১৭ অক্টোবর ২০১৯
বেদখল হয়ে যাচ্ছে বনভূমি

প্রশাসনের খবর নেই কেন?

-

অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের মতো দেশের বনভূমি সংরক্ষণ করতে পারছে না সরকার। বিপুল বনভূমি দখল হয়ে গেছে, এমনকি বেদখলের কথা জানেও না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়Ñ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশের দুই লাখ ৭৯ হাজার ৯৬ একর বনভূমি। বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের যে নেতিবাচক প্রভাব, তার ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষতি মোকাবেলায় বনভূমি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় দেশের আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি দরকার। অথচ আমাদের রয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ। এ অপ্রতুল বনভূমিকে আমরা দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারছি না। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে আরো বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এর আগের আরেকটি প্রতিবেদনে জানা যায়, মাত্র দুই বছর চার মাসে ১১ হাজার একর বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তিন লাখ ৭৮ একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। এটি বাংলাদেশের মোট বনভূমির প্রায় ৮ শতাংশ। তাদের হিসাবে, কেবল ২০১৭ সালেই ৭০ হাজার একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। গত পাঁচ বছরে উজাড় হয়েছে দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৩ একর বনভূমি। সরকারি হিসাবে দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ৬৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫৯ দশমিক ১৭ একর। এ হিসাব ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের। ওই সময় পর্যন্ত বেদখলে থাকা বনভূমির পরিমাণ দুই লাখ ৬৮ হাজার ২৬৫ একর। বিভিন্ন সংস্থাকে বরাদ্দ দেয়া বনভূমির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫৮ হাজার ৩১ দশমিক ৬১ একর। এসব পরিসংখ্যান এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বনখেকোদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
দুর্ভাগ্য হচ্ছে, বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগ, তথা প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না। এর ফলে নতুন করে বনভূমি দখলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খবর পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়ার। কিন্তু যারা এটাকে রক্ষা করবেন, হিসাব-নিকাশ করবেন, তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো খবর নেই। সংসদীয় কমিটির ওই বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী নিজের এলাকার বনভূমি বেহাত হয়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তার এলাকার বনভূমি উজাড় হয়েছে। বাস্তবে সারা দেশে চলছে বনভূমি দখলের উৎসব। এর সাথে প্রভাবশালী বিভিন্ন গোষ্ঠী জড়িত। কিছু জমি বরাদ্দ নিয়ে তারা দখল করছে তার কয়েক গুণ বেশি।
বনভূমি উজাড় ও গাছপালা ধ্বংসের মাধ্যমে উষ্ণতা বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে। সরকারের সতর্কতা না থাকায় বনভূমি হয়ে উঠছে তাই পরিবেশ দূষণের উপলক্ষ। এ অবস্থার পরিবর্তনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। যতটুকু বনভূমি রয়েছে, সেটুকুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব পালন জোরদার করতে হবে। তারা দায়িত্ব পালন করলে এভাবে বনভূমি উজাড় হতে পারে না। এরপর অবশ্যই নজর দিতে হবে বেহাত হয়ে যাওয়া বনভূমি উদ্ধারের দিকে। বনভূমি উজাড় ও ধ্বংসের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন নতুন বন সৃষ্টির বিভিন্ন প্রকল্প।

 


আরো সংবাদ

ট্রাম্পের 'অতুলনীয় জ্ঞানের' সিদ্ধান্তে বদলে গেল সিরিয়া যুদ্ধের চিত্র (৩২১৮৮)ভারতের সাথে তোষামোদির সম্পর্ক চাচ্ছে না বিএনপি (১৮৪৫৫)মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা (১৪৯৪৬)তুরস্ককে নিজ ভূখণ্ডের জন্য লড়াই করতে দিন : ট্রাম্প (১৪৭০৩)আবরারকে টর্চার সেলে ডেকে নিয়েছিল নাজমুস সাদাত : নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা (১৩৮১৫)পাকিস্তানকে পানি দেব না : মোদি (১১২৭৪)১১৭ দেশের মধ্যে ১০২ : ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত (৮৯৭০)তুহিনকে বাবার কোলে পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে : পুলিশ (৮৮৮৫)বাঁচার লড়াই করছে ভারতে জীবন্ত কবর দেয়া মেয়ে শিশুটি (৮৬৮৭)এক ভাই মেডিকেলে আরেক ভাই ঢাবিতে (৮৫২৩)



astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa