২৪ এপ্রিল ২০১৯

সবাই জানে, আগে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হত : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ - সংগৃহীত

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ৮০ থেকে ১০০ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে এক গ্রেডে বিবেচনা করা ঠিক হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  

শুক্রবার এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, সব বিষয়ে যারা আশির বেশি নম্বর পাচ্ছে ভবিষ্যতে তাদের আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার কথা ভাবতে হবে।

‘এগুলো নিয়ে আমাদের আরও ভাবতে হবে আমরা এত গ্যাপ রাখব কি না? একাশি থেকে একশ পর্যন্ত বড় রকমের পার্থক্য। যে পেল নিরানব্বই সে একাশির সমান হয়ে যাচ্ছে, এগুলো ভবিষ্যতে আস্তে আস্তে মূল্যায়ন করতে হবে।’

এসএসসি ও এইচএসসিতে পাঁচ পয়েন্টের বর্তমান গ্রেড পদ্ধতিতে কোনো বিষয়ে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর পেলে একজন শিক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট হয় ৫, আর ওই বিষয়ে তার লেটার গ্রেড হয় ‘এ প্লাস’। আর চূড়ান্ত ফলাফল হিসাব করার সময় সব বিষয়ের মোট গ্রেড পয়েন্টের গড় করে। সেখানে যে শিক্ষার্থীর জিপিএ ৫ হয়, তার লেটার গ্রেড হয় ‘এ প্লাস’।    

এই হিসাব করার সময় চতুর্থ বিষয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী গ্রেড পয়েন্টে দুই এর বেশি যা পাচ্ছে, সেটা যোগ করা হয়। ফলে কোনো শিক্ষার্থী কোনো আবশ্যিক বিষয়ে আশির কম পেলেও চতুর্থ বিষয়ে সুবিধা নিয়ে তার জিপিএ ৫ হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থীও ‘এ প্লাস’ পাচ্ছে।   

আর এ কারণে ‘গোল্ডেন জিপিএ’ বলে একটি শব্দবন্ধ অভিভাবকদের মধ্যে চালু হয়েছে, যা দিয়ে তারা বোঝাতে চান, তাদের সন্তান সব মিলিয়ে ‘এ প্লাস’ তো পেয়েছেই, কোনো বিষয়েই সে আশির নিচে নম্বর পায়নি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সংগঠনটির সদস্যদের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া সন্তানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, এই ‘গোল্ডেন জিপিএ’ বিষয়টি নিয়মসিদ্ধ নয়। অর্থাৎ সরকারি নিয়মে ওই রকম কোনো ব্যাপার নেই।

‘একটা কথা চালু হয়ে গেছে সব পেপারে আশির বেশি পেলে ‘গোল্ডেন জিপিএ’ বলা হচ্ছে। এটা বলুক, আমরা বাধা দেই না। তবে এটা আনুষ্ঠানিক নাম না।’ আগে পরীক্ষার্থীদের সব বিষয়ের পাওয়া নম্বর যোগ করে মোট নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ নির্ধারিত হত। ২০০১ সাল থেকে এসএসসি এবং ২০০৩ সাল থেকে এইচএসসিতে ওই পদ্ধতির বদলে ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে গ্রেডিং পদ্ধতিতে জিপিএ- এর ভিত্তিতে।

আগের পদ্ধতিতে প্রত্যেক বোর্ডের প্রতি গ্রুপ থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর আলাদা মেধা তালিকা (বোর্ড স্ট্যান্ড) হত। আর ৭৫০ নম্বর বা তার বেশি পেলে বলা হত ‘স্টার মার্কস’।

সেই প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘আগে সারা দেশে একজন মাত্র হিরো (বোর্ড সেরা), সারা দেশে তাকে নিয়ে মাতামাতি করত। এখন হাজার হাজার ছেলেমেয়ে ফার্স্ট (জিপিএ-৫ পাচ্ছে) হচ্ছে, সমস্ত পরিবারে উৎসব, তারা সবাই তো শ্রেষ্ঠ। সবার পক্ষে এটা অ্যাচিভ করা সম্ভব, আগে সম্ভব ছিল না।’

গত কয়েক বছরে পাবলিক পরীক্ষার সময় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘গত এসএসসি পরীক্ষার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, মনে হয় যেন সব প্রশ্নই ফাঁস হয়ে গেছে, আমাদের কোনো কথাই কেউ বিশ্বাস করে না।’ তিনি বলেন,  ‘তদন্ত করে দেখা যায়, কোনো প্রশ্নই পূর্ণাঙ্গ ফাঁস হয়নি, শুধু চারটি পত্রের ৩০ নম্বরের এমসিকিউ অংশ ফাঁস হয়, তাও পরীক্ষার্থীরা হলের ভেতরে যাওয়ার পর। …এটাকে প্রতিহত করতে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের হলে ঢোকানো হয়।’

নাহিদ বলেন, ‘আগে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হত, এটা গোপন কিছু না সবাই জানে। আমরা অনেক কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।’

পরীক্ষার্থী বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়লেও নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র অনুমোদনের বিভিন্ন মহলের চাপের কথা স্বীকার করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন মেট্টিক (এসএসসি) পরীক্ষা দেই তখন শুধু জেলা শহরে একটি সেন্টার ছিল, কোনো জেলার দ্বিতীয় সেন্টার ছিল না। এখন প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি মনে হয় সেন্টার দিতে হবে এমন একটা চাপ আমাদের উপর। তখন ছিল ১৭টি সেন্টার, এখান সাড়ে চার হাজার সেন্টার। ফলে প্রত্যেকটা জায়গায় শিক্ষকদের পাঠাতে হয়।’

‘দেড় মাস ধরে প্রশ্ন পাহারা দিতে হচ্ছে। সব মানুষই একেবারে সৎ তা বলা যায় না। ফলে প্রশ্ন যখন বিলি করি তখন যদি দেখা যায় মোবাইল ফোন… ফোনের দরকারই নেই, হাতের আংটি বা কলমের মত ডিভাইজ দিয়ে মুর্হূতের মধ্যে এসব (প্রশ্ন) নিয়ে যাওয়া যায়। পরে আমরা পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের প্যাকেট খোলার সিদ্ধান্ত নিই।’

পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ঠিকমত মূল্যায়ন হচ্ছিল না মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, আগে শিক্ষকরা খাতা ‘ওজন করে’ নম্বর দিতেন। গবেষণা করে এখান উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে।

‘আমি অবশ্যই স্বীকার করি, আমাদের ভুল-ক্রটি আছে। কিন্তু শিক্ষার মান বাড়ছে না এটা মোটেই ঠিক না।’

অনুষ্ঠানে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৭ জন এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছয়জনের হাতে সনদ, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং দুই হাজার টাকা করে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

এই সম্মাননা তাদের আরও এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে, উৎসাহ যোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ বক্তব্য দেন।


আরো সংবাদ

মিলিশিয়াদের হত্যার তালিকায় এবার ওবামা-হিলারি আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সেই বিলকিস বানুকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের বারাক ওবামাকে হত্যার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল যারা হিন্দু নেতার ফাঁসির জন্য ভোট দিলো আফরাজুলের পরিবার বাদপড়া মন্ত্রী ও এমপিদের কদর বাড়ছে নারীদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠনে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করুন : কওমি ফোরাম ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ মানদণ্ড তৈরির আহ্বান শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের কারাবন্দী আরমানের সংশ্লিষ্ট মামলার নথি তলব ও রুল জারি জবি শিল্পীদের রঙ তুলিতে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ শিক্ষকদের মনেপ্রাণে পেশাদারিত্ব ধারণ করতে হবে : ভিসি হারুন অর রশিদ

সকল




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat