১৬ নভেম্বর ২০১৮

৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সময়সূচী

৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সময়সূচী - সংগৃহীত

 

৩৮তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাস ও রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়। সেই সাথে চিকিৎসক নিয়োগে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস’র প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আসনবিন্যাসও প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জাগো নিউজকে বলেন, আগামী ৮ আগস্ট বুধবার ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। সারাদেশের আটটি বিভাগে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। ইতোমধ্যে পিএসসির ওয়েবসাইটে পরীক্ষার আসনবিন্যাস ও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসর প্রিলিমিনারি পরীক্ষারও আসনবিন্যাস প্রকাশ করা হয়েছে। চিকিৎসক নিয়োগে আগামী ৩ আগস্ট এই বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা হবে। বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর ২৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার সময়সূচিতে দেখা গেছে, আগামী ৮ আগস্ট ইংরেজি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ৩৮তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। ৯ আগস্ট বাংলাদেশ বিষয়াবলি, ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ১২ আগস্ট সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ১৩ আগস্ট বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা হবে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভিগের কেন্দ্রগুলোতে প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হবে।

এ সংক্রান্ত পিএসপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এতে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষার পাসের জন্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য নতুন করে প্রবেশপত্র দেয়া হবে না। পরীক্ষার্থীরা ঘড়ি, মোবাইল, ব্যাগ, ক্যালকুলেটরসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ে হলে আসতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুধু গাণিতিক যুক্তি (আবশ্যিক) বিষয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে, তবে সাইন্টেফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

এতে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কোনো প্রার্থীকে আর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। কারও প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে পিএসসির ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ বিসিএসে প্রশাসনে ৩০০টি, পুলিশে ১০০ এবং পররাষ্ট্রে ১৭, সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯ এবং শিক্ষা ক্যাডারে (সরকারি সাধারণ কলেজ ও সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ) মোট ৯৫৫টি পদ রয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। গত ২৯ জানুয়ারি এ পরীক্ষা হয়। এই বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেশের প্রায় চারশটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৯ জন।৩৮তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ৫০ নম্বরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

::::

শেষ মুহূর্তের বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে কিছু টিপসঃ

০১. আবেগ কমান, সাধারণ জ্ঞান পড়া কমান। বিসিএস সাধারণ জ্ঞান পাণ্ডিত্যের খেলা নয়।

০২. আগে কী পড়েছেন, কিংবা পড়েননি, সেটা ভুলে যান। বেশি পড়লেই যেমন প্রিলি পাস করা যাবেই, এমন কিছু নেই; তেমনি কম পড়লেই যে প্রিলি ফেল করবেনই, তেমন কিছু নেই।

০৩. সামনের ১০ দিনে গুনে গুনে অন্তত ১৬০ ঘণ্টা ঠিকভাবে পড়াশোনা করবেন, এর জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখুন। এটা করতে পারলে আগে কোনো কিছু না পড়লেও প্রিলি পাস করে যাবে।

০৪. ১০ দিনে বাসায় ৫০ সেট মডেল টেস্ট দেবেন।

০৫. ভালো একটা প্রিলি ডাইজেস্ট আর বিভিন্ন প্রিলি স্পেশাল সংখ্যা সমাধান করুন। প্রিলির প্রশ্নব্যাংক আর দুটি জব সল্যুশন রিভিশন দিন।

০৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হবেন না। এই ১০ দিন মোবাইল ফোন, টিভি, ফেসবুক, ইমো, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকলে আপনার জীবন বৃথা হয়ে যাবে না।

০৭. সংবিধান, রাজধানী ও মুদ্রা, শাখানদী ও উপনদী, প্রকৃতি ও প্রত্যয়সহ কিছু ঝামেলাযুক্ত টপিক আছে, যেগুলো মনে রাখতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, অথচ মার্কস পাওয়া যায় ১-২। কী দরকার? সময়টা অন্য দিকে দিন, বেশি মার্কস আসবে।

০৮. সব ধরনের রেফারেন্স বই থেকে ১০০ হাত দূরে

থাকুন। অত সময় নেই।

০৯. বেশি বেশি প্রশ্ন পড়ুন, আলোচনা অংশটা কম পড়বেন।

১০. এই ১০ দিনে পেপার পড়ার আর খবর শোনার কোনো দরকার নেই।

১১. মানসিক দক্ষতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন—এ দুটি বিষয়ের কনফিউজিং প্রশ্নের উত্তর করবেন না। সাধারণ জ্ঞান থেকে অনেক উত্তর পেয়ে যাবেন।

১২. যা কিছু বারবার পড়লেও মনে থাকে না, তা কিছু পড়ার দরকার নেই।

১৩. কে কী পড়ছে, সে খবর নেওয়ার দরকার নেই।

১৪. বিজ্ঞানটা শুধু প্রিলির প্রশ্নব্যাংক আর জব সল্যুশন থেকে পড়ুন।

১৫. পাটিগণিত বাদে গাণিতিক যুক্তির বাকিগুলো প্র্যাকটিস করুন।

১৬. বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের জন্য শুধু সরকারি চাকরির প্রশ্নগুলো পড়ুন।

১৭. বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ আগে যা পড়েছেন, শুধু

সেইটুকুই আরও একবার পড়ে নিন।

১৮. গত ৫ মাসের সাধারণ জ্ঞানের তথ্যগুলো কোনো একটি গাইড/বই থেকে এক নজর দেখে নিন।

১৯. ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মাধ্যমিকের

সামাজিক বিজ্ঞান বইটি থেকে দেখতে পারেন।

২০. যে প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেক দিন ধরেই পাচ্ছেন না,

সেগুলো নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিন।

২২. পুরোপুরিই মোবাইল ফোন আর ফেসবুক মুক্ত সময়

কাটান।

২৩. পরদিনের জন্য পরীক্ষার হলের প্রয়োজনীয়

জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন।

২৪. রাতে হালকা খাবার খেয়ে ১০টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ুন।

প্রিলির আগের রাতে ভালো ঘুম না হলে যতই প্রস্তুতি থাক না

কেন, পরীক্ষা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমাবেন।

২৫. পরীক্ষার দিন সকালে উঠে ১৫ মিনিট প্রার্থনা করুন। এরপর ফ্রেশ হয়ে হালকা নাশতা করে হাতে ‘সময় নিয়ে’ (কোনোভাবেই ‘বইপত্র নিয়ে’ নয়) হলের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ুন। বের হওয়ার আগে আরও একবার দেখে নিন, প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়েছেন কি না।

২৬. পরীক্ষার হলে যে ভাবনাটা সবচেয়ে বেশি ম্যাজিকের মতো কাজ করে, সেটি হলো ‘আই অ্যাম দ্য বেস্ট’ ভাবনা। আপনার চেয়ে ভালো পরীক্ষা কেউই দিচ্ছে না, এটা বিশ্বাস করে পরীক্ষা দিন।

২৭. উত্তরপত্রে সেট কোডসহ অন্যান্য তথ্য ঠিকভাবে পূরণ করুন। এটা ভুল হলে সব শেষ।

২৮. সব প্রশ্নই উত্তর করার জন্য নয়। লোভে পাপ, পাপে নেগেটিভ মার্কস।

২৯. বুদ্ধিশুদ্ধি করে কিছু প্রশ্ন ছেড়ে না এসে উত্তর করতে হয়। এ রকম ৬টা প্রশ্ন ছেড়ে শূন্য পাওয়ার চেয়ে অর্ধেক ঠিক করে ১ দশমিক ৫ পাওয়া ভালো।

৩০. সাধারণত যেকোনো বিষয় নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবার সময় আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। প্রথম দেখায় যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পারেন না মনে হবে, সেগুলো মার্ক করে পরেরটায় চলে যাবেন। সময় নষ্ট করার সময় নেই।

৩১. প্রশ্ন ভুল কি ঠিক, সেটা নিয়ে মাথা খারাপ করবেন না।

৩২. বৃত্ত ভরাট করতে করতে ক্লান্ত? একটু ব্রেক নিন। চাকরিটা পেয়ে গেলে আপনার জীবনটা কীভাবে বদলে যাবে, কাছের মানুষগুলোর হাসিখুশি মুখ একবার কল্পনায় আনুন; ক্লান্তি কেটে যাবে।

৩৩. কয়টা দাগালে পাস, এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি যেগুলো পারেন, সেগুলোর উত্তর করবেন। এরপর যেগুলো একেবারেই পারেন না, সেগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলোর ৬০ শতাংশ উত্তর করবেন।

৩৪. কোনো প্রশ্নেই বেশি গুরুত্ব দেবেন না। সব প্রশ্নেই ১ নম্বর।

৩৫. আপনার আশপাশে কে কয়টা দাগাচ্ছে, কোনটি দাগাচ্ছে, সেদিকে তাকাবেন না। এতে আপনি বেশ কিছু জানা প্রশ্ন ভুল

দাগাতে পারেন।

৩৬.পরিচয় দেওয়ার মতো একটা চাকরি সবারই হোক। সিভিল সার্ভিসে আপনাদের স্বাগত জানাই।


আরো সংবাদ