২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘মশিউরকে ফেরত না দেয়া পর্যন্ত ঢা‌বির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস বর্জন’

-

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর ক্লাসে ফেরত না দেয়া পর্যন্ত বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার পৌনে বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধন থেকে এই ঘোষণা দেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বিভাগের প্রায় দুই শতা‌ধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেন। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম, সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রুশদ ফরিদী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান। মানববন্ধনে মশিউরের বাবা ও ছোট বোন উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বলতে পারি, আমাদের কোনো ধরনের খবর না জানিয়ে, আমাদের ছাত্রদেরকে জেলহাজতে নিয়ে যাবে সেটা কাম্য না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি কর্তৃপক্ষকে বলব অনতিবিলম্বে মশিউরকে ফিরিয়ে দিতে। এই না করলে হয়তো বিভাগের শিক্ষা কার্যকম ব্যাহত হবে সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব পড়বে। আমরা চাই শান্তিতে বসবাস করতে।

সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে। সেই দাবিও যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরিস্থিতি না থাকে তাহলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে এট সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

তি‌নি ব‌লেন, আমি ভাবিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রকে মানববন্ধনে দাঁড়ানোর প্রতিবাদে তাকে নির্মমভাবে পেটানো হবে। অহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংসতা করে আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাবমূর্তি মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছেন।

মানববন্ধনে বিভাগের ছাত্রী তিথী বলেন, মশিউর আমাদের সহপাঠী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী। সে আমাদের সঙ্গে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস করব না।

এ সময় মশিউরের ছোট বোন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তার ভাইকে ফেরত দেয়ার জন্য বলেন।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী মশিউরকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গত ৩০ জুন সূর্যসেন হল থেকে তুলে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু পুলিশ প্রথমে সেটা অস্বীকার করে। পরে আবার তাকে আটক দেখায়।


আরো সংবাদ