১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ঢাবিতে সাত কলেজের অধিভুক্তি

অবিলম্বে সঙ্কটের অবসান চাই

-

রাজধানীর সাতটি বড় ও সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হিসেবে ঘোষণা দেয়ার প্রায় আড়াই বছর পরও এ নিয়ে উদ্ভূত সঙ্কটের সুরাহা হয়নি। বরং এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের সাথে ঢাবি শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্ব এবং পরস্পরবিরোধী দাবিতে আন্দোলনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফলও দীর্ঘ দিন প্রকাশ করা যাচ্ছে না। অপর দিকে, ঢাবির শিক্ষাকার্যক্রম বিঘিœত হওয়ার অভিযোগে এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা ওই সাতটি কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ দিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও দুঃসহ হতাশার দরুন কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহননের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে।
২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরীর সাতটি গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে এগুলো ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। এই সাতটি কলেজ হচ্ছে ঢাকা কলেজ, ইডেন গার্লস কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বদরুননেসা গার্লস কলেজ, বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ। তখন ঢাবির তদানীন্তন ভিসি স্বয়ং জানিয়েছিলেন, ‘এসব কলেজের ভর্তিপ্রক্রিয়া ও পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা ঢাবির কারিকুলাম অনুযায়ী লেখাপড়া করবে। এতে তাদের একাডেমিক কার্যক্রমের মান হবে উন্নত।’ তবে কার্যত দেখা যাচ্ছে, এই সাত কলেজের শিক্ষাকার্যক্রমে নিদারুণ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এগুলো ঢাবির অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার ঘোষণা শুনে এসব কলেজের আড়াই লাখ ছাত্রছাত্রী ছাড়াও তাদের অভিভাবকেরা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা নতুন আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কারণ নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার ফলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বরং উল্লিখিত কলেজ সাতটির শিক্ষার্থীরা তিন বছরের সেশনজটের কবলে পড়ে গিয়েছিল। অপর দিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত জনবলসহ উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এই সাত কলেজকে অধিভুক্ত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশের এই বৃহত্তম ও সর্বপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসন পরিচালনার জনবলের অভাব অত্যন্ত প্রকট। এ অবস্থায় আলোচ্য কলেজগুলোর পাশাপাশি খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ক্লাস করা ছাড়াই পরীক্ষা দিতে হয় বলে জানা যায়। ঢাবির ভুক্তভোগী ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, শিক্ষকসহ জনবল ঘাটতি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের যথাযথ পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সাতটি কলেজের অধিভুক্তির অতিরিক্ত কার্যক্রম ঢাবির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কলেজগুলোর ছাত্রছাত্রীরা অধিভুক্তি ‘বাতিল নয়’, ‘সংস্কার’ করার দাবি জানিয়েছেন।
আমরা আশা করি, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে ধ্বংস থেকে রক্ষার স্বার্থে এবং যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আলোচ্য সাতটি কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত হয়, এ জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


আরো সংবাদ

আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে জেলা জজ নিয়োগ দেয়া হবে : আইনমন্ত্রী ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপালের জামিন নাকচ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মৎস্যজীবী দলের মানববন্ধন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ অধিক সার ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর : কৃষি মন্ত্রী যথাযথ সেবা পেলে মানুষ কর দিতে উৎসাহিত হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্য পূরণই আমাদের অঙ্গীকার প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের আবেদন সাইটসের্ভাসের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আ’লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশ হাসপাতালে নবজাতক কন্যা ফেলে বাবা-মা উধাও ঢাবিতে ‘ইয়ুথ ইমপ্যাক্ট : আনলিশিং দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ’ শীর্ষক সেমিনার শুরু

সকল