১৭ অক্টোবর ২০১৯
নদীতীর সংরক্ষণ

নিয়ন্ত্রণহীন প্রকল্প ব্যয়

-

দেশের প্রধান তিনটি নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ছাড়াও ছোট-বড় নদ-নদীর সংখ্যা তিন শ’র মতো। এসব নদীর তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ হাজার ১৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে কমপক্ষে ১২ হাজার কিলোমিটার ভাঙনপ্রবণ। বর্ষা মওসুমজুড়ে দেখা দেয় তীব্র ভাঙন। দেশে ৮৫টি শহর ও বন্দরসহ ২৮৩টি স্থান প্রতি বছর তীব্র ভাঙনের শিকার। এ দিকে ফি-বছর নদীতে বিলীন হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার একর জমি। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ সেন্টারের এক জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫১টির নদীতে বিলীন হয়েছে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ২৭০ একর জমি। নদীভাঙনের কারণে উদ্বাস্তু, গৃহহীন ও ভাসমান মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর দুই লাখ ৫০ হাজার করে বাড়ছে।
ভাঙন রোধে দেশের নদ-নদীগুলো ‘শাসন’ এবং তীর সংরক্ষণে সরকারের তরফ থেকে প্রতি বছর নেয়া হয় বহু প্রকল্প। বরাদ্দ দেয়া হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এ বিপুল অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি চোখে পড়ার মতো। একেক জায়গায় একেক রকম ব্যয় হচ্ছে। এমনকি একই নদীর বিভিন্ন স্থানের প্রকল্প ব্যয় আলাদা দেখানো হচ্ছে। সমীক্ষা ছাড়াই এসব প্রকল্পে ব্যয় প্রাক্কলন করা হচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয়, নদীর তীর সংরক্ষণের কাজে চেইনেজ, স্থাপন, নকশা এবং এ কাজে ব্যবহৃত মালামালের বিস্তারিত বিবরণ প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় না। এসব খাতের ব্যয় গ্রহণীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা হচ্ছে কি না তা প্রশ্নসাপেক্ষই থেকে যাচ্ছে।
নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের নদীগুলোর মতো এগুলোর তীর সংরক্ষণ খরচেও নিয়ন্ত্রণ আনা যাচ্ছে না। কাজের মালামাল একই হওয়া সত্ত্বেও একই নদীতীর সংরক্ষণ ও রক্ষা ব্যয়ে আকাশ-পাতাল তফাত। প্রতি কিলোমিটারে নদীতীর রক্ষা বা সংরক্ষণ ব্যয়ের ব্যবধান ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। কোনোটাতে ব্যয় কিলোমিটারে ১২ কোটি টাকা; আবার কোনোটায় ৭১ কোটি টাকারও বেশি। তীর সংরক্ষণ ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হলেও পরিকল্পনা কমিশন এসব ব্যয়ের ব্যাপারে রাশ টেনে ধরতে পারছে না। তদুপরি, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) থেকে দেয়া পরামর্শ ও সুপারিশ মন্ত্রণালয়গুলো আমলে নিচ্ছে না। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সরকারি নির্দেশনা না মেনেই প্রস্তাব তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে খরচে দেখা দিচ্ছে বড় ধরনের তফাত। ফলে নদী খনন, তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে বছরের ব্যবধানে কিলোমিটার-প্রতি খরচ ১০-১২ কোটি টাকার বেশি করে বাড়ছে। চলমান প্রকল্পে এ ব্যয় প্রতি কিলোমিটারে ৪৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং সমাপ্ত প্রকল্পে ৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
আমরা মনে করি, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। নদীভাঙনে প্রতি বছর উদ্বান্তু লোকের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকারের কোটি কোটি টাকাও ‘মিশে যাচ্ছে নদীর ঘোলা পানিতে’। কিন্তু গৃহীত প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই সমীক্ষা ছাড়া কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া কতটুকু ন্যায়সঙ্গত, তা ভেবে দেখতে হবে। কারণ, এতে শুধু অর্থের অপচয় ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

 


আরো সংবাদ

ট্রাম্পের 'অতুলনীয় জ্ঞানের' সিদ্ধান্তে বদলে গেল সিরিয়া যুদ্ধের চিত্র (৩২১৮৮)ভারতের সাথে তোষামোদির সম্পর্ক চাচ্ছে না বিএনপি (১৮৪৫৫)মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা (১৪৯৪৬)তুরস্ককে নিজ ভূখণ্ডের জন্য লড়াই করতে দিন : ট্রাম্প (১৪৭০৩)আবরারকে টর্চার সেলে ডেকে নিয়েছিল নাজমুস সাদাত : নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা (১৩৮১৫)পাকিস্তানকে পানি দেব না : মোদি (১১২৭৪)১১৭ দেশের মধ্যে ১০২ : ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত (৮৯৭০)তুহিনকে বাবার কোলে পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে : পুলিশ (৮৮৮৫)বাঁচার লড়াই করছে ভারতে জীবন্ত কবর দেয়া মেয়ে শিশুটি (৮৬৮৭)এক ভাই মেডিকেলে আরেক ভাই ঢাবিতে (৮৫২৩)



astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa