ্য না। তাই হয়তো আমার নামটি দেয়নি। একপর্যায়ে শোভন ভাইকে ফোন দিলাম। ভাইকে বললাম, ভাই আমাকে কেন কমিটিতে রাখা হলো না? আমি শুনতে চেয়েছিলাম তিনি হয়তো বলবেন- আমি যোগ্য না। রাজনীতি করতে থাকো, পাবে একসময়। কিন্তু না...
ভাই আমাকে বললেন- তোকে অনেক রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাব্বানীর জন্য তোকে রাখতে পারিনি। রাব্বানী তোর ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ। আমাকে ভুল বুঝিস না। কথাটা শুনে কাঁদব না হাসব বুঝতে পারলাম না। তখন আমি শোভন ভাইকে বললাম- ব্যক্তিগত ক্ষোভের সেই ঘটনাটা। আরও বললাম, কোনো দিন যদি আপার সামনে যেতে পারি ভাই, আমি আপাকে একটা বার বলতে চাই- আপা সম্মেলনের আগে রাব্বানী ভাইয়ের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তখন ভাই আপনি কী উত্তর দেবেন? কোনো উত্তর দিতে পারেননি শোভন ভাই।
রাব্বানী ভাইকে অনেক বার ফোন দিয়েছি। উনি ফোন ধরেননি। তাই সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে আমার সঙ্গে রাব্বানী ভাইয়ের ক্ষোভের ঘটনাটি উল্লেখ করি। যেটা ভাইরাল হয়ে যায়। আজ সেই স্ট্যাটাসটার জন্য আমাকে ছাত্রলীগ থেকে তারা বহিষ্কার করে দিলেন? আমার দেশরত্মের কাছে একটা প্রশ্ন রেখে যেতে চাই-আমরা মেয়েরা আর কতটা অসম্মানিত হলে তাদের যোগ্য বলে মনে হবে?
শোভন-রাব্বানী ভাই আপনাদের একটা কথা বলে যেতে চাই, ব্যক্তিগত ক্ষোভ না দেখিয়ে যারা সংগঠনের জন্য কাজ করে তাদের মূল্যায়ন দিয়েন। আমি সেদিনের মারামারিতে যখন কোমরে আঘাত পেলাম, কই আপনারা তো আমার একটা খোঁজ নিলেন না! আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করব। আমি যদি মারা যাই শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে উত্তরগুলো নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে। রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক নেতাদেরই দ্বারা এতটা অসম্মানিত হব কোনোদিন ভাবতেও পারিনি।’
প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মারামারির ঘটনায় সংগঠনটির একজনকে স্থায়ী ও চারজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাডা দুজনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়। তবে দু দফায় সংগঠিত মূল হামলার সাথে জড়িতদের অনেককে বাদ দেয়া হয় তদন্ত কমিটির সুপারিশ থেকে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa