১৪ নভেম্বর ২০১৮
কোটা সংস্কার আন্দোলন

গ্রেফতারকৃত‌দের মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন

কোটা
গ্রেফতারকৃত‌দের মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন - ছবি : নয়া দিগন্ত

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মাদ রাশেদ খাঁনসহ অন্যদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মানববন্ধন করে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে প্রায় দুইশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রাশেদ এ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সংবলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করে। তাতে লেখা- ‘চাইতে গিয়ে অধিকার সইব সব অত্যাচার’, ‘চারিদিকে রব উঠাও আমার ভাইদের মুক্তি দাও’, ‘আর নয় অনাচার এবার চাই অধিকার’, ‘মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর’, ‘রাশেদ ছাড়া ক্লাসে ফিরব না’ ইত্যাদি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল রাশেদ খাঁন। কিন্তু সরকার তাদের এ যৌক্তিক আন্দোলনকে ব্যাহত করে দেয়। সরকার দলীয় সংগঠন (ছাত্রলীগ) আন্দোলনকারীদের উপর নৃশংস হামলা চালায়। এ আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা রাশেদ খাঁনসহ অন্যদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের রিমান্ডে নেয়। আমরা রাশেদসহ গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানাই।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান রাফি বলেন, আমাদের বিভাগের বড় ভাই রাশেদ রিমান্ডে। তিনি যৌক্তিক আন্দোলনের নেতা ছিলেন। অথচ তাকে গ্রেফতার করে প্রশাসন রিমান্ডে নিয়েছে। আমরা এ অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাই। এছাড়া অন্যান্য আন্দোলনকারীদের উপর যে হামলা হয়েছে তার বিচার জানাই। একই সাথে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানাই।

রাফি আরো জানান, আমরা রাশেদ খাঁনের মুক্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার ক্লাস বর্জন করেছিলাম। আজ সকালেও ক্লাস বর্জন করেছি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন আন্দোলনকারীরা। হামলার প্রতিবাদে ২ জুলাই বিক্ষোভ মিছিল করতে এসেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আবার হামলার শিকার হন তারা। এ সময় ছাত্রী‌ নির্যাত‌নের অভি‌যোগ উঠে। এ নিয়ে দুইদিনে তাদের প্রায় ১৫ জনের মতো আহত হন। এছাড়া অনেকেই গ্রেফতার হন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব‌হিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। যদিও ছাত্রলীগ তা অস্বীকার করেছেন।

আরো পড়ুন :
যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে হাতুড়িপেটায় আহত তরিকুল
মুহা: আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো
ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্র তরিকুল ইসলামের ব্যথা আরো বেড়েছে। তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তার পুরো শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ও যন্ত্রণা। অন্যের সাহায্য ছাড়া একা কিছুই করতে পারছেন না। কয়েকজন মিলে ধরে তাকে সহযোগিতা করতে হচ্ছে। তরিকুল বর্তমানে রাজশাহী নগরীর রয়্যাল হাসপাতালের ৬০৩ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তরিকুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। তার বাড়ি গাইবান্ধা। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম (৬২)। তরিকুলরা দুই ভাই ও এক বোন। তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তরিকুল। গত সোমবার (২ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে রাস্তায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া হামলা ও হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত হন তিনি। তরিকুল কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ওই দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণে চাপাতি হাতে দেখা গেছে ছাত্রলীগ কর্মী লতিফুল কবির মানিককে। হাতুড়ি হাতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুনকে। বিভিন্ন ছবিতে বাঁশের লাঠি হাতে সবার সামনে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান মিশু। বিভিন্ন ছবিতে তরিকুলকে মারধরে তাদের আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। এরা ছাড়াও আক্রমণে মূল ভূমিকায় আরো অনেকে ছিলেন। পরে পুলিশ ও সাংবাদিক মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে।

তরিকুলের সর্বশেষ অবস্থা জানতে গতকাল যোগাযোগ করা হলে শয্যাপাশে থাকা তরিকুলের বোন ফাতেমা খাতুন নয়া দিগন্তকে বলেন, আগের দিন শুক্রবার তার (তরিকুল) ব্যথা সামান্য কমেছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু না, আজ (গতকাল শনিবার) তার ব্যথা আরো বেড়েছে। পুরো শরীরে প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তিনি। অন্যের সাহায্য ছাড়া একা কিছুই করতে পারছেন না।

আহত তরিকুল সাংবাদিকদের বলেন, অসহ্য ব্যথা। সহ্য করতে পারছি না। ব্যথার কারণে আমার পায়ের ‘প্লাস্টার’ খোলা হয়েছিল। প্লাস্টারটা যখন খোলা হয় তখন দেখি আমার পা এক দিকে হেলে পড়েছে। পায়ের অবস্থা আগের মতোই আছে। কোনো উন্নতি হয়নি।

তরিকুলের বোন ফাতেমা আরো বলেন, চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছে তরিকুলের বন্ধু, বড় ভাই ও সহপাঠীরা। এছাড়া যারা তাকে দেখতে আসছে তাদের মধ্যেও কেউ কেউ কিছু সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পারিবারিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তিন ভাইবোন সবাই পড়াশোনা করি। আমাদের পক্ষে এত টাকা ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তির পর এখানকার চিকিৎসক তরিকুলকে দেখে কিছু পরীক্ষা দিয়েছেন। সেগুলোর রিপোর্টও ইতোমধ্যে এসেছে। রিপোর্টগুলো চিকিৎসককে দেখানো হবে।

সহপাঠীরা জানান, তরিকুলের মেরুদণ্ডে এখনো প্রচণ্ড ব্যথা করছে। চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গিয়ে থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হবে।

তরিকুলের চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসক সাঈদ আহমেদ বাবু এর আগে জানান, তরিকুলের ভেঙে যাওয়া ডান পা জোড়া লাগতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তার এক্স-রেসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। এখন রিপোর্ট পেলে জানা যাবে হাসপাতালে তাকে কতদিন থাকতে হবে বা অস্ত্রোপচার করতে হবে কি না।

তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, তরিকুলের পায়ে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই সময় হাসপাতালে এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তরিকুলের ডান পা ভেঙে গেছে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। নয়টি সেলাই পড়েছে মাথায়। কিন্তু সরকারি বৃহৎ এই হাসপাতালটিতে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা নেয়ার সুযোগটুকুও তাকে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তরিকুলের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, এক প্রকার জোর করেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দেয়া হয়।

লোহার হাতুড়ি দিয়ে হাড় ভেঙে দেয়া তরিকুলকে রামেক হাসপাতাল থেকে জোর করে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম ও বোন ফাতেমা খাতুন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তরিকুলকে জোর করে ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


আরো সংবাদ