১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
বিআরটিসির কোটি কোটি টাকা লোপাট

শাস্তির আওতায় আনা দরকার

-

মোটা দাগে বলা যায়, বর্তমান সরকারের নানামাত্রিক ব্যর্থতার মধ্যে অন্যতম একটি ব্যর্থতা হচ্ছে দুর্নীতি ঠেকানোয় ব্যর্থতা। মাঝে মধ্যেই অভিযোগ উচ্চারিত হচ্ছেÑ ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে এবং যারা এর জন্য দায়ী তাদের শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না; বরং এর বদলে অভিযুক্তরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং অনেক চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ফলে দেশে সময়ের সাথে দুর্নীতি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর জাতিকে গচ্চা দিতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। গতকাল নয়া দিগন্ত একটি দুর্নীতির খবরের কথা জানিয়েছে।
নয়া দিগন্তে ‘ট্রিপ কম দেখিয়ে বিআরটিসির কোটি কোটি টাকা লোপাট’ শীর্ষক খবরে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত রুটে চলাচলকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পাঁচ মাসে এক কোটি ২৯ হাজার টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-খুলনা-কলকাতা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা ও ঢাকা-শিলং আন্তর্জাতিক রুটে বিআরটিসির সরাসরি বাস ট্রিপ কম দেখিয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। নয়া দিগন্তের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের বিআরটিসি ও পশ্চিমবঙ্গের ডব্লিউবিসি ও আগরতলার টিআরটিসি দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী বাস পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু অভিজ্ঞতা না থাকায় দীর্ঘ দিন বিআরটিসি শ্যামলী পরিবহনকে দিয়ে ঢাকা-কলকাতা বাস সেবা পরিচালনা করে আসছিল। এ জন্য প্রতি রাউন্ড ট্রিপ বাবদ বিআরটিসিকে শ্যামলী পরিবহন ৩১ হাজার ৫০০ টাকা দিত। প্রটোকল অনুযায়ী, মাসে ২৬ রাউন্ড ট্রিপের নিয়ম রয়েছে। এ হিসাবে শ্যামলী পরিবহন বিআরটিসিকে মাসে আট লাখ ৯২ হাজার টাকা পরিশোধ করত। পাঁচ মাসে বিআরটিসিকে শ্যামলী পরিবহন ৪০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২২ মে থেকে ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে সরাসরি কলকাতা বাস সার্ভিস পরিচালনা শুরু করে গ্রিন লাইন পরিবহন। প্রটোকল অনুযায়ী, ঢাকা-খুলনা-কলকাতা সরাসরি বাস সার্ভিস রুটে ১৩ রাউন্ড ট্রিপের নিয়ম আছে। গ্রিন লাইন প্রতি রাউন্ড ট্রিপের জন্য বিআরটিসিকে ৩১ হাজার টাকা দেয়ার কথা। মাসে দেয়ার কথা চার লাখ তিন হাজার টাকা। পাঁচ মাসে গ্রিন লাইন পরিশোধ করত ২০ লাখ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু এ বছর জানুয়ারি থেকে ঢাকা-কলকাতা সরাসরি বাস সার্ভিস পরিচালনার জন্য এনআর ট্রাভেলস শ্যামলী পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতি রাউন্ড ট্রিপ বাবদ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা বিআরটিসিকে দেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও এনআর ট্রাভেলস শ্যামলী পরিবহনের মতিঝিল বাস ডিপো ম্যানেজারসহ কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে ঢাকা-কলকাতা ট্রিপ কম দেখিয়েছে। একইভাবে অন্যান্য রুটেও ট্রিপ কম দেখানো হয়েছে। ফলে বিআরটিসিকে গচ্চা দিতে হয়েছে বিপুল অর্থ।
আমরা মনে করি, এ দুর্নীতির সাথে জড়িতরা দীর্ঘ দিন ধরেই এ ধরনের অসৎ উপায় অবলম্বন করে সরকারের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। আমাদের আশঙ্কা, এদের সাথে জড়িত রয়েছে অনেক রাঘব বোয়াল, তাই এ ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো জরুরি হয়ে পড়েছে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ দায়িত্ব জাতির স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে পালন করবেন।

 


আরো সংবাদ

আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে জেলা জজ নিয়োগ দেয়া হবে : আইনমন্ত্রী ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপালের জামিন নাকচ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মৎস্যজীবী দলের মানববন্ধন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ অধিক সার ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর : কৃষি মন্ত্রী যথাযথ সেবা পেলে মানুষ কর দিতে উৎসাহিত হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্য পূরণই আমাদের অঙ্গীকার প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের আবেদন সাইটসের্ভাসের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আ’লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশ হাসপাতালে নবজাতক কন্যা ফেলে বাবা-মা উধাও ঢাবিতে ‘ইয়ুথ ইমপ্যাক্ট : আনলিশিং দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ’ শীর্ষক সেমিনার শুরু

সকল