২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

আটককৃতের মুক্তির দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ শিক্ষকের

আটককৃতের মুক্তির দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ শিক্ষকের - সংগৃহীত

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শহিদুল আলমকে যে প্রক্রিয়ায় অপহরণ করা হয়েছে তা নিন্দনীয়। তাকে অপহরণের দৃশ্যটি দেশে নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কোনো আইন কি আছে? যদি আইনই না থাকে তবে কিসের ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’? বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে আমরা বলতে চাই যে, নাগরিককে ব্যাখ্যা জানানো হচ্ছে সরকারের দায়িত্ব। আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসীদের মত আচরণ করছে? একের পর এক নাগরিক কেন হামলা ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন?’

অবিলম্বে শহিদুল আলমের মুক্তির দাবি করে এতে আরো বলা হয়, তাকে আটক অবস্থায় অত্যাচার করা হয়েছে এবং তার  চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা সম্পত্তি ধ্বংস করা, হুমকি প্রদান ও আইনানুগভাবে চলতে ব্যর্থতার জন্য দায়ী  বাহিনীর কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।

শিক্ষকরা নিরাপদ সড়কের প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে করা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কেন নিপীড়ন আর সহিংসতা করা হলো? পাবলিক ও  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন পুলিশের সহযোগিতায় বহিরাগত সন্ত্রাসীর হামলার শিকার হলেন? ২২ জন শিক্ষার্থীকে কেন দুই দিনের রিমান্ড দেয়া হলো। শহরের কোথাও কোথাও দলীয় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বাসায় লুকিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উপর নানা আক্রমণ চালাচ্ছে এবং বিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বহিষ্কারের নানারকম হুমকি দিচ্ছে। এসব কিছুর আমরা জবাব চাই। আইনি ব্যবস্থা নিতে চাই। শিক্ষার্থীদের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে চাই- আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

বিবৃতিতে সাক্ষরকারী শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আইনুন নাহার,  ইউল্যাবের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি আজফার আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী অর্ক রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের  গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের খাদিজা মিতু, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক  সিউতি সবুর প্রমুখ।

 

৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ সারাদেশে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগসহ কিশোরদের ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় এবং মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলাভবনের সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা।

সভাপতির বক্তব্যে জোটের সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, ছাত্রদের রক্তমাখা শার্ট সাক্ষ্য দিচ্ছে বাংলাদেশে দুঃশাসন চলছে। শহিদুল আলমের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও গুণী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনা জনগণের প্রতি সরকারের নিষ্ঠুরতা-বর্বরতাকেই প্রকাশ করছে। বাংলাদেশে শাসনতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক সঙ্কট চলছে। বলপ্রয়োগ সমাধানের পথ নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসনই সমাধান।

বক্তারা সমাবেশে থেকে অবিলম্বে আলোকচিত্রী শহিদুল আমলসহ সারাদেশে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। এছাড়া নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগসহ কিশোরদের ৯ দফা বাস্তবায়ন, দমন-পীড়ন-দুঃশাসন বন্ধ, আন্দোলনে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার এবং চালক-স্টাফদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র, প্রশিক্ষণ, শ্রমঘণ্টা ও বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

 

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলার বিচার দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বুধবার সকালে ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা হামলা করে। পুলিশ তাদের উপর গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আমরা হামলাকারীদের বিচার দাবি জানাই।

 


আরো সংবাদ