২০ মার্চ ২০১৯

একাদশে ভর্তির আবেদন করেনি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী

একাদশে ভর্তির আবেদন করেনি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী - সংগৃহীত

আগামী ১০ জুন প্রথম পর্যায়ে একাদশে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ১২ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন সম্পন্ন করেছেন এবং তাদের আবেদন গৃহীত হয়েছে বলে আন্তঃবোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি সূত্রে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৮৬ হাজার এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করেননি। তবে তাদের এখনো আবেদনের সুযোগ রয়েছে বলে আন্তঃবোর্ড সূত্রে বলা হয়েছে। আগামী ৫ ও ৬ জুন তারাসহ ৩০ জুন পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তারা আবেদন করতে পারবে। এ সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া একাদশ শ্রেণীতে তারা কোনো কলেজেই ভর্তির সুযোগ পাবে না। এই বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১০ বোর্ডের অধীনে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন।

আন্তঃবোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মু জিয়াউল হক গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় জানান, ১০ জুন প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। তাদের নিশ্চয়নের পর ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে ২৭ জুন থেকে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তিনি জানান, ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ এখনো যারা আবেদন করেনি, তাদের আবেদন করতে হবে ৫ ও ৬ জুনের মধ্যে। তিনি আরো জানান, বোর্ড নির্বাচিত কলেজ ছাড়া অন্য কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ নেই।

এ দিকে, ভর্তি নীতিমালার নির্দেশনা অনুসারে একজন আবেদনকারী অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে ভর্তি আবেদন করার সুযোগ আছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে আবেদনকারীর সংখ্যাই বেশি। আট লাখের মতো। আর এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করেছে চার লাখের বেশি। অনলাইনে একজন শিার্থী পাঁচটি পর্যন্ত কলেজে আবেদন করেছেন। আন্তঃশিা বোর্ড সূত্র জানায়, বেশি আবেদনের সুযোগ থাকলেও শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর কমসংখ্যক কলেজ বেছে নেয়। এতে দেখা যায়, অনেককেই প্রথম পর্যায়ে কলেজ নির্বাচন করে দেয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ মেধাবীদের পছন্দ প্রায় একই। অথচ নামীদামি কলেজে আসন খুবই কম। তাই ১০ কলেজে আবেদন করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছিল; কিন্তু শিার্থীরা গড়ে পাঁচ কলেজে আবেদন করেছে। ফলে প্রথম পর্যায়েই সবার পছন্দ সই কলেজ নির্বাচিত করা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

ভর্তি নীতিমালার নির্দেশনা অনুসারে গত ৬ মে এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে পছন্দের কলেজ থেকে একটি কলেজ ঠিক করে দেবে সংশ্লিষ্ট শিাবোর্ড। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ভর্তির ব্যাপারে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। তবে, ভর্তি নীতিমালা অনুসরণে বোর্ডের নির্দেশনা মতো সব কলেজ একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করলেও দেশসেরা নটর ডেম, সেন্ট জোসেফ এবং হলিক্রস কলেজ হাইকোর্টের নির্দেশনা নিয়ে অনলাইনে না করে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই এসব কলেজে ভর্তি হতে পারবে। অনলাইনে আবেদনকারীদের অনেকেই এই তিন কলেজেও আবেদন করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তারা এখানে সুযোগ পেলে বোর্ড নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হবে না।

আগামী ২৫ থেকে ২৭ মের মধ্যে শিার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়ার ফল প্রকাশের ব্যাপারে বলা হয়, প্রথম তালিকায় থাকা শিার্থীদের ১১ থেকে ১৮ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন (যে কলেজের তালিকায় নাম আসবে ওই কলেজেই যে শিার্থী ভর্তি হবেন তা এসএমএসের মাধ্যমে নিশ্চিত করা) করতে হবে। ২১ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ে এবং ২৫ জুন তৃতীয় পর্যায়ের ফল প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তালিকায় থাকা শিার্থীরা ২২ ও ২৩ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন এবং তৃতীয় পর্যায়ে তালিকায় থাকা শিার্থীদের ২৬ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। একাদশ শ্রেণীর কাস শুরু হবে ১ জুলাই থেকে।

আন্তঃবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারে ভর্তির আবেদন থেকে শিা বোর্ডগুলোর আয় হয়েছে ১৮ কোটি টাকার বেশি। আর নির্বাচিত হওয়ার পর কলেজ নিশ্চয়ন বাবদ শিার্থী প্রতি আরো ১৮৫ টাকা করে ফি দিতে হবে। এতে বোর্ডগুলোর আরো আয় হবে প্রায় ২৪ কোটি টাকা। ফলে ভর্তি ও নিশ্চয়ন থেকেই আয় হবে ৪৫ কোটি টাকার বেশি। ভর্তি আবেদন থেকে বোর্ডগুলোর মোটা অঙ্কের টাকা আয় হলেও বেশির ভাগ টাকা কলেজ কর্তৃপকেই ফিরিয়ে দেয়া হয় জানিয়ে আন্তঃবোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তার জন্য আবেদন ফির ১০ শতাংশ নিয়ে যাবে বুয়েট কর্তৃপ। বোর্ডগুলো নেবে ৫ শতাংশ, টেলিটক নেবে ৫ শতাংশ। অবশিষ্ট অংশ দেয়া হবে কলেজগুলোকে তাদের শিক্ষার্থী আসন ভিত্তিতে।

এবার একাদশ শ্রেণীতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করবে কলেজগুলো। গত বছর ৮৯ ভাগ মেধার ভিত্তিতে এবং বাকি ১১ ভাগ কোটায় ভর্তি করা হয়। শিা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অগ্রাধিকার কোটায় আবেদনকারীকে অতিরিক্ত শিার্থী হিসেবে ভর্তি করা হবে। নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা তাদের সন্তানদের জন্য, ৩ শতাংশ বিভাগীয় ও জেলা সদরের বাইরের শিার্থীদের জন্য, ২ শতাংশ শিা মন্ত্রণালয়ের অধস্তন দফতর ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিাপ্রতিষ্ঠানের শিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের সন্তানদের জন্য, শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বিকেএসপির জন্য এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য সংরতি রয়েছে। শিা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে এ আসনগুলোর কার্যকারিতা থাকবে না। অর্থাৎ এসব কোটায় অন্য কাউকে ভর্তি করা যাবে না।

এবার আগের মতোই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি শিাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯ হাজার টাকা (বাংলা মাধ্যম) ও ১০ হাজার টাকা (ইংরেজি মাধ্যম) ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন ফি তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের েেত্র রসিদ প্রদান করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে দুই হাজার টাকা, ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না। ভর্তি নীতিমালা লঙ্ঘন করা হলে বেসরকারি শিাপ্রতিষ্ঠানের েেত্র পাঠদান অনুমতি বা এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের েেত্র বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ভর্তি নীতিমালায় সতর্ক করা হয়েছে।

 


আরো সংবাদ

সকল




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al