১৫ নভেম্বর ২০১৮
সাংবাদিককে ছাত্রলীগের মারধরের এক বছর

শাস্তির দাবিতে রাবি সাংবাদিকদের মানববন্ধন

 সাংবাদিক আরাফাতের মারধরে আসামীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন । ছবি - নয়া দিগন্ত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে এক বছর আগে মারধরের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি আরাফাত রহমান। মারধরের ঘটনার পরদিনই গত বছর ১১ জুলাই জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আহত সাংবাদিক আরাফাত বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মারধরের এক বছর পেরোলেও হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে হতাশা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা। মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ও আসামীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আলী ইউনুস হৃদয়ের সঞ্চালনায় ও সভাপতি শিহাবুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, একবছর আগে আরাফাতের উপর যে ছাত্রলীগ নেতারা হামলা করেছিল তাদের শাস্তি না হওয়ার সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ওই ছাত্রলীগ নেতারা আবার হামলা করেছে। এভাবে বার বার হামলার ঘটনা ঘটালেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা দুঃখজনক।

এসময় বক্তব্য রাখেন রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম তুষার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক সোহাগ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মানিক রাইহান বাপ্পী, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাক হোসাইন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জাহিদ, সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি রাশেদ রিন্টু প্রমুখ।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রায়হান বলেন, ভ্ক্তুভোগীর চিকিৎসা প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পরে আরাফাত রাহমানের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। আমার জানা মতে এটা গত প্রক্টরের সময়ের ঘটনা। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
দায়িত্ব হস্তান্তর হলে নতুন করে আবেদন দিতে হয় কিনা এমন প্রশ্নে প্রক্টর বলেন, পূর্বের অভিযোগের কাগজ কে কোথায় রাখছে আমি জানি না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দেশ ট্রাভেলসের বাস ভাঙচুরের ছবি তোলায় আরাফাতের ওপর হামলা হয়। পরের দিন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আহমেদ সজীব, আইনবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কানন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান লাবনসহ উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ জনের নামে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।
হামলার ওই দিন রাতেই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বিজয় ও মাহমুদুর রহমান কাননকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
পরে ওই বছর নভেম্বরে ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কাননের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়েরও বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
জানতে চাইলে মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ভ্ক্তুভোগীর চিকিৎসা প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।


আরো সংবাদ