১৭ আগস্ট ২০১৮

সেশনজট নিয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রীর বক্তব্য অযৌক্তিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা  -

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশনজট নেই জনপ্রশাসনমন্ত্রীর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্য অযৌক্তিক এবং একই সাথে আবেগ নির্ভর বলে মন্তব্য করেছে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবি জানান তারা।

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সেশন জট নেই আর ঢাকা শহরে যানজট নেই কথাটি একই সূত্রে গাঁথা। তবে ঢাকা শহরে কিছু ভিআইপি রোড আছে যেগুলো যানজট মুক্ত। তেমনি বাংলাদেশে কিছু ভিআইপি বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেগুলো সেশনজট মুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজের দীর্ঘ সেশনজট রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ২-৩ বছর সেশনজট ছিল। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বিভাগে সাত বছরেও অনার্স কোর্স শেষ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলী বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেছেন ‘বর্তমানে কোনো সেশনজট নেই।’ পূর্বে যাদের ৩-৪ বছরের সেশনজট ছিল তাদের জন্য উনি কী করবেন? আমরা জানতে চাই আমাদের এই ক্ষতিপূরণ কে দিবে?

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঈদের আগে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে ঈদের পর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচীর মধ্যে আগামী ২৯ জুন ৩০-এর শিকল নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি; ৩০ জুন রক্তদান কর্মসূচি এবং ৭ জুলাই সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে লাগাতর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ছাত্র পরিষদের সভাপতি রাজু ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম, ইডেন কলেজের ছাত্রী সুরাইয়া ইয়াসমিন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের দাবির বিষয়টি নাকচ করে দেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ হতে বৃদ্ধি করে ৩৫ বছর করার কোনো উদ্যোগ আপাতত সরকারের নেই।

 


আরো সংবাদ