২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নর্থ সাউথ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

নর্থ সাউথ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা - ছবি : সংগৃহীত

নর্থ সাউথ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার দুপুরের দিকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় নিরাপদ সড়ক ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা নিয়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ওই সময় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের এসএমএস করে সিদ্ধান্ত জানানো হচ্ছে।

ওদিকে বাড্ডা এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও দুদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণে আগামি ৭ ও ৮ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। সকালের দিকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়।

জানা গেছে, সেখানে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের বেশ কিছু সদস্য সকাল ১০টার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাস ঢুকতে বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র হৃদয় ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে মারধর করে। ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ বেশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে।

বাস চাপায় দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু কেন্দ্র করে সপ্তাহখানেক ধরে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা যে বিক্ষুব্ধ আন্দোলন করছিল - তাতে রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরও যোগ দিতে দেখা যায়।

সোমবার রাস্তায় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা না গেলেও, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে।

মাঠে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও

ঢাকার জিগাতলা এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠি পেটার ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সেখানে পুলিশের সামনে হেলমেট মাথায় দিয়ে একদল যুবক লাঠি এবং কিরিচ দিয়ে বিক্ষোভকারিদের পেটানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপরও হামলা করেছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে এই আন্দোলনের অষ্টমদিনে বিক্ষোভগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল কম।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের এই কয়েক দিনের মধ্যে রোববার ঢাকার রাস্তায় পুলিশকে মারমুখী দেখা গেছে। জিগাতলা এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বিক্ষোভকারিদের উপর পুলিশকে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে দেখা যায়।

দুপুরে বিক্ষোভকারিরা শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে জিগাতলা মোড়ে যখন আসে, তখন দেখা যায়, পুলিশ মিছিলের সামনে এবং পিছনে দুই পাশ থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

বিক্ষোভকারীরা আবারও সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে জড়ো হয়ে জিগাতলার দিকে এগুনোর চেষ্টা করে। পুলিশ আবারও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারিদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সেসময় পুলিশের পাশাপাশি হেলমেট মাথায় দেয়া একদল যুবককে লাঠি এবং কিরিচ দিয়ে বিক্ষোভকারিদের পেটাতে দেখা যায়।

বিক্ষোভকারিরা রাস্তা থেকে হটে গেলে পুলিশের পাশাপাশি লাঠি হাতে যুবকদেরও পুরো ঐ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। তারা সাংবাদিকদের উপরও হামলা করে।তাদের হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছে।

এদিকে, পুলিশ এবং হেলমেট পরা যুবকদের বাধায় বিক্ষোভকারিরা ধানমন্ডি এলাকার বিভিন্ন গলিতে এবং আশের ভবনে আশ্রয় নেয়।

এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে এবং অংশগ্রহণে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ছিলেন। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ছিলেন।

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন নেমেছেন? এই প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, জিগাতলায় শনিবার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে তারা এই বিক্ষোভ করেন।

রোববার বিকেলে ঢাকার জিগাতলা মোড় থেকে ঐ রাস্তায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়।

ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেছেন, "আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন। তার মানে এই নয় যে, তারা অরাজকতা করতেই থাকবে, আর আমরা বসে বসে দৃশ্য দেখবো। মোটেই নয়। আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলে আমাদের ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই নেবো।"

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির নেতাদের অনেকের বক্তব্যেও এখন কঠোর অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

 


আরো সংবাদ