২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিরাজনীতিকরণের চেষ্ঠা রুখে দাঁড়াবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

-

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অগণতান্ত্রিক শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। যদি ২০০৭ সালের মতো আবারও বিরাজনীতি করণের চেষ্টা করা হয় তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রুখে দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের বাইরে ভিন্ন কিছু কখনই গ্রহণ করা হবে না।
সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলা হয়। ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত সরকার কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের উপর সংঘটিত অমানবিক, বেদনার্ত ও নিন্দনীয় ঘটনার স্মরণে ‘কালো দিবস’ পালনের ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আয়োজন করে।
মানববন্ধনে ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সেসময় ৮২ হাজার ছাত্র জনতার ওপর মামলা দেয়া হয়। কিন্তু কোনো মামলা কাজে লাগেনি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কোনো সময় কাপুরুষ তৈরি করেনি। এটি হচ্ছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য। তাই আমরা সেদিন স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দাঁড়িয়েছিলাম। ধীরে ধীরে এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পতন হয়।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, সেসময় জামায়াত-বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলকে কোনোভাবে ওই সরকার দায় এড়াতে পারে না। আজকেও সামনের জাতীয় নির্বাচন আছে। সেই জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা দেখছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আরও অনেকেই সেই সময়ে যারা কুশীলব ছিলেন তারা বিভিন্ন ধরনের তৎপরতায় যুক্ত। তারা বৈঠক করেন এবং বিরাজনীতি করণের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায় কি না এই ধরনের কথা শুনি। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, যদি বিরাজনীতি করণের প্রচেষ্টা চালানো হয় , এই বিশ^বিদ্যালয় এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্রের জন্য রুখে দাঁড়াব।
মানববন্ধন শেষে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ২০০৭ সালের এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তথা আবাসিক ছাত্রদের উপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং চারজন শিক্ষককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা অগণতান্ত্রিক যেকোন কিছুর বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাহসী কথা বলার ইতিহাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি মানবতাবাদী ও উদার নৈতিক যা সবসময়ই জয়ী হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা নিজ নিজ অবস্থানে কাজ করব এটিই হোক আজকের দিনের প্রত্যয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফুটবল খেলা দেখার সময় কতিপয় সেনাসদস্য ছাত্রদের মারধর করেন। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ আন্দোলন গড়ে তোলে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সেনাসমর্থিত সরকার সান্ধ্য আইন জারি করে এবং ২৩ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ও আটজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালায়। সেই দিনের স্মরণে ‘কালো দিবস’ পালন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


আরো সংবাদ