১৮ জুন ২০১৯
থানায় প্রকৌশলীর অভিযোগ

ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোন্নাফ আল কিবরিয়া ওরফে তুষার কিবরিয়া ও থানায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ - নয়া দিগন্ত

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মণানাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্স ইন্সটিটিউটের ভবনের ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রলীগ সভাপতি আবু মোন্নাফ আল কিবরিয়া ওরফে তুষার কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) হয়েছে। শনিবার রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানায় এই জিডি করেন নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন।

তাজহাট থানা সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন সাধারণ ডায়েরীতে অভিযোগ করেছেন যে, গত ১২ এপ্রিল বিকেল ৩টায় আমি নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাইটে অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলাম। এসময় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া আমার অফিস কক্ষে এসে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পাশাপাশি একইদিন সন্ধ্যার মধ্যে ১ লাখ টাকা দাবি করেন এবং বাকি ১৩ লাখ টাকা পরবর্তীতে দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে যান। এ সময় প্রজেক্টের ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল বাহারকে টাকা দেয়ার চাপও সৃষ্টি করেন ছাত্রলীগ নেতা তুষার কিবরিয়া। এছাড়াও শ্রমিকদের ওপর বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি ও চাপ প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে এবং হুমকি দিয়েছে তাই আমি নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।

অন্যদিকে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং স্বেচ্ছাচারিতা চাপা দিতে আমার ওপর এই অভিযোগ এনেছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাদের দুর্নীতির কথা তুলে ধরায় আমাকে এবং ছাত্রলীগকে কোণঠাসা করতে এই নোংরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এটা প্রশাসনের একটা স্বভাব। আমি ভিসি মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টা দেখার জন্য ভিসি সময় নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে তাজহাট থানার ওসি শেখ রোকনুজ্জামান বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা চাদা দাবির অভিযোগ এনে শনিবার একটা জিডি করেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসাইন। জিডি নং-৬৮৪, তারিখ- ১৪ এপ্রিল ২০১৯। বিষয়টি আমরা যথাযথভাবে তদন্ত করছি।

আরো পড়ুন : ভিসি ও পুলিশের সামনেই যুবককে মারল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা
রাবি সংবাদদাতা, (২১ জানুয়ারি ২০১৯)

স্থানীয় এক যুবকের ছুরিকাঘাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রলীগ নেতাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ইমতিয়াজ আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত রোমেল নামে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। এরপর তাকে বেধড়ক পিটুনী দিয়ে বঙ্গবন্ধু হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট এলাকায় মটর সাইকেলে ধাক্কাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েক যুবকের সাথে বাকবিন্ডায় জড়ায় ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজ। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় স্থানীয় বাধন নামের এক যুবকের মাথা ফেটে যায়। পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুই পক্ষ।

এই ঘটনার পর ৫ টি মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে আসে স্থানীয় যুবকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের পাশে মাসুমের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইমতিয়াজের গলায় ছুড়ি মেরে মোটরসাইকেলে পালিয়ে গেলেও ইশতিয়াক আহমেদ রোমেল নামে ঐ বহিরাগতকে আটক করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সান্ধ্যমাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন।

এদিকে বহিরাগত রোমেলকে ঘিরে একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপক আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান। এরপর ভিসি আটক রোমেলকে কোন ধরনের মারধর না করার জন্য ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

এসময় ভিসি বলেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। সে (রোমেল) দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুয়ায়ি পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে তোমাদের কেউ যেন পুলিশের কাজে বাধাঁ না দেয়।

তবে ভিসির নির্দেশ অমান্য করতে দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশি নিরাপত্তায় আটক রোমেলকে অতিথি রুম থেকে বের করা হয়। তাকে গাড়িতে তোলার সময় তার ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় রোমেলকে টানাহেছড়ার সময় প্রায় ৫-৬ জন লাঞ্ছিত হন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক এসে আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদককে ছুরিকাঘাত করেছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ভেবে দেখব। তবে কাজলার ঘটনা আর এই ঘটনা এক কি না সেটা আমরা জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। আর এই ছেলে সেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না সেটাও দেখা হবে।

সহকারী প্রক্টর শিবলী ইসলাম বলেন, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করবে এটা তো কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে খুব বেশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই আমরা বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

মতিহার থানার এক উদ্ধতন কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে আসি। পরে আটক রোমেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে মতিহার থানার (ডিসি) সাজিদ হোসেন জানান, বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এজন্য সাংবাদিকসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।


আরো সংবাদ