১৮ আগস্ট ২০১৯
শাবি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন

রোবট লি হাঁটছে মানুষের মতো, কথা বলছে বাংলায়

উদ্ভাবক শাবি শিক্ষার্থীদের সাথে বাংলায় কথা বলতে পারা রোবট লি - নয়া দিগন্ত

লি হচ্ছে রিবোর উত্তরসূরী। দেশের প্রথম বাংলাভাষী সামাজিক রোবট রিবোকে তৈরি করেছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। এবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি হলো আরেকটি রোবট লি। রিবোর মতোই লি কথা বলে বাংলায়, হাঁটতে পারে মানুষের মতোই। বাংলাদেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেকোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে সে।

চার ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতা ও ৩০ কেজি ওজনের এই রোবটটি তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাইফুল ইসলাম, আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রূপক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ সামিউল হাসান এবং জিনিয়া সুলতানা জ্যোতি। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রভাষক নওশাদ সজীব।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে রোবট লি-কে সবার সামনে উন্মুক্ত করা হয়। এর আগে গত ২০ এপ্রিল (শনিবার) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক রোবটটি উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শাবি’র কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। উদ্বোধনের সময় রোবট লি প্রতিমন্ত্রীকে ডান হাত উচু করে স্যালুট দেয় ও হেটে দেখায়।

হারিয়ে যাওয়া একটি বাংলা স্বরবর্ণ হলো ‘লি’ যা দেখতে ৯ এর মত ছিল। ঐ অক্ষরটির নামানুসারেই রোবটটির নামকরণ করা হয়।

উদ্ভাবক টিম ফ্রাইডে ল্যাবের প্রধান নওশাদ সজীব জানান, বাংলাদেশে তৈরি হিউমেনয়েড রোবটটি দেখতে মানুষের মত এবং এর উচ্চতা ৪ ফুট ১ ইঞ্চি (১২৬ সেমি)। এ রোবটটির প্রধান বৈশিষ্ট্য এটি মানুষের মত হাটতে পারে, বাংলায় কথা বলতে পারে, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের ইনভেশন ফান্ডের ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ রোবটটি তৈরিতে সময় লেগেছে তিন বছর। ফ্রাইডে ল্যাবের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

উদ্ভাবক টিমের সদস্যরা জানান, ‘আমিসু’ বিশ্বের অন্যতম একটি ইন্টিলিজেন্ট রোবট যেটি ভালোভাবে হাটতে পারে। এটি কিনতে গেলে ২৫ কোটি টাকা খরচ হবে। শাবিতে তৈরি রোবট লি’র জন্য আইসিটি ডিভিশন থেকে দেয়া হয়েছিল ১০ লাখ টাকা। সরকারের তরফ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশেই ‘আমিসু’র মতো তৈরি করা যাবে।’

ফ্রাইডে ল্যাবের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শাবিতে তৈরি আগের রোবট ‘রিবো’ এর সাথে বর্তমান ‘লি’ এর পার্থক্য হচ্ছে লি হাটতে পারে। রোবটকে হাটানোর জন্য অনেক দামি মোটর প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কম বাজেট পেয়েছি। আরও বাজেট পেলে উন্নত মানের রোবট তৈরি করতে পারবো।’

রোবটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। শেখানো হয়েছে গান, কবিতা ইত্যাদি। সাধারণত বাসা, বাড়ি-অফিসে ব্যবহার করা হয় এমন সব ভাষাও শেখানো হচ্ছে লি’কে। ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে মানুষকে মনে রাখতে পারে এই রোবট। হ্যান্ডশেক, নাচসহ বিভিন্নরকম অঙ্গভঙ্গি করতে পারে। মুখে মানুষের মত চোখ, চোখের পাতা, ঠোট প্রভৃতির মাধ্যমে ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনও করতে পারে।

উদ্ভাবকরা বলছেন, রোবটটি ভালোভাবে হাটতে পারলে যেকোনো সেক্টরে একে কাজে লাগানো যাবে। ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের বাসা-বাড়ি ও অফিসে বিভিন্ন কাজে দেখা যাবে। আর এজন্য প্রয়োজন যথেষ্ট সরকারি সহযোগিতা।


আরো সংবাদ




bedava internet