২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঢাবিতে ছাত্রলীগের হেনস্থার শিকার শিক্ষকরা

কোটা
আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা - ছবি : নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ পূর্ববর্তী সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সমাবেশে অংশ নেয়া শিক্ষকরাও হেনস্থার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘বিক্ষোভ মিছিল : সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটককৃত ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ক্যাম্পাসে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি’তে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিলেন শিক্ষক ও ছাত্ররা। তবে সকাল ১১টায় তারা ঘটনাস্থলে আসার আগেই সেখানে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। তারা শহীদ মিনারের বেদির সামনে শিক্ষক ও ছাত্রদের মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

এ সময় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। শিক্ষকদের গালাগালি ও মাইক বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। পরে হেনস্তার শিকার হয়ে শিক্ষকরা শহীদ মিনারের সামনে থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। সেখান থেকে সরে মিছিল বের করেন।

শিক্ষক ও ছাত্ররা মিছিল বের করলে সেখানেও হামলা হয়। শিক্ষকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করে ছাত্রলীগ। তারা ছাত্রীদের মারধর করে। ধাওয়া ও ধাক্কা দিয়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

 

আরো পড়ুন :

ঢাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ৩০ জুন ২০১৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ অন্তত ৬ জন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আজ শনিবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এ সময় তাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে দায়ী করা হচ্ছে।

অন্য আহতরা হলেন, সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, আতাউল্লাহ, সাদ্দাম, মাসুদ ও আব্দুল্লাহ।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে বাধা এবং ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল থেকে সকল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং সারাদেশে বিক্ষোভ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

কোটা বাতিল বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রায় তিন মাস পার হলেও প্রজ্ঞাপন জারির কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

আরো পড়ুন :

কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পাল্টাবে না : সংসদে প্রধানমন্ত্রী
সংসদ প্রতিবেদক, ২৮ জুন ২০১৮
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পাল্টাবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা একটি পদ্ধতি চট করে বাতিল করা যায় না। কিভাবে এটা করা যায়, তা নির্ধারণে কাজ চলছে। গতকাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখার সময় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও কোটার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে দ্রুত সমাধান দেয়ার তাগাদা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত মনে করছেন না জানিয়ে বলেন, তারপরও যেহেতু যাদের জন্য কোটা তারাই যখন চাইছে না, তাই তিনি তা বাতিল করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটা কমিটি করে দিয়েছি। যেন এটা বাস্তবায়ন করা যায়।’
বিদেশে উচ্চ শিার বিপুল পরিমাণ খরচের কথা শিার্থীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বে সবচেয়ে কম খরচে পড়া যায়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অর্থাভাবে অক্সফোর্ডে সুযোগ পেয়েও পড়তে পারেননি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জানান, তার নিজের সন্তানরাও বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়েও পড়াশোনা বিঘিœত হয়েছে। কারণ তিনি টাকা দিতে পারেননি।

‘আমাদের দেশে যারা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে থাকে, তাদের সিট ভাড়া কত, তাদের খাবারের টাকা কত, তাদের পড়াশোনার ফিস কত। বলতে গেলে একেবারে বিনা পয়সায় পড়াই।’

‘তারা যদি রাস্তায় নামে, ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করে, লুটপাট করে, এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই। সেই জন্য কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়ে দিয়েছি।’

দেশের অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায় সে আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হয়েছে। আমরা এখন ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দণি কোরিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে এসেছি। তাই দেশবাসীর প্রতি আহ্বান আমাদের অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরে। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিতে সম হয়েছি। আমাদের উন্নয়ন বাজেট এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আমরা এখন উন্নয়ন কাজের ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে সম হচ্ছি। এর ফলে দেশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আগে অর্থাৎ বিএনপির শাসনামল এবং জেনারেল এরশাদের আমলে বাজেট বাস্তবায়ন করতে বিদেশীদের কাছে হাত পাততে হতো। আর এখন বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয়ের ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ বছর চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আমরা বিগত ৩ অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সম হয়েছি। এটা কিন্তু কম কথা নয়।

বাজেট বাস্তবায়নের পেছনে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের অবদান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মেহনতি মানুষ, কৃষক শ্রমিক, প্রবাসীরা অবদান রাখছে বলেই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমরা একটা পরিবার হিসেবে কাজ করছি। বিরোধী দল আমাদের সব সময় সহযোগিতা করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখব। মাদক এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে এটা রোধ করতে হবে। যে যাই বলুক আমরা যে পদপে নিয়েছি তা অব্যাহত থাকবে। কে কী বলল তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme