২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছাত্র অধিকার পরিষদের ধর্মঘটের ডাক আজ

ছাত্র অধিকার পরিষদের ধর্মঘটের ডাক আজ - ছবি : সংগৃহীত

আজ দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে কোটা পদ্ধতি সংস্কার দাবি করা সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল মিয়াজি ও যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল আহমেদসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে ঢাকার মিরপুর, দনিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী ও চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে শনিবার (আজ) সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট ঘোষণা করা হলো। সরকারকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ৯ দফা, হামলাকারীদের বিচার ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন দফা দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। এ ধর্মঘটে সচেতন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নাগরিকদের অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন :

সড়ক আবার রক্তে রঞ্জিত  

বেপরোয়া দুই যন্ত্রদানবের রেষারেষিতে অকালে ঝড়ে গেছে দু’টি স্বপ্ন রাজীব ও দিয়া। সড়কে তাদের রক্তের দাগ না শুকাতেই আরেক যুবকের রক্তে রঞ্জিত হলো রাজধানীর সড়কপথ। এবারো যন্ত্রদানব বাস কেড়ে নিলো সাইফুল ইসলাম ওরফে রানা (৩০) নামে এক নার্সের জীবন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে যখন রাজধানীসহ পুরো দেশ উত্তাল। ৯ দফা দাবি নিয়ে যখন শিক্ষার্থীরা রাজপথে, সেই আন্দোলনের মধ্যেই গতকাল বেলা দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা-ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস সাইফুলকে পিষে ফেলে। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে মেডিক্যালে নিয়ে যান। কিন্তু ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসের চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়, স্রেফ হত্যাকাণ্ড। 

প্রত্যক্ষদর্শী লোকমান জানান, জুমার নামাজের পরপরই সাইফুল মোটরসাইকেল চালিয়ে ওয়্যারলেস গেট দিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখন গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস ওয়্যারলেস গেটের ঢাল দিয়ে নেমেই মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে চালক সাইফুল গুরুতর আহত হন। এ সময় একটি রিকশাকেও ধাক্কা দেয় বাসটি। রিকশার চালক ও দুই যাত্রী সামান্য আহত হন। গুরুতর আহত সাইফুলকে সাথে সাথে উদ্ধার করে পথচারীরা পাশের সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লোকমান বলেন, দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আটকে এর চালককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তবে এর আগেই বাসটি অনেকটা পুড়ে যায়। 

ঘটনাস্থলে থাকা রমনা থানার এসআই মহিবুল্লাহ বলেন, মগবাজার ওয়্যারলেস গেটের ঢাল দিয়ে নেমেই বাসটি মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুলকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা বাসটিতে (ঢাকা মেট্রো ঝ ১৪-০২১৪) আগুন ধরিয়ে দেয়। বাসটির চালক ইমরান সরদার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে ধরে তাকে মারধর করে পুলিশে হস্তান্তর করে। 
এসআই জানান, চালক ইমরানের বাড়ি পিরোজপুর সদরের কুমুড়িয়ায়। বাসটি কল্যাণপুর থেকে আরামবাগ যাচ্ছিল। চালকের সহকারী সায়মন পলাতক রয়েছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলটিও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। 

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তানারুল ইসলাম জানান, গতকাল বেলা ১টা ৪০ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে তিনটি ইউনিট সেখানে পাঠানো হয়। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 
এ দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে ছুটে আসেন নিহতের বাবা শাহজাহান মিয়া, দুই বোন সাথী ও যুথী এবং খালা রোকসানাসহ পরিবারের সদস্যরা। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। স্বজনরা জানান, সাইফুল মোটরসাইকেল নিয়ে মগবাজার ক্লিনিকে যাচ্ছিলেন। পথে দ্রুতগতির বাসটি তাকে চাপা দিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় জড়িত চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা। 
কান্নারত অবস্থায়ই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন নিহতের খালা রোকসানা বেগম। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে গত সপ্তাহে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। এবার আমার বোনের কোলটা খালি করেছে, এই হায়েনার দল চালকেরা। এতো এতো আন্দোলন হচ্ছে, ভাঙচুর হচ্ছে। তারপরও এদের হুঁশ হচ্ছে না! দুর্ঘটনায় জড়িত চালকদের ফাঁসি দেয়ার পাশাপাশি এসব দেখভালের দায়িত্বরতদের তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 
ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, গোল্ডেন প্লাস নামে একটি বাসের ধাক্কায় ওই যুবক নিহত হয়েছেন। চালক থানায় রয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা করার পর চালককে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে। 
গত রোববার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত হন দিয়া ও রাজীব। ঘটনার পর তাদের জন্য কান্না আর ভালোবাসা নিয়ে সড়কে সড়কে অবরোধ, মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ‘মা, আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে চাই’, হে সড়ক, আর কতো প্রাণ ঝরাবে তুমি’, ‘স্টপ কিলিং! মাই মম ইজ ক্রাইং’-এমনই অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী স্লোগান লিখিত প্লাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কে শুনে কার কথা! সড়কগুলো যেন ক্রমেই লাশের মড়কে পরিণত হচ্ছে। একজনের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই আরেক জনের রক্তের দাগ এসে আরো লাল করে দিচ্ছে সড়কগুলো। জনমনে একটাই প্রশ্নÑ এভাবে আর কত লাশ পড়বে। 

সখীপুরে ট্রাক চাপায় আরেক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, সারা দেশে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবিতে আন্দোলন চলা অবস্থায় সখীপুরে সাদিয়া আফরিন (১৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী পিকআপের চাপায় নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় সখীপুর-সাগরদীঘি সড়কে উপজেলার বড়চওনা গ্রামের বেলতলী বাজারের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাদিয়া আফরিনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদিয়া আফরিন বড়চওনা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সে উপজেলার বড়চওনা ধলীপাড়া গ্রামের আজহারুল হকের মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে একই গ্রামের বেলতলী এলাকায় ফুফুর বাড়ি বেড়াতে যায়। গতকাল শুক্রবার সকালে ৯টায় ফুফুর বাড়ি থেকে বের হয়ে সখীপুর-সাগরদীঘি সড়কে ওঠে সড়কের একপাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছিল। বেলতলী বাজারের দক্ষিণ পাশে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো ন-১১-৮৯৪২) সাদিয়াকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা সাদিয়াকে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলেও অবস্থার অবনতি হলে পরে স্বজনরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ দিকে চালক তানভীরসহ (১৪) ঘাতক পিকআপটিকে আটক করেন এলাকাবাসী।
উপজেলা বাস, কোচ ও মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম সরকার লাল বলেন, এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়। ১২-১৩ বছরের একজন চালক সহকারী পিকআপ চালানোর নামে তার বন্ধুদের নিয়ে ইভটিজিং করতে গিয়ে মেয়েটিকে হত্যা করেছে। 
সাদিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় এমপি অনুপম শাহজাহান জয়, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ শওকত শিকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী সরকার রাখী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সবুর রেজা প্রমুখ। 
ধামরাইয়ে ২ বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০
ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের কেলিয়া এলাকায় গতকাল রাত সোয়া ৭টায় যাত্রীবাহী দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের ধামরাই সরকারি হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুত্বর বলে ধামরাই সরকারি হাসপাতাল সূত্র জানায়।

জানা গেছে, ধামরাইয়ের কেলিয়া এলাকায় ঢাকা থেকে আরিচাগামী সূর্য্যমুখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা সেতু পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের সামনের দিক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহত ও আহতদের নাম ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি।


আরো সংবাদ