১৬ অক্টোবর ২০১৯
এখনো আসছে ক্ষতিকর বিষাক্ত পশুখাদ্য

সতর্ক নজর রাখা জরুরি

-

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করেছে দুই হাজার ৭১৭ টন আমদানি করা মাছ ও মুরগির খাবার। কারণ, এসব খাবারে রয়েছে এমবিএম (মিট অ্যান্ড বোন মিল)-এর মতো মারাত্মক খাবার উপাদান। এ ছাড়াও রয়েছে পশুর হাড় ও শূকরের নানা উপজাত, যা মানবদেহে ক্যান্সার পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারে।
অনেকের মনে আছে, গত বছর ডিসেম্বরে এ ধরনের বিষাক্ত পশুখাদ্য আমদানি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছিল। এর ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৬ ডিসেম্বর এই ক্ষতিকর বিষাক্ত পশুখাদ্য আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ ধরনের পশুখাদ্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ থাকলেও এসব খাবার অন্য দেশে রফতানি নিষিদ্ধ নয়। এশিয়ায় বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় দেশ, যেখানে এসব ক্ষতিকর পশুখাদ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভারত ২০০১ সালে এবং থাইল্যান্ড ২০১৭ সালে এই খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
ভিয়েতনাম, বেলজিয়াম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা এসব খাবার বাজেয়াপ্ত করা হয় গত জুলাই ও আগস্টে। আইসিডিডিআর,বি এবং পোলট্রি রিসার্চ ট্রেনিংয়ের পরিচালিত টেস্টের ওপর ভিত্তি করে এসব খাবার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই টেস্টগুলো সম্পন্ন করা হয় কাস্টম হাউজের কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে, চট্টগ্রামের বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে এবং পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে।
অভিযোগ রয়েছে, এই নিষিদ্ধ পশুখাদ্য আমদানির সাথে কিছু স্বার্থান্বেষী শুল্ক কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। এমনটি অভিযোগ করলেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের একজন অতিরিক্ত কমিশনার। অবশ্য তিনি দাবি করেন, কাস্টম কর্তৃপক্ষ জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে এই খাবার কেউ বিক্রি ও পরিবহন করতে না পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, যেসব শুল্ক কর্মকর্তা এই নিষিদ্ধ আমদানির সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না? আমরা মনে করি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা দরকার। নইলে এ ধরনের নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি কিছুতেই থামানো যাবে না।
শুল্ক সম্পর্কিত দলিল মতে, ১২টি প্রতিষ্ঠান এ আমদানির সাথে জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ বলছেন, তারা জানতেন না যে, এ খাবারে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। কিন্তু তাদের দায়িত্ব ছিল এসব পশুখাদ্যের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তারপর আমদানি করা। তাই তাদের এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই এসব প্রতিষ্ঠান তাদের দায় এড়াতে পারে না।
আমরা মনে করি, আমদানির ব্যাপারে শুল্ক কর্তৃপক্ষের আরো কড়া নজরদারি দরকার। নইলে কখনোই নিষিদ্ধ ক্ষতিকর পণ্য আমদানি বন্ধ হবে না। সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে হবে, যাতে কোনো ক্ষতিকর বিষাক্ত পণ্য বাংলাদেশে আমদানি হতে না পারে।

 


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum