১৮ নভেম্বর ২০১৮

ছাত্রলীগের হামলার শিকার ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থী

ছাত্রলীগের হামলার শিকার ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থী - ছবি : সংগৃহীত

পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) এক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাকারিয়া আশরাফ আসফি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৭৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর ২ টার দিকে পরীক্ষা শেষ করে বের হওয়ার সময় কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে ধরে নিয়ে দুই দফা মারধর করে। তারা তাকে প্রথমবার সন্ধানী রুমে এবং পরে কলেজ হোস্টেলের গেস্ট রুমে নিয়ে বেদম প্রহার করে। এ সময় উপুর্যপরি কিল, ঘুষি, লাথি দেয় তারা। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তার ওপর পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ঢামেক শাখা ছাত্রদলের। জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাদশা বলেন, দুপুরে জাকারিয়া তার নিয়মিত টার্ম পরীক্ষা দিয়ে বের হলে শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দু’দফা হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে জাকারিয়ার ওপর ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদশা।

জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রায়হান ইসহাক। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, এখন একটা ছাত্র আন্দোলন চলতেছে। তাই হিরো হতে এসব অভিযোগ। তবে আমাদের পক্ষ থেকে মারধরের কোনো নির্দেশনা নেই।

আরো পড়ুন :

শিক্ষার্থীদের ওপর আ’লীগ ও পুলিশের একযোগে হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠাসহ ব্যাপকভাবে জনসমর্থিত ৯ দফা দাবিতে সারা দেশে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের নবম দিনে গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে অবস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগ একযোগে হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলায় পুলিশের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

রামপুরা রোডে অবস্থিত ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবরে বসুন্ধরাসহ ওই এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় বের হলে তাদের ওপরও পুলিশ, শ্রমিক লীগসহ সরকার সমর্থক সংগঠনের কর্মীরা হামলা চালায়। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কিছু শিক্ষার্থেিক। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও সরকার সমর্থক কর্মীদের হামলার ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়। 

অন্য দিকে আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দিনভর প্রতিবাদে উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা দুপুরের পর শাহবাগ এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ার শেল, জলকামান ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। 

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শ’ শিক্ষার্থী গতকাল বিােভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অভিমুখে গেলে পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের ওপর জলকামান ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বিকেল ৩টায় এ ঘটনা ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যানারে কয়েক শ’ শিার্থী টিএসসি রাজু ভাস্কর্য থেকে শাহবাগ অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা দেয়। মিছিলটি শাহবাগ থানার সামনে পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় শিার্থীরা দাঁড়িয়ে স্লোগান দেয়। প্রথমে জল কামান ব্যবহার করার পরও তারা রাস্তা না ছাড়লে তাদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়। 

এ সময় শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিপে করে। এ সময় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়। আন্দোলনকারীদের ১১ জন আহত হয় এবং তিনজনকে আটক করা হয় বলে জানায় আন্দোলনকারীরা। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে শাহবাগ এলাকায় পুলিশ অবস্থান নেয়। বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত মিছিলটি এলে পুলিশ তৎপর হয়। ৩টায় মিছিলটি শাহবাগমুখী হলে থানার সামনে এসে বাধার মুখে পড়ে। পুলিশের হামলার পর শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে এলাকা ত্যাগ করে। 

দিনভর বিক্ষোভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে : বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শোকের প্রতীকস্বরূপ কালো কাপড়ে লেখা ‘ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ব্যানারে চার ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, ইনস্টিটিউট, শহীদ মিনারসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পাশাপাশি বুয়েটের পাশে পলাশী এলাকা প্রদক্ষিণ করে তারা। এতে প্রগতিশীল জোট নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে। 
আন্দোলনকারীদের অন্যতম ঢাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ টিয়ার শেল, জলকামান ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় তারা আমাদের তিনজনকে আটক করে। এর মধ্যেÑঢাবির এমআইএস, ক্রিমিনোলজি ও অন্যজন প্রগতিশীল জোটের কর্মী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিার্থী। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। 
এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, শিার্থীদের একটি মিছিল শাহবাগের দিকে আসছিল। শৃঙ্খলা রার্থে পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা ইটপাটকেল নিপে করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।

সকালে পলাশী এলাকায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতাকে মারধর করে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাদের শাহবাগ থানায় দেয়া হয়। আটকরা হলেনÑঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য সোহেল আহমেদ শুভ ও ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মোর্শেদ হালিম। প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

এ দিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।
ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা : রাজধানীর রামপুরা রোডের পাশে আফতাব নগরে অবস্থিত ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিার্থীদের ওপর সরকার সমর্থক কর্মীদের হামলা হয়। হামলার পর শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ ও সরকার সমর্থক স্থানীয় কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ছোড়ে। ঘটনার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয় আজ ও আগামীকাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 
প্রত্যদর্শীরা জানান, সকালে আগে থেকে আফতাব নগরে অবস্থান নেন শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাদের সাথে যোগ দেন স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। দুই সংগঠনের এমন অবস্থানের ফলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিকদের ধাওয়া দেয় ছাত্ররা।

এ সময় এক প আরেক পকে ল্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ। 
দুপুর ১২টায় পুলিশের প্রতিরোধের মুখে শিার্থীরা আফতাবনগরে জহুরুল ইসলাম সিটিতে ঢোকেন। পুলিশও তাদের ধাওয়া দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে পুলিশের সাথে বেশ কিছু যুবককে লাঠিসোটা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তারা। পুলিশ ও ওই যুবকেরা শিার্থীদের ধাওয়া করে জহুরুল ইসলাম সিটির ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ কাস চলাকালে সরকারি দলের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে হামলা এবং ভবনে ইট ছোড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বের হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। 
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা রামপুরা রোডে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের প্রতিরোধে তারা পরে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরাও যোগ দেয়। 

একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। হঠাৎ কয়েক শ’ লোক এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নিলে সেখানে পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ার শেল নিপে করে। 
বিকেল সোয়া ৪টায় ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছাত্রদের হাতে কোনো লাঠি ছিল না। যারা হামলার সাথে জড়িত তারা বহিরাগত। তবে হামলায় আমার কিছু ছাত্র আহত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লাসসহ বেশ তি হয়েছে। 

সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিার্থীকে আটক করে। 
নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ : বেলা সাড়ে ১১টায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিার্থীদের ওপর পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর সাড়ে ১২টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তারা এ অবস্থায় প্রগতি সরণিতে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর শিার্থীরা বসন্ধুরা আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থান নেন। অন্য দিকে পুলিশ বাইরের সড়কে অবস্থান নেয়। এই অবস্থায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। 
প্রত্যদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় গাড়ি বের হলেই ছাত্রলীগ এবং শ্রমিক লীগের কর্মীরা ভাঙচুর চালায়। সংবাদকর্মীরা ছবি নিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পুলিশের সাথে যোগ দিয়ে তারাও শিার্থীদের ধাওয়া করে। ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সহপাঠীদের সহযোগিতা চাইতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। 
উভয়পে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের আশপাশের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা দেড়টায় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা সংগঠিত হলে আবার পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থী জানান, তাদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। অনেককে আটক করা হয়েছে সংঘর্ষের সময়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান গেটে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

গত রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রায় এক শ’ পুলিশ অবস্থান করছিল নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। সেখানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুরো ক্যাম্পাস ফাঁকা। আবাসিক এলাকায় যানচলাচল তখনো স্বাভাবিক হয়নি। 
আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় শিার্থীদের বিােভ : হামলার প্রতিবাদে বেসরকারি আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা বিােভ করেন। বিােভকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ১১ জন শিার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই কাওসার গণমাধ্যমকে বলেন, আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা বিশৃঙ্খলা করায় তাদের মধ্য থেকে ১১ জনকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডে বাসচাপায় দুইজন কলেজশিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে রাজধানীর রাজপথ দখলে নেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। একপর্যায়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে নেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকে অঘোষিতভাবে শুরু হয় রাজধানীতে পরিবহন ধর্মঘট। রাজধানী ঢাকা এক রকম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সারা দেশ থেকে। একপর্যায়ে রাজধানীর ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক হামলা শুরু করে ছাত্রলীগসহ সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠন। অনেক এলাকায় ছাত্রলীগের সাথে যোগ দেয় পুলিশও। 
রাবি সংবাদদাতা জানান, ঢাকাসহ দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপ (সাদা দল)। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান তারা। 
দলটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এনামুল হকের সঞ্চালনায় বক্তারা নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলনে নেমেছেন তখন কিছু দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, গুলি বর্ষণ করেছে। শিক্ষার্থীদের নায্য দাবির আন্দোলনে হামলা চালানো হয়েছে তার প্রতি ধিক্কার জানাই।

মানববন্ধন থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করে প্রয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন দলটির শিক্ষকেরা।
এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্যারিস রোডে মানববন্ধনের আয়োজন করে। পরে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে একটি র‌্যালি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুরে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বাউস্ট) শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার (৬ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সৈয়দপুর-পার্বতীপুর মহাসড়কে অবস্থান করে তারা। এতে এ পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা গত ৪ আগস্ট থেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। 

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরাÑ ছি ছি আর লজ্জায় বাঁচি না, আমার ভাই কবরে, খুনিরা কেন বাইরে? শাসকদের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, রাজাকারের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে।
আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা : এদিকে, নীলফামারীর সৈয়দপুরের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউস্ট) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গত রাত ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
হঠাৎ করে এমন নির্দেশের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরো বৃদ্ধি পায়। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রোববার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
এ ব্যাপারে বাউস্টের ভাইস চ্যান্সেলর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডক্টর মোহাম্মদ লুৎফর রহমান মুঠোফোনে নয়া দিগন্তকে জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের রাত ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শাবি সংবাদদাতা জানান, ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হামলাকারীদের বিচার ও শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন তারা। 
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না থাকলেও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষাথীরা কাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভে যোগ দেন। এ সময় তারা রাজধানীতে ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের লাগাতার হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। 

বেলা ১১টায় সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক থেকে সিলেট শহরের চৌহাট্টা অভিমুখে পদযাত্রা করেন। পরে তারা চৌহাট্টা পয়েন্টে শহরের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সাথে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন। 
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম প্রেস কাবের সামনে থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট দাবি করছে, পুলিশ বিনা উসকানিতে ৯ শিার্থীকে ধরে নিয়ে গেছে। গতকাল সোমবার বেলা ১টায় তাদের আটক করা হয়।

থানায় যে চার ছাত্রকে গ্রেফতার দেখিয়েছে, তারা হলেন-সাদাত মান্নাত, রাশেদুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম ও তানজিদ। 
এ দিকে চট্টগ্রাম প্রেস কাবের সামনে থেকে ৯ আন্দোলনকারীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জয়তু সুশীল নিন্দা জানিয়ে এক যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, সারা দেশে আন্দোলনে বর্বর হামলা ও ছাত্রদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস কাবের সম্মুখে জড়ো হওয়া ছাত্রদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলা ও ৯ জন আন্দোলনকারী গ্রেফতার হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 
খুলনা ব্যুরো জানায়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে এ বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেন।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এলে পুলিশ গেট বন্ধ করে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক খুলে দিতে বাধ্য হয়। এ সময় হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এ সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে খুলনা-ঢাকা, খুলনা-সাতক্ষীরা, খুলনা-যশোর মহাসড়কে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে খুবির শিক্ষার্থীরা নগরীর গল্লামারী টু জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, সরকারের পেটায়া বাহিনীর হামলার তীব্র প্রতিবাদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্কুল ও কলেজের সামনে নির্দিষ্ট গতিসীমায় যান চলাচল, খুলনা মহানগরে সুনির্দিষ্ট অটো লেন তৈরি, খুলনা মহানগরীতে সুনির্দিষ্ট লাইসেন্স বা ব্লুবুক ছাড়া অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানান। এ দিকে ছয় দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীরা দুপুরে ক্যাফেটেরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। 
অপর দিকে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ধানমন্ডি কার্যালয়ে হামলা ও গুলি, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপরে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, বিদেশী রাষ্ট্রদূতের ওপরে হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের ওপরে হামলার প্রতিবাদে নগরীতে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে পৌঁছান শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রধান ফটক বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিার্থীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা ২টার দিকে রুয়েট ছাত্রলীগের আশ্বাসে শিার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। 
কুবিতে মানববন্ধন
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ঢাকায় সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 
মানববন্ধনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ডিবেটিং সোসাইটি, বন্ধুসভা, বিজেএসসি, সায়েন্স কাব, আইটি সোসাইটি, বন্ধু, অনুপ্রাসসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিার্থীরা একাত্মতা পোষণ করে।
জাবি জাতীয়তাদী শিক্ষক ফোরামের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
জাবি সংবাদদাতা জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতার সাথে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। গতকাল সোমবার সংগঠনটির শতাধিক শিক্ষকের নাম সংবলিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়,‘স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা বন্ধু হত্যার বিচার চেয়েছে, নিরাপদ সড়ক চেয়েছে। তাদের কোনো নেতা নেই, কোনো পরে উসকানিও নেই। দীর্ঘ দিনের সড়ক বিশৃঙ্খলা কিভাবে মোকাবেলা করতে হয় তা চোখে আঙুল দিয়ে শিখিয়েছে। 

সর্বশেষ তারা সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহপ্রবণতা দূর করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে দক্ষতা ও বিচণতার সাথে সর্বমহলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।’
সিলেট ব্যুরো জানায়, ৯ দফা দাবিতে রাজধানীর মতো গতকালও সিলেটে বিােভ প্রদর্শন করেছেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল শিার্থী । প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে বেলা ২টার দিকে তারা অবস্থান থেকে চলে যান।
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ভয়ে কর্মসূচিতে আসছেন না। তবে সংখ্যা যতই কমে যাক না কেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
গতকাল দুপুরে পথসভায় এ কথা বলেন বক্তারা। এর আগে শিক্ষর্থীরা বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ অফিস প্রদক্ষিণ করে আবার চাষাড়া সায়েম প্লাজা সমনে এসে পথসভা করে কর্মসূচি শেষ করে।

জাবির চার শিক্ষার্থীকে আটকের প্রতিবাদ
জাবি সংবাদদাতা জানান, শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে আটকের প্রতিবাদ এবং ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে প্রশাসনের অসযোগিতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় শিক্ষার্র্থীরা এ বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করার পরে ঢকা-আরিচা মহাসড়কে সমাবেশ করার মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তারা শাহবাগে থেকে চার শিক্ষার্থীকে আটক করার প্রতিবাদ করেন এবং দ্রুত ছেড়ে দেয়ার দাবি জানান। আটক চারজনের মধ্যে দুইজন পূর্বনির্ধারিত আজকের (মঙ্গলবার) ফাইনাল পরীক্ষা না দিতে পারার শঙ্কা প্রকাশ করে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো: জুলকারনাইন ওই শিক্ষার্থীদের মুক্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করলে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। এ সময় জাবির প্রান্তিক গেট ও ক্যাম্পাসের আশপাশে দুই শতাধিক পুলিশ অবস্থান গ্রহণ করে।
এ ছাড়া সোমবার সকালে জাবি শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিটি প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নিরাপত্তাহীনতায় বাতিল হয়ে যায় বলে তারা ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।


আরো সংবাদ